নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রদূত আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেদিন ঢাকায় নেমেছিলো লাখো মানুষ। মেলবোর্নের ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে অবদানের পথচলায় কোকো ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যার মৃত্যুর শোকে সামগ্রিক ক্রীড়া ও সাধারণ জনগণ একযোগে মাতম করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশুনার সময় কয়েক বন্ধু সঙ্গে রুম শেয়ার করা কোকো, ছিলেন এক সরল মনের মানুষ। হান্টিংডেলের পিজ্জা হাটে পার্টটাইম কাজের মধ্য দিয়ে নিজের হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা ও যোগ্যতা থেকেই ডিওএইচএস ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে খেলতেন কোকো, যেখানে পেছনে ছিল না কোনো প্রভাব, যদিও তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সন্তান ছিলেন।
বিসিবির ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কোকো ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থেকে ক্রিকেটের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে হাই পারফরম্যান্স ইউনিট, যেখান থেকে আজকের সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, শুভাশিস বোস, এনামুল হকসহ অনেক তারকা ক্রিকেটার উঠে এসেছেন। ক্রিকেটকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে কাজ করার জন্য তিনি সবকদম সম্মানিত ছিলেন।
বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ কোকোরই, যেখানে ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গৌরবজনক মুহূর্ত সৃষ্টি হয়। স্টেডিয়ামের নামকরণ হয় শহীদ চান্দুর নামে, যিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বগুড়া জেলা ফুটবল দলের সদস্য। এই নামকরণ থেকে ফুটেছে কোকোর দেশপ্রেম ও সম্মান।
কোকোর মৃত্যুর পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু করে মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম, মহানগর নাট্যমঞ্চ, গোলাপ শাহর মাজার ও জিপিও মোড় পর্যন্ত সড়কে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। উত্তর গেট থেকে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এলাকা ভেঙে পড়ে মানুষের ঢল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ থেকে ২০ লাখের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে কোকোর মৃত্যুর এ আয়োজন জিয়াউর রহমানের জানাজার পর সর্বোচ্চ লোক সমাগম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আরাফাত রহমান কোকো।
