নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বিব্রতকর এক রেকর্ড গড়ল ভারত। ডোপিং অপরাধে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষে উঠে এসেছে দেশটি। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ওয়াডা) ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র, যা ভারতের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) ৭ হাজারের বেশি রক্ত ও মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২৬০টি পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পারফরম্যান্স-বর্ধক উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে। আগের দুই বছরেও এই সংখ্যায় বিশ্বে সর্বোচ্চ ছিল ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের নাম, ফলে এবার ডোপিং অপরাধের তালিকায় ‘হ্যাটট্রিক’ হলো দেশটির।
এই পরিসংখ্যান ভারতের জন্য আরও বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটি ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩৬ কিংবা ২০৪০ অলিম্পিক আয়োজনের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও রয়েছে। ডোপিং ইস্যুতে বারবার শীর্ষে থাকা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
খেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডোপিং পজিটিভ কেসের শীর্ষে রয়েছে অ্যাথলেটিক্স। ২০২৪ সালে এই ডিসিপ্লিনে ৭৬টি পজিটিভ কেস ধরা পড়ে। এরপর রয়েছে ভারোত্তোলন (৪৩টি) ও কুস্তি (২৯টি)। ডোপিং বিতর্কে আলোচনায় আসে অনূর্ধ্ব-২৩ কুস্তির চ্যাম্পিয়ন ও প্যারিস অলিম্পিকের কোয়ার্টার-ফাইনালিস্ট রীতিকা হুডার নামও। গত জুলাইয়ে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
ডোপিংয়ের প্রভাব ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনেও স্পষ্ট। চলতি মাসের শুরুতে ভারতের ইউনিভার্সিটি গেমসে অ্যান্টি-ডোপিং কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একাধিক অ্যাথলেট প্রতিযোগিতা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এমনকি কিছু ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ইভেন্টে মাত্র একজন করে অ্যাথলেট অংশ নিতে বাধ্য হন, যা দেশটির ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য রীতিমতো উদ্বেগজনক বার্তা দেয়।
১.৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ ভারত ২০২২ ও ২০২৩ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডোপিং অপরাধী দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল। ২০২৪ সালে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স (৯১টি কেস), তৃতীয় স্থানে ইতালি (৮৫)। এরপর যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র (৭৬টি করে), জার্মানি (৫৪) ও চীন (৪৩)।
ওয়াডার প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে ভারতের নাডা। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের অ্যান্টি-ডোপিং কাঠামো আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা ও শিক্ষা কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন কিছু মাস আগেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ভারতে পারফরম্যান্স-বর্ধক ওষুধের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটিকে সতর্কও করে আইওসি। এরই ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন নতুন অ্যান্টি-ডোপিং প্যানেল গঠন করে এবং সরকার পাস করে নতুন জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং আইন।
তবুও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। কাগজে-কলমে পদক্ষেপ যতই নেওয়া হোক, মাঠের বাস্তবতায় ডোপিং নামের ব্যাধি থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গন।
