নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
আমিনুল ইসলাম বুলবুল নামটা আসলেই আমরা চিনে ফেলি বাংলাদেশ ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসাবে। শুধু এখানেই তার শ্রেষ্ঠত্ব নয়, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটসম্যান, যিনি দেশের ইতিহাসের অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। ১৮৭৭ সালে অষ্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান চার্লস ব্যানারম্যান, ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ের ডেভিড হটন এর পর ২০০০ সালে ভারতকে বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি হাঁকান আমিনুল, এরপর ২০১৮ সালে দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে তাদের পাশে বসেন আয়ারল্যান্ড এর নেইল-ও ব্রাইন।
আমিনুল ইসলাম বুলবুল হলেন বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হারানোর মাধ্যমে টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার জোর দাবি জানিয়ে রাখে বাংলাদেশ। এবং ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট স্টাটাস লাভ করে বাংলাদেশ। ১১ নভেম্বর টেস্ট খেলতে মাঠে নামে বাংলাদেশ।
সবকিছু ঠিক থাকলে তার নেতৃত্বেই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অফ ফর্মের কারনে তাকে সরিয়ে নাইমুর রহমান দূর্জয়কে টেস্ট দলের অধিনায়ক করা হয়। অধিনায়ক হিসেবে না হলেও ঠিকই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান বিলবুল। সেদিন ২৮২ বলে সেঞ্চুরি পারন করেন এবং বাংলাদেশ ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসাবে সেঞ্চুরির তালিকায় নাম লেখান।
বুলবুল ভাইকে চেনা আর আগ থেকেই। বাংলাদেশ ঘরোয়া ক্রিকেটে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাইকে নিয়মিত দেখতাম। তার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হতাম। ব্যাট হাতে মানুষটা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর হলেও ব্যাক্তি জীবনে খুবই নম্র,ভদ্র এবং মার্জিত। তার সংস্পর্শে এলে মনেই হতো না তিনি এত বড় মাপের একজন খেলোয়াড়। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ভাই ছিলেন আবাহনী লিমিটেড এর ক্যাপ্টেন। সেই সময়ে ঢাকা লীগে তারকার মেলা বসতো। আবাহনী -মোহামেডানের খেলা থাকলে উত্তেজনায় কাঁপত পুরো ঢাকা। সেই সময়ে পরপর ২-৩ বার মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়নস করেন বুলবুল ভাই। এরপর থেকে তার সাথে কথা হয়েছে, মেশা হয়েছে, গল্প হয়েছে। বলতে গেলে ছোট ভাইয়ের মতোই আমাকে স্নেহ করতেন তিনি।
দেশের খেলা ছাড়ার পর,আরও কিছুদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন বুলবুল ভাই। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আইসিসির হয়ে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন এসিসির গেম ডেভলপমেন্ট অফিসার হিসেবে। আফগানিস্তান, চীন সহ বিভিন্ন দেশে ক্রিকেট নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তবে সব সময়ই তার মাঝে একটা আক্ষেপ ছিল দেশের হয়ে কাজ করার জন্য। একটা সুযোগের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করেছেন। অবশেষে পেলেন সেই সুযোগ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হয়ে এলেন একটা কুইক টি টোয়েন্টি খেলার জন্য। আশা করবো এখানেও তিনি সাফল্যের পরিচয় দিবেন।
