নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
মাশরাফি বিন মর্তুজা।নড়াইলের ছোট শহর থেকে উঠে এসে যিনি হয়ে উঠেছেন গোটা জাতির অনুপ্রেরণা, সেই মানুষটির আজ জন্মদিন। ক্রিকেট মাঠে তিনি ছিলেন অদম্য যোদ্ধা, মাঠের বাইরে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দূত। ২০০১ সালে অভিষেকের পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় দেড় যুগ ধরে মাশরাফি কেবল বল হাতে নয়, মন জয় করেছেন কোটি ভক্তের।
চোট আর সার্জারির পরও যিনি হাল ছাড়েননি — সেই নাম মাশরাফি। ৭ বার হাঁটুর অস্ত্রোপচার, তবুও দলের প্রয়োজনে বল হাতে মাঠে নেমেছেন। অন্য কেউ হলে হয়তো ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেত বহু আগেই, কিন্তু ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ কখনোই থেমে যাননি। কারণ, তিনি জানতেন — এই দেশ, এই দলের প্রতি তাঁর দায়িত্ব আরও অনেক বড়।
২০১৪ সালের পর যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছিল, তখন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মাশরাফি। তাঁর অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। একই সঙ্গে ২০১৫ ও ২০১৭ সালের দুটি বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) দারুণ পারফরম্যান্স করে বিশ্বকে জানান দেয় — বাংলাদেশ আর ছোট দল নয়, পূর্ণাঙ্গ প্রতিদ্বন্দ্বী।
মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রথমবার ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে হারায় ওয়ানডে সিরিজে। ড্রেসিংরুমে তাঁর উপস্থিতি মানে ছিল আত্মবিশ্বাসের অন্য নাম। তরুণ ক্রিকেটাররা যেভাবে তাঁর ছায়ায় বড় হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি।
তবে শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও তাঁর অবদান অনন্য। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। এখনও তিনি ক্রিকেটারদের পাশে, নড়াইলের তরুণদের পাশে। খেলাধুলার উন্নয়ন থেকে শুরু করে মানবিক সহায়তা— সব ক্ষেত্রেই তিনি উদাহরণ।
মাশরাফি মানে সাহস, মাশরাফি মানে দায়িত্ব, মাশরাফি মানে বাংলাদেশের এক অদম্য প্রতীক।
তাঁর নেতৃত্বে যে প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, তারা এখনও বিশ্বাস করে — বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটাই ক্যাপ্টেন, যার নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা।
আজ তাঁর জন্মদিনে দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর শুভকামনা একটাই—
