বিপিএল: দেশী দশ ব্যাটার-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

বিপিএল: দেশী দশ ব্যাটার-

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের নাম শুনলেই যেন শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠে। ক্রিকেট পাড়ায় টি-টুয়েন্টির জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। টি-টুয়েন্টির মার মার কাট কাট খেলায় একজন ব্যাটসম্যানই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে যথেষ্ট? জমে উঠেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ৮ম আসর । চলতি আসরের ঢাকার প্রথম পর্ব শেষ করে দ্বিতীয় পর্ব খেলতে সব দল এখন বন্দর নগরী চট্রগামে অবস্থান করছে।

টি-২০ ক্রিকেটে চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ছড়াতে বিশ্বের সব নামী দামী তারকা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আমাদের বাংলাদেশেও বেশ কিছু পাওয়ার হিটার ব্যাটার রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো কারা সেই পাওয়ার হিটার বেটার? এখন এই প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

তামিম ইকবালঃ ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হওয়া বাংলাদেশের টি-২০ ক্রিকেটে তামিম ইকবাল এক অনবদ্য নাম। লীগ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক টূর্নামেন্ট সর্বক্ষেত্রেই এই বাংলাদেশী ওপেনার সমান তালে এগিয়ে। ৭৮ ম্যাচে ১১৭.২০ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৭৫৮ রান করেছে বাংলাদেশের এ মারকুটে ড্যাশিং ওপেনার। টি-২০ তামিমের ১০৩ রানের একটি শতক ও সাতটি অর্ধশতকের ইংনিস রয়েছে। তামিম তার ব্যাটিং কারিশমা দেখিয়ে আইপিএল, পিসিএল, সিপিএলসহ বিশ্বের সব নামীদামি টূর্নামেন্ট মাতিয়ে চলছে। বর্তমানে এ বাহাতি ওপেনার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর ৮ম আসরে রাজধানীর দল মিনিষ্টার ঢাকার হয়ে মাঠ কাপাচ্ছেন, খেলেছেন ব্যাক টু ব্যাক অর্ধশতকের ইংনিস।

মাহমাদুল্লাহ রিয়াদঃ ‘মিষ্টার কুল’ হিসেবে খ্যাত মাহমাদুল্লাহ বাংলাদেশের ক্রিড়াঙ্গনে আরেক ফিনিশিয়ারের নাম। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরী করেই রাতারাতি বনে গেছেন টাইগার ক্রিকেটের এ সুপার স্টার। সেই থেকেই আর পিছু তাকাতে হয়নি এ অলরাউন্ডারকে। টি২০ তে ১১৭.৭৫ স্ট্রাইক রেটে ১১৩ ম্যাচে ১৯৭০ রানের মালিক এ অধিনায়ক। দেশের গন্ডি পেরিয়ে পিসিএল ও সিপিএল লীগেও চষে বেড়াচ্ছেন এ সাইলেন্ট কিলার। বিপিএলে তিনি এবার ঢাকা মিনিষ্টারের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

সাকিব আল হাসানঃ সাকিব আল হাসান কে? যদি এমন প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কেমন হবে। বিশ্বের কোন ক্রিকেট প্রেমী তাকে চিনে না, তার সম্পর্কে জানে না এমন লোক পাওয়া দুস্কর। হ্যা সত্যিই তাই। তিনি বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার, তিনিই আমাদের সাকিব আল হাসান। তিনিই বিশ্বের একমাত্র ও প্রথম ক্রিকেটার যিনি টি-২০ ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ১০০০ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১০০ উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৯৪ ম্যাচে ১২০.৫৬ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ১৮৯৪ এবং উইকেট নিয়েছেন ১৭৭ টি। আইপিএলে ৭১ ম্যাচে ১২৪.৪৯ স্ট্রোইকে রান করেছেন ৭৯৩, উইকেট নিয়েছেন ৬৩। বিপিএলে এবার তিনি ফরচুন বরিশালের দায়িত্ব কাধে পেয়েছেন।

মুশফিকুর রহিমঃ তিনিই প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে টেষ্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। তিনি বাংলাদেশের ক্রিড়াঙ্গনে মিস্টার ডিফেন্ডার হিসেবে খ্যাত। ৯৯ ম্যাচে ১১৫.২৬ স্ট্রাইক নিয়ে ছয় অর্ধশতক নিয়ে করেছেন ১৪৬৫ রান করেছেন বাংলাদেশে জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তিনি এবার খুলনা টাইগার্স দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