নিজের কাজে মনোযোগি ছাত্র আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ১৩ ম্যাচে ৫৩০ রান করেছেন আমাদের নয়া বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এই ৫৩০ রান করতে তিনি বল খেলেছেন ১৫২০ টি। ব্যাটিং করেছেন ২০৬৪ মিনিট, প্রায় ৩৪.৪ ঘন্টা, ম্যাচ প্রতি ২.৬৪ ঘন্টা ব্যাটিং করেছেন। এই পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় ক্রিকেট মাঠে কতটা মনযোগী ছিলেন বুলবুল।
তিনি কতটা মনযোগী ছিলেন তা জানতে আর একটু গভীরে যাওয়া যাক। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের হয়ে সময়ের হিসাবে লম্বা ইনিংস খেলেছেন মুশফিকু রহিম ৫৮৯ মিনিট। পরের ইনিংসটাই খেলেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অভিষেক সেঞ্চুরির দিনে ৫৩৫ মিনিট ব্যাটিং করেন তিনি। বলের হিসাবেও লম্বা ইনিংসের তালিকায় ৩ নম্বরে আছে বুলবুলেই সেই ইনিংস। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪২ ১ বল খেলেন মুশফিকুর রহিম।দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুল খেলেন ৪১৭বল, তৃতীয় স্থানে থাকা আমিনুল ইসলাম ৩৮০ বল।
আমাদের মাঝে একটা ভ্রান্ত ধারণা চলে আসে সেই ছোটবেলা থেকেই। আমরা মনে করি যে দেখতে সুন্দর সে লাইফে বেশি সফল হবে, বা যে ভালো স্টুডেন্ট জীবনে সেই বেশি অর্থ উপজর্ন করবে। কিন্তু বাস্তবে তা কখনোই মেলে না। ব্যাক্তি জীবনে যে যতবেশি পরিশ্রমি, যে যত বেশও সাহসী, যে যতবেশি ধৈর্যশীল, যে যত বেশি ত্যাগি, জীবনের একটা পর্যায়ে এসে তারাই বেশি সফল,প্রতিষ্ঠিত।
কথাগুলো বলার কারন বাংলাদেশ দলের কোচ হয়ে যিনি আসেন, নির্বাচক হয়ে যিনি আসেন কিংবা বিসিবি প্রধান হয়ে যিনি আসেন, আমরা তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান খুঁজে দেখি, সে কয়টা ছয় মেরেছে, সে কয়টা সেঞ্চুরি কিংবা হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, তার ব্যাটিং গড় কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই হিসাবে আমরা তার অভিজ্ঞতা কিংবা যোগ্যতা বিবেচনা করি। তাই শুরুতেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল এর ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বললাম। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন একজন ধৈর্যশীল ব্যাটসম্যান। প্রতিপক্ষের সামনে দেয়াল হয়ে দাড়িয়ে থাকতেন। ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা হলে হতেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম একজন সেরা ব্যাটসম্যান।
আমরা কেবল আমিনগল ইসলামকে দেশের ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসাবেই চিনে থাকি। সেদিন অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। যা ক্রিকেট যতদিন থাকবে ততদিন রেকর্ড হয়ে থাকবে। আমি কথা বলতে চাই অন্য এক জায়গায়। ভারতের বিপক্ষে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সেদিন একটা সেঞ্চুরিই করেন নি। সেই ম্যাচে তিনি প্রায় ৯ ঘন্টা ব্যাটিং করেছিলেন। যা সময়ের হিসাবে আজও বাংলাদেশের সেরা ইনিংস হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
টেস্ট ম্যাচ ১৩
ইনিংস ২৬
রান ৫৩০
ব্যাটি গড় ২১.২০
হাফ সেঞ্চুরি/ সেঞ্চুরি ২/১।
বেস্ট ১৪৫।
ওয়ানডে ⤵️
ম্যাচ ৩৭
রান ৭৪০
ব্যাটি গড় ২৩.৩৫
হাফ সেঞ্চুরি ৩
বেস্ট ৭০
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট
ম্যাচ ৪০
ইনিংস ৭২
রান ১৯৪০
গড় ৩০.৭৯
হাফ সেঞ্চুরি /সেঞ্চুরি ৪/৯
বেস্ট ১৫৩।
*️⃣লিস্ট এ
ম্যাচ ৭৫
ইনিংস ৭৪
রান ১৫১৪
গড় ২২.৯৩
হাফ সেঞ্চুরি ৭
বেস্ট ৭৮।
