নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনেও আধিপত্য দেখিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। টম ল্যাথামের ডাবল সেঞ্চুরি আর ডেভন কনওয়ের সেঞ্চুরিতে রান পাহাড় গড়েছে কিউইরা। জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ফলোঅনে পড়ে দিন শেষ করেছে মুমিনুলের দল। আজ বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ের সেই পুরোনো চিত্র ফুটে ওঠে বাংলাদেশের। দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১২৬ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে পিছিয়ে ৩৯৫ রানে।
১ উইকেটে ৩৪৯ রান নিেেয় দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে নিউজিল্যান্ড। ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ডেভন কনওয়ে দিনের শুরুতেই তার টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ১৪৯ বল খেলে। তবে তিনি ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি। ১০৯ রান করে রান আউট হয়ে ফিরে গেলে ভাঙ্গে ২১৫ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। ল্যাথামের সঙ্গে জুটি বাধেন ক্যারিয়ারে শেষ টেস্ট খেলতে নামা রস টেইলর। ক্রিজে আসার সময় গার্ড অব অনার দিয়ে টেইলরকে সম্মান জানান বাংলাশের ক্রিকেটাররা।
১৮৬ রানে অপরাজিত থেকে ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। ৩০৫ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন ল্যাথাম। স্কোরবোর্ডে দলীয় সংগ্রহ চারশ ছাড়ায় এরপর। ক্যারিয়োরের শেষ টেস্টের শেষ ইনিংসটা আর বড় করতে পারেননি টেইলর। ২৮ রান করে দলীয় ৪১১ রানে এবাদত হোসেনের বলে শরিফুল ইসলামের ক্যাচে আউট হন টেইলর। হেনরি নিকোলসকে শূন্য রানে ফেরান এবাদত। এরপর ৩ রান করা ড্যারেল মিচেলকে শরিফুল প্যাভিলিয়নের পথ ধরলে ৫ উইকেটে ৪২৩ রানে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় নিউজিল্যান্ড।
দ্বিতীয় সেশনে টম ল্যাথামের সঙ্গে যোগ দেন টম ব্লুনডেল। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আরও শক্ত প্রতিরোধ গড়েন। স্ক্রো সাড়ে চারশ ছাড়িয়ে পাঁচশর কাছাকাছি । ষষ্ঠ উইকেটে জুটিও ৫০ রান যোগ করেন। ল্যাথাম ডাবল সেঞ্চুরিটাকে দেড়শ রানে পলিণত করেন। এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেননি। ২৫২ রান করে দলীয় ৪৯৯ রানের সময় মুমিনুল হকের বলে আউট হন ল্যাথাম। ভাঙ্গে ৭৬ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। এরপরই টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন ব্লুনডেল। ৬ উইকেটে ৫২১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। ব্লুনডেল ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের এবাদত ও শরিফুল ২টি এবং মুমিনুল ১ উইকেট নেন।
জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের সেই পুরোনো চিত্র ফুটে ওঠে। কিউই পেসারদের সামলাতে হিমসিম খেতে হয় সাদমান-মুমিনুলদের। দলীয় ৭ রানে সাদমান ইসলাম ব্যক্তিগত ৭ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটে পেছনের ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা নাঈম শেখও তার অভিষেক টেস্টে ইনিংস স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। ৫ বলে শূন্য রান করে দীলয় ১১ রানে টিম সাউদির বলে বোল্ড হন নাঈম।
নাজমুল হোসেন শান্ত ৪ রান করে বোল্টের বলে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। অধিনায়ক মুমিনুল হকও ব্যর্থ হন। শূন্য রান করে সাউদির বলে বোল্ড হন মুমিনুল। ১১ রানের টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটার হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকা লিটন দাস এবং ইয়াসির আলী রাব্বি। কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার আভাস দেন। ৪ উইকেট ২৭ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় সেশনে শুরুতেই আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলের বিপদের এবার আর ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন। ৮ রান করে বোল্টের বলে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে বাংলাদেশ পঞ্চম উইকেট হারায় দলীয় ২৭ রানে। বাংলাদেশের ইনিংস কতক্ষণ স্থায়ী হয় সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে নুরুল হাসান সোহান ও রাব্বি কিছুটা স্বাচ্ছন্দে ব্যাটিং করতে থাকেন। গড়েন ৬০ রানের জুটি। সোহান ৪১ রান করে আউট হলে ভাঙ্গে এই জুটি। মিরাজ ৫ রান করে বোল্টের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০০তম উইকেটের শিকার হয়ে বোল্ড হন। ১০৯ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তাসকিনও ২ রান করে আউট হন।
একপ্রান্ত আগলে তৃতীয় টেস্টে ৮৫ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন ইয়াসির। ততক্ষণে বাংলাদেশ ফলোঅন অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। ৫৫ রান করে ইয়াসির জেমিসনের বলে আউট হন। এরপর শরিফুল বোল্টের বলে বোল্ড হলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় মাত্র ১২৬ রানে। দ্বিতীয় দিনের খেলাও শেষ হয় বোল্ট নেন ৫ উইকেট। সাউদি ৩টি ও জেমিসন ২ উইকেট নেন।
