নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
টেস্টের বিশ^চ্যামিয়নদের বিপক্ষে অধিপত্য দেখানো কিন্তু সহজ বিষয় না। আর সেই আধিপত্য যদি হয় পরাজয়ের শঙ্কা জাগানো সেটাতো আর কঠিন। এই ‘আরও কঠিন’ কাজটাই এবার করছে বাংলাদেশ। মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে এবাদতের হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে নিউল্যান্ডকে রীতিমতো পরাজয়ের শঙ্কায় ফেলে দিয়ে বাংলাদেশ। দিনে শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১৭ রানের লিড নিয়েছে নিউজিল্যান্ড হাতে রয়েছে ৫ উইকেট। পরাজয় এড়াতেই এখন লড়তে হচ্ছে টেস্টের বিশ^চ্যাম্পিয়নদের। শেষ দিনটা তাই বেশ রোমাঞ্চই অপেক্ষা করছে।
৬ উইকেটে ৪০১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে প্রথম ইনিংসের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিনের দুই ব্যাটার ইয়াসির আলী রাব্বি ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দেখেশুনেই প্রথম একঘন্টা বেশ ভালোভাবেই পার করে লিডটা একশ ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তবে প্রথম ঘন্টার পানিপানের বিরতির পরই ছন্দ পতন হয় বাংলাদেশের ইনিংসের। ফিফটির অপেক্ষায় থাকা মিরাজ ৪৭ রান করে টিম সাউদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ভাঙ্গে ৭৫ রানের সপ্তম উইকেট জুটি।
এরপর টেস্ট মেজাজে দারুণ খেলতে থাকা রাব্বি ৮৮ বলে ২৬ রান করে আউট হন। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে রান সাড়ে চারশ। শেষের দুই ব্যাটার তাসকিন আহমেদ (৫) ও শরিফুল ইসলাম (৭) বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেনি নি। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৪৫৮ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট ৪টি, ওয়াগনার ৩টি, সাউদি ২টি ও জেমিসন ১টি উইকেট নেন।
পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে বিনা উইকেটে ১০ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। দলীয় ২৯ রানে ১৪ রান করা কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় চা বিরতির আগ মুহূর্তে। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ডেভন কনওয়ে এবাদত হোসেনের করা ১৪০ কি.মি গতির বল খেলতে গিয়ে ব্যাটে লেগে প্যাডে লেগে গালির সামনে সাদমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে উইকেট আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ৬৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শেষ করে নিউজিল্যান্ড।
তৃতীয় সেশনের প্রায় অর্ধেক সময়টা কাটিয়ে দেন রস টেইলর ও উইর ইয়াং। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় উইকেটের দেখা পান ইয়ং। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে ইনিংসের ৪২তম ওভারে। ১৭ রান করা টেইলর মিরাজের বলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ দেন। সাদমান ইসলাম ক্যাচটি ফেলে দেন। এখানেই শেষ নয় ব্যক্তিগত ২৯ রানে আরও একবার ‘জীবন’ পান টেইলর। এবার সহজ রান আউটের সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। এবাদতের করা বল ইয়ং গালিতে ঠেলে দিয়ে বলের দিকে তাকিয়ে রানের জন্য কল দিলে নন স্ট্রাইকে থাকা টেইলন দৌড়ে যান। গালিতে লাফিয়ে উঠে দারুণ ফিল্ডিং করে মুমিনুল বল এবাদতকে দেন। স্টাম্পের কাছে না থাকার এবাদত স্টাম্পের দিকে থ্রো করলে সেটা মিস হয়। স্টাম্পে কাছেও কেউ ছিল না।
তবে এই আফসোস দূর করে দেন এবাদত। এই পেসারে ঝড়ে চাপে পড়ে যায় কিউইরা। প্রথমে ৬৯ রান করা ইয়ংকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠিয়ে ৭৩ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি ভাঙ্গেন এবাদত। এক বল পরই একই ওভারে ১৪০ কি.মি গতির বল করে হেনরি নিকোলসকে (০) বোল্ড করেন এই ডান হাতি পেসার। এক ওভার পর আবার আঘাত আনেন এবাদত। টম ব্লুনডেলকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন। ২ উইকেটে ১৩৬ থেকে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাড়ায় ৫ উইকেটে ১৩৬ রান। লিড মাত্র ৬ রানের। এরপর দিনের বাকিটা সময় রাচিন রবিন্দ্রকে সাথে নিয়ে কোনো মতে দিনটার পার করেছে নিউজিল্যান্ড। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে কিউইদেনর সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৪৭ রান।
নিউজক্রিকেট২৪/আরএ
