মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

 

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্টঃ ২০ বছরে তিন ফরম্যাটে টানা ৩২ ম্যাচে হারের গ্লানি যে বাংলাদেশ এমন ভাবে ঘোচাবে সেটা কেউ অনুমানই করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩৩ বারের চেষ্টায় প্রথম কোনো জয় পেল বাংলাদেশ। এর সঙ্গে মিলল দুর্গ ভাঙার স্বস্তি। টানা আধিপত্যে অনুমিত গন্তব্যের পথেই ছিল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্ট। বাংলাদেশের বোলিং তোপে পঞ্চম দিনে এসেও প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। আর এতেই দাপুটে পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ঐতিহাসিক এক জয়।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ঘরের মাটিতে উড়তে থাকা নিউজিল্যান্ডকে টেনে মাটিতে নামাল মুমিনুল হকের দল। কিউইদেরকে তাদের নিজেদের মাটিতে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। আজ টেস্টের শেষ দিনে দুই সেশন হাতের রেখে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

টেস্টে এটি বাংলাদেশের ১৫তম জয়। হোম কন্ডিশনে টানা ১৭ জয়ের পর হারের তিক্ততায় ডুবল কিউইরা। এই জয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় চক্রে প্রথম জয় ও প্রথমবার পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ।

বুধবার সকালে এবাদত আগের দিনের বিকেলের মতোই ভয়ঙ্কর বোলিং করেন। তার সঙ্গে তাসকিনও জ্বলে উঠলে ২২ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৯ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় মাত্র ৪০ রান।

রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ৩ রানে সাদমান ইসলামের (৩) উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল-শান্ত’র জুটি যোগ করে ৩১ রান। দলকে জয় থেকে ৬ রান দূরে রেখে শান্ত ১৭ রান করে আউট হন। পরে মুশফিক-মুমিনুল দলের জয় নিশ্চিত করেন। মুমিনুল ১৩, মুশফিক ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৬.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৪২ রান তুলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৪৭ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা নিউজিল্যান্ড দিনের দ্বিতীয় ওভারেই রস টেলরের উইকেট হারায়। তাকে বোল্ড করেন এবাদত। টেলর ৪০ রান করেন। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট পান ডানহাতি এ পেসার। প্রায় ৯ বছর পর টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসার টেস্টে ৫ উইকেট পাওয়ার নজির গড়লেন। ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন রবিউল ইসলাম।

নিজের পরের ওভারে শরীফুলের দারুণ ক্যাচে জেমিসনকে ফেরান এবাদত। পরপর দুই ওভারে তাসকিনের শিকার হন রাচিন রবীন্দ্র (১৬) ও সাউদি। মিরাজের বলে বোল্ট ফিরলে শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। এবাদত ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৪৬ রানে ৬টি উইকেট নেন। তাসকিন ৩টি, মিরাজ ১টি উইকেট পান।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »