চিন্নাস্বামীতে পুরান ঝড়, চোখে জল কোহলিদের!

দুর্জয় দাশ গুপ্ত »

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএল দেখতে হলে অবশ্যই আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। প্রতিটা ম্যাচে যেভাবে একের পর এক নাটকীয়তা হচ্ছে কখন কি ঘটে কিছুই আন্দাজ করা যায় না।

বেঙ্গালুরুর দেয়া ২১৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৭ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় লক্ষ্ণৌ। ৭ ওভার শেষে লক্ষ্ণৌর দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৭। অর্থাৎ কেএল রাহুলের দলকে এই ম্যাচটা জিততে হলে শেষের ৭৮ বল থেকে করতে হবে ১৭৬ রান। প্রতি ওভারে ১৩ রানেরও বেশি প্রয়োজন। তবুও ম্যাচটা লক্ষ্ণৌ জিতলো। বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম ভিজলো আরসিবি ফ্যানদের চোখের জলে।

লক্ষ্ণৌকে জিততে হলে শেষের ওভারের সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বল থেকে ৫ রানের। হাতে আছে ৩ উইকেট। এমন সমীকরণে অনেকেই টিভি সেটের সামনে থেকে উঠে দাঁড়ালেও নাটকীয়তা ছিলো আরো বাকি। শেষ ওভারের ১ম ৫ বলে ৪ রান দিয়ে দুটো উইকেট তুলে নেন হার্শাল প্যাটেল। শেষ বলে শেষ উইকেটে তাদের প্রয়োজন ১ রান। হার্শাল চেষ্টা করেছিলেন শেষ বলটি না করে রবি বিষ্ণইকে মানকাড আউট করার। কিন্তু ইঞ্চির ব্যবধানে স্ট্যাম্প ভাঙতে পারেননি হার্শাল। হয়তো আরসিবির কপালটাই খারাপ, জয় তাদের ভাগ্যে নেই। না হলে এভাবেও ম্যাচ হারা সম্ভব?

অধিনায়ক কেএল রাহুলকে নিয়ে অজি তারকা অলরাউন্ডার মার্কোস স্টয়নিস দারুণ একটি পার্টনারশিপ গড়েন। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো লক্ষ্ণৌ কাপ্তান ১০ ওভার উইকেটে থাকার পরেও তার সংগ্রহ ২০ বল থেকে মাত্র ১৮। আর অন্যদিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্টয়নিসের ব্যাট থেকে এসেছে ৩০ বলে ৬৫ রান।

দলীয় ১০৫ রানে লক্ষ্ণৌ যখন পঞ্চম উইকেট হারায় তখনও অনেকেই বিশ্বাস করেন পারেননি আরসিবি এই ম্যাচটা হেরে বসবে। এমনকি স্বয়ং আরসিবি কাপ্তানও হয়তো চিন্তা করতে পারেননি। শেষ ৪২ বলে লক্ষ্ণৌর জয়ের সমীকরণ গিয়ে দাঁড়ায় ১০৭ রানের। এরপরই লক্ষ্ণৌর ত্রাতা হিসেবে হাজির হন ক্যারিবীয় দানব নিকোলাস পুরান। চিন্নাস্বামীর প্রতিটা আরসিবি ভক্তদের মনে আঘাত করলেও তিনি ঠিকই মন জয় করে নিয়েছেন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর। আইপিএল ইতিহাসের ২য় দ্রুততম ফিফটি হাঁকিয়েছেন পুরান। মাত্র ১৪ বলে ফিফটি হাঁকানো পুরান যখন ১৮ বলে ৬২ রানের এমন অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে আউট হন তখন লক্ষ্ণৌর প্রয়োজন ছিলো শেষ ৩ ওভারে মাত্র ২২ রানের।

এর আগে নিজেদের ঘরের মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলি ও ফাফ ডু প্লেসির দারুণ ব্যাটিংয়ে বড় রানের পুঁজির স্বপ্ন দেখতে থাকে তারা। শেষের দিকে ক্রিজে এসে ঝড় তুলেন অজি তারকা গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল। মাত্র ২৯ বলে ৫৯ রান করে আউট হন তিনি। রবি বিষ্ণইয়ের করা তার শেষ ওভারে আসে ২২ রান, যেখানে ছিলো তিনটি বিশাল ছক্কার মার। এর মধ্যে বেঙ্গালুরু অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি ১১৫ মিটারের একটি বড় ছক্কা হাঁকান যেটি ছাদ পেরিয়ে বল মাঠের বাইরে চলে যায়। তবে সবকিছুই ম্লান হয়ে গেল পুরান ঝড়ে। তবুও ম্যাচটা হারতে হলো কোহলি – ফাফদের।

 

 

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »