নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসর শেষ হলেও মাঠের বাইরের বিতর্ক এখনো থামেনি। খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধ, ফিক্সিংয়ের গুঞ্জন ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বারবার। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। এবার সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এনসিএল টি-টোয়েন্টির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবি প্রধান বলেন, তদন্তকারী দলের রিপোর্ট হাতে পেয়েছে বোর্ড। ওই টিমে একজন বিচারপতি, একজন ব্যারিস্টার ও একজন সাবেক ক্রিকেটার ছিলেন। তাদের জমা দেওয়া সারাংশে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে যা বিসিবিকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে। এজন্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে নতুন করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুলবুল বলেন, “এখানে কোনো সন্দেহের জায়গা নেই। আমাদের হাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ আছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে। এজন্যই আমরা কমিটি গঠন করেছি। তারা দ্রুতই বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে, সেই ভিত্তিতে আমরা অ্যাকশনে যাব। কোনো ভুল করার সুযোগ নেই, কারণ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি বিসিবি সভাপতি। তার ভাষায়, “এটা খেলোয়াড় হতে পারে, আবার কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউও হতে পারে। নাম প্রকাশে আমরা এখনই যাচ্ছি না। তবে ক্রিকেটকে সুরক্ষিত করাটাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল ও মাঠসংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং নৈতিক মূল্যবোধ জোরদার করার প্রচারণা। বুলবুল বলেন, “প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি লিখিতভাবে স্বাক্ষর করতে হবে। তাছাড়া অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে গণমাধ্যম ব্যবহার করা হবে।”
উল্লেখ্য, বিপিএলের শেষ আসরে মাঠে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফরচুন বরিশাল। তবে মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে বারবার আলোচনায় এসেছে চিটাগং কিংস ও দুর্বার রাজশাহীর মতো দল।
এদিকে, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। নতুন এই আসরকে সামনে রেখে বিসিবির কড়া অবস্থানকে ভবিষ্যতের ক্রিকেটকে স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
