স্টাফ রিপোর্টার »
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নবর আসর মাঠে গড়িয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও চলবে। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে হাতে গোণা কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার বিপিএল খেলতে এসেছে। এদের মাঝে একজন ডেভিড মালান।
বিপিএলের প্রায় নিয়িমিত মুখ ডেভিড মালান। এবারের আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলছেন এই ইংলিশ ব্যাটার। এর আগে বরিশাল বুলস, খুলনা টাইটান্স ও কুমিল্লা ওয়ারিয়ার্সের হয়ে খেলেছেন তিনি।
রোববার মিরপুর একাডেমি মাঠে কুমিল্লার অনুশীলন শেষে এই টুর্নামেন্ট ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরনো ঋণের কথা জানালেন ডেভিড মালান।
ডেভিড মালান বলেন, “বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আমি সবসময় উপভোগ করেছি। আমার খেলা প্রথম টুর্নামেন্টগুলোর একটি ছিল এটি (দেশের বাইরে)। এই টুর্নামেন্ট আমার ক্যারিয়ারের ভিত গড়ে দিয়েছিল। নিজের খেলা সম্পর্কে বুঝতে এটি আমাকে সহায়তা করেছিল। শুধু এই বিপিএল নয়, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও। এই দুটি টুর্নামেন্টই আমার খেলার উন্নতি করতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশে আসার যে কোনো সুযোগ পেলেই তাই আমি পুরোটা লুফে নিতে চাই।”
একই সাথে বিপিএলের আলো ফেরানোর উপায় বাতলে দিলেন মালান। তিনি বলেন, “উপমহাদেশে যত বেশি খেলা যায়, স্পিন খেলার স্কিল ততই ভালো শেখা যায়। আমি সবসময় শেখার দর্শনে প্রবলভাবে বিশ্বাসী। এই ধরনের কন্ডিশনে এলে উঁচুমানের স্পিনারদের খেলতে হয়। টি-টোয়েন্টিতেও এখানে স্পিনাররা অনেক বল করে।”
মালান বলেন, “অন্যান্য লিগে হয়তো এক দলে একজন-দুজন স্পিনার থাকে। এখানে তিন-চারজন থাকে। কন্ডিশনের দাবিও এরকম থাকে। স্পিনে আগ্রাসী ও রক্ষণাত্মক, দুই ধরনের ব্যাটিংই শেখা যায় এখানে। কারণ, কখনও কখনও এখানে কম রানের খেলা হয়। আবার বড় রানের খেলা হলে আক্রমণাত্মক খেলতেও জানতে হয়। স্পিন খেলার অনেক উপায় তাই এখানে শেখা যায়।”
এই ইংলিশ ব্যাটার বলেন, “বিপিএলে স্ট্যান্ডার্ড ভালো। এই টুর্নামেন্ট সত্যিই ভালো। তবে এখন অন্যান্য টুর্নামেন্ট এত আছে, বিপিএল যদি ক্রিকেটের মান দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে ক্রিকেটাদের আকর্ষণ করতে পারে, আমার মনে হয় তারকা ক্রিকেটাররা আবার আসতে শুরু করবে।”
মালান বলেন, বড় তারকাদের আকৃষ্ট করতে হলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে ভালো উইকেটে। বিভিন্ন দেশের চ্যালেঞ্জ সবসময়ই আলাদা। ভিন্ন কন্ডিশন, ভিন্ন পিচ, ভিন্ন খেলার ধরন। এখানকার কথা বললে, চট্টগ্রামে এমন উইকেট পাওয়া যায়, ক্যারিয়ারে খেলা সেরা উইকেটগুলোর মধ্যে থাকে। মিরপুরে খেললে কখনোই বোঝা যায়, উইকেট কেমন হতে পারে। তাই মানিয়ে নেওয়া শিখতে হয়।
৩৫ বছর বয়সী ব্যাটার বলেন,“এখানে কন্ডিশন কখনও কখনও খুব কঠিন। এখানে রান করা কঠিন। চট্টগ্রামে গেলে বিশ্বের সেরা ব্যাটিং উইকেটগুলোর একটি পাওয়া যায়। খেলার মান আসলে অনেকটাই নির্ভর করে কন্ডিশনের ওপর। ধারাবাহিকভাবে যদি ভালো উইকেট দেওয়া হয়, তাহলে খেলার মানও বাড়বে, ভালো মানের ক্রিকেটারদেরও পাওয়া যাবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মূল ব্যাপারই হরো, যতটা সম্ভব ভালো উইকেটে খেলা।”
এস.আর/নিউজক্রিকেট২৪
