নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাবা যোগরাজ সিং ছিলেন বেশ বদমেজাজি স্বভাবের মানুষ। লালিত ইচ্ছা পূরণে একবিন্দু পিছপা হতেও তার ছিলো বেজায় আপত্তি। স্বপ্ন যা দেখতেন, তা ফলাতেন। বাবার এই একরোখা স্বভাবের রোষানলে পড়ে যায় পরিবারের ছোট্ট যুবরাজ। রোলার স্কেটিং আর টেনিসটা দুর্দান্ত খেলতো ছেলেটা। রোলার স্কেটিং প্রতিযোগিতায় তো একটা পদকই বাগিয়ে এনেছিলো। তবে কাজে দেয়নি। বাড়িতে আসার পর পদকের সাথে স্বপ্নটাও ছুঁড়ে ফেলে দেন বাবা। মনস্থির করতে বলেন ব্যাট বলের খেলায়।
বাবার স্বপ্নপূরণে ব্যাট বল হাতে নেমে গেলেন ছোট্ট যুবরাজও। এরপরও বন্ধ হয়নি বাবার কড়া নিয়মের স্টিম রোলার। প্রচন্ড শীতের রাতে বালতিভর্তি পানি ঢেলে ছেলেকে উঠিয়ে দৌড়াতে নিয়ে যেতেন তিনি। রঞ্জিতে ভুল শট খেলে আউট হয়ে বাড়ি ফেরার পর বাবার দিক থেকে ধেঁয়ে এসেছিলো পানিভর্তি কাচের গ্লাস। অতটুকুন বয়সেই বাবা ছেলেকে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, জীবনটা ফুলের বিছানা নয়। পরিশ্রম করে ভুল শুধরে এগিয়ে যাও। স্বপ্নের সাথে আপোষ নয়। এরপর আর আপোষ করেননি যুবরাজও। বাবার থেকে অনুপ্রেরিত হয়ে মাঠে ঝড় তুলেছেন ব্যাট হাতে। প্রবল আক্রোশে স্রেফ ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছেন প্রতিপক্ষকে। অশ্রুবিন্দু আড়াল করে লড়েছেন জীবনের সাথে।
জীবনের মহাকাব্য যুবরাজ হয়ে আছেন এক অদম্য চরিত্র। দল থেকে কারণে কিংবা অকারণে তার বাদ পড়াটা ছিলো নিত্য ব্যাপার। বাদ পড়ে যতটা মন খারাপ করতেন, ফিরে আসতেন ঠিক তার দ্বিগুন বিক্রমে। প্রচন্ড জেদ, প্রবল আকাঙ্খা আর লালিত ইচ্ছাকে অনায়াসেই একবিন্দুতে করে ফেলতে পারতেন। এর জলজ্যান্ত প্রমাণ হয়ে আছে ২০১১ বিশ্বকাপ। মস্তিষ্কে ক্যান্সারের জীবানু নিয়ে অজিদের বিপক্ষে তার সেই হুংকারের দৃশ্যটা আজো হয়ে আছো তার পুরো জীবনেরই চিত্র। যুবরাজ তো এমনই। শুভ জন্মদিন জীবন মঞ্চের ‘অপরাজেয় যুবরাজ’।