সাব্বির রহমানঃ বাংলাদেশের ক্রিড়াঙ্গনে তিনি ব্যাড বয় হিসেবেই বেশি পরিচিত। ক্যারিয়ারে যতোটা না পারফর্মের জন্য আলোচিত হয়েছেন ততোটাই সমালোচিত হয়েছেন মাঠের বাইরের কার্যকলাপের জন্য। ব্যক্তিগত বিভিন্ন কার্যকলাপের জন্য জাতীয় দল হতে শুরু করে ঘরোয়া বিভিন্ন লীগেও হয়ছেন অবহেলিত। কিন্তু এবার সুযোগ পেয়েছেন বিপিএলে। দেখা যাক, জাতীয় দল হতে পাড়ার দলে খেলা এ তারকা নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে বিপিএলকে সিড়ি হিসেবে ব্যবহার করে আবার জাতীয় দলে ঢুকতে পারে কি না? সেটাই এখন দেখার পালা।

ইমরুল কায়েসঃ বাংলায় একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে-অভাগা যেখানে যায় সেখানেই নাকি সাগর শুকিয়ে যায়। তেমনি সাগর শুকিয়ে যাওয়ার কপালই যেন ইমরুল কায়েসের। হ্যা, তাই তাকেই বলা হয় বাংলার ক্রিকেটের অভাগা। জাতীয় দল ইমরুল কায়েসের জন্য সাগর শুকিয়ে যাওয়ার মতো হলেও বিপিএল সেখানে ব্যতিক্রম। বিপিএল-২০২২ এ তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলের দায়িত্ব কাধে পেয়েছেন।

লিটন দাসঃ বর্তমান সময়ে তাকে বাংলাদশের ক্রিকেটের এগ্রেসিভ ও দূরদর্শীতাসম্পন্ন খেলোয়াড় বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন পঞ্চপান্ডবের অন্যতম সদস্য তামিক ইকবালের সঙ্গী হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ওপেনিং করেছেন ডানহাতি এ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। ৪৬ ম্যাচে ১২২.৫ স্ট্রাইক রেটে ৮৪৪ রান করেছেন দিনাজপুরের এ ক্রিকেটার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে মাঠ কাপাচ্ছেন জাতীয় দলের এ মারকুটে ব্যাটসম্যান।

আফিফ হোসেনঃ তিনি বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে আইডল হিসেবে মানা জাতীয় দলের অন্যতম উদীয়মান তারকা খেলোয়াড়। সাকিবের মতো তিনিও বল ও ব্যাট উভয় হাতেই সমান পারদর্শী। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি২০ তে অভিষেক হয় ২২ বছর বয়সী এ তরুন উদীয়মান অলরাউন্ডারের। সেই থেকেই জাতীয় দলের জায়গায় প্রায় পাকা পোক্ত করেই ফেলেছেন আফিফ। আইকন সাকিবের সাথে তার বেশিকিছু মিল থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে আফিফ সাকিবের ভূমিকা কতোটা নিতে পারবেন সেটা সময়ই বলে দিবে।

শামিম হোসেনঃ ইলিশের জন্মভূমি চাঁদপুরে জন্ম নেওয়া শামিম হোসেন পাটোয়ারী ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয়। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় দলে তিনি তার অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। মাঠে তার এগ্রেসিভ ফিল্ডিং ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে এবারের বিপিএলে চট্রগ্রাম চ্যালের্ঞ্জাস তাকে লুফে নিয়েছে।

রনি তালুকদার : তিনি একজন অলরাউন্ডার ,যিনি এবার বিপিএলে খুলনা টাইগার্স এর হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিককালে যে কজন নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছিলেন রনি তাদের একজন। ২০০৭ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অভিষেক হওয়ার পর থেকে আর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাকে দেখা যায়নি। এরপর থেকে বিপিএলেই নিয়মিত মুখ নারায়ণগঞ্জ এর এ ক্রিকেটার। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মিনিস্টার ঢাকার সাথে খেলেছেন ৬১ রানের এক লড়াকু ইংনিস।

এই দশ জন ছাড়া আরও যাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। তারা হলেন- জাকির হোসেন, নাহিদুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, আনামুল হক বিজয়। এখন দেখা যাক শেষমেষ কি হয়????

 

আগামীতে আসছে-বিপিএল: দেশী দশ বোলার

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »