নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
তুষার ইমরান! বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের দুর্ভাগা এক ক্রিকেটারের নাম । ২০০৭ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর, গত দেড় যুগে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েও, দ্বিতীয়বার আর গায়ে জড়ানো হয়নি স্বপ্নের জাতীয় দলের জার্সি।

জাতীয় দলে নিজেকে মেলে ধরার পর্যাপ্ত সুযোগ না পেলেও,ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘রান মেশিন’ হয়েই ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন গত গত ১৫ বছর। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেকে ‘ব্যাটারদের’ রাজার আসনে নিয়ে গেছেন। দেশের পক্ষে লংগার ভার্সনে সবচেয়ে বেশি রান ও সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক তিনি। অথচ ২০ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারটা শেষ হয়েছে ২৮ রানের আক্ষেপ নিয়ে! সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটের এই লিজেন্ড বিদায় বলেছেন ক্রিকেটকে। ইচ্ছা ছিল ১২ হাজার রান করে ক্রিকেট ছাড়বেন। তবে অভিশপ্ত চোটের কারণে সেটা আর হলো কই? ঘরোয়া ক্রিকেটের এই মাস্টার-ব্লাস্টারের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে হলো ১১, ৯৭২ রানে। আর মাত্র ২৮ রানের জন্য হলো না প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে ১২ হাজার রানের এলিট ক্লাবে নাম লেখানো। চোটের কাছে হার মেনে অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই ব্যাট-ফ্যাড তুলে রাখলেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।
অবসরের পর “নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরকে” দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে, কথা বলেছেন নিজের বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ার, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।
নিউজক্রিকেটঃ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরে গেলেন! আপনার কেন মনে হয়েছে অবসরের জন্য এটাই সেরা সময়? হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিশেষ কারন আছে কি?
তুষার ইমরানঃ সবধরনের ক্রিকেটকে একেবারে বিদায় বলিনি, শুধুমাত্র ঘরোয়া ক্রিকেটকে বিদায় বলেছি। সুযোগ হলে লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলবো। তাছাড়া আমি আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলাম এইবারের লিগ শেষে এই ইভেন্ট থেকে অবসরে যাবো। তবে বিদায়টা আমার মনের মতো হয়নি। কিছু অপ্রাপ্তির আক্ষেপ থেকে গেল। ইনজুরির কারণে বেশ কয়েকটি ম্যাচ মিস করেছি, আর এইবারের আসরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ীও খেলতে পারছিলাম না। মোটকথায় আমার সক্ষমতা ও অতিতের পরিসংখ্যানের সাথে তো একবারেই যায়না এইবারের পারফরম্যান্স। কারণ, আমি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কখনো এইভাবে টানা বীনা পারফর্মে ছিলাম না। তাছাড়া পারফর্ম না করতে পারলে, আগামী আসরে যে খেলার সুযোগ পাবো তারই তো কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই সবমিলিয়ে মনে হয়েছে এখনই আমার থামা উচিত। এটাই উপযুক্ত সময় বিদায়ের।
নিউজক্রিকেটঃ প্রায় দুই যুগ ধরে বাইশ গজে খেলে, এইভাবে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কতটুক কঠিন ছিল আপনার জন্য?
তুষার ইমরানঃ বিদায়টা সবসময় কঠিন। এইখানে গত ২০ বছর খেলেছি। তাই হঠাৎ এই জায়গা থেকে সরে আসতে কষ্ট তো হবেই। তবে এটাও খেলার একটি অংশ, সবাইকেই একটা নির্দিষ্ট সময় পর থামতে হয়। আমি মনে করি আমি উপযুক্ত একটা সময়েই বিদায় নিয়েছি। বিদায় নেওয়াটা কষ্টকর হলেও, এই ইভেন্টে আমি যা করে গেছি সেটা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া আমি বয়সকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যেভাবে খেলে গেছি এত বছর, নিঃসন্দেহে আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্য ক্রিকেটাররাও নিজের সামর্থ্য ও নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে খেলা চালিয়ে যাবে বয়সের কথা না ভেবেই।
নিউজক্রিকেটঃ ১২ হাজার রানের মাইলফলকের দারপ্রান্তে ছিলেন, আরেকটি মৌসুম খেলে অনন্য এই রেকর্ডটি নিজের নামের পাশে বসানো যেতো না?
তুষার ইমরানঃ আরেকটি মৌসুমের প্রয়োজন ছিল না তো! ইনজুরির কারনে ম্যাচ মিস না করলে, আর যে কয়টা ম্যাচ খেলেছি ওইগুলোতে সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে ১২ হাজার রান তো হয়েই যেতো। আর আরেকটা মৌসুমের কথা বলছেন? যেহেতু এইবারের আসরে ভাল করতে পারিনি, আগামী আসরে খেলার সুযোগ হবে কিনা তারই তো কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এই মাইলফলকের জন্য এতটা ভাবিনি। তবে হ্যাঁ, ১২০০০ রান করে যেতে পারলে বাড়তি আরেকটু প্রশান্তি পেতাম।
নিউজক্রিকেটঃ আপনাকে ঘরোয়া ক্রিকেটের রাজা বলা হয়।বয়সকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে রান করে যাচ্ছিলেন! দাপুটের সাথে এতবছর এইভাবে পারফর্ম করে যাওয়াটা কেমন উপভোগ করতেন?
তুষার ইমরানঃ পারফর্ম করতে পারলে সবসময় ভাল লাগে। আর বয়সের কথা বলছেন? আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারে কখনো বয়সকে প্রতিবান্ধক হিসেবে মনে করিনি । আমার নিজের প্রতি আস্থা ছিল, নিজের সক্ষমতার প্রতি ভরসা ছিল। আমি মনে করি নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে বয়স সেখানে কোন বাধা হতে পারেনা। আমি নিয়মিত রান পেয়েছি আর তাই জাতীয় দলের বাইরে থাকার সত্বেও খেলা উপভোগ করে এতবছর খেলা চালিয়ে গেছি। যদি ধারাবাহিকভাবে রান করতে ব্যর্থ হতাম, তাহলে ক্রিকেট ক্যারিয়ার এত লম্বা হতো না। নিয়মিত রান পাওয়াটা সবসময় উপভোগ করেছি এবং এখান থেকেই আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে এইটুক এসেছি।
নিউজক্রিকেটঃ টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আপনার আরো অনেক কিছুই দেয়ার ছিল। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফর্ম করেও দেশের জন্য খেলার সুযোগ পাননি, সুযোগ পাননি বলতে, কোন এক অজানা কারনে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে কতটুক আক্ষেপ কাজ করে?
তুষার ইমরানঃ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি দুটোই আছে। তবে হিসেব করতে গেলে অপ্রাপ্তি ও আক্ষেপের পরিমাণটা একটু বেশি। ২০০৭ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে গেলাম। হাল ছাড়িনি গত ১৫ বছরে, জাতীয় দলে ফেরত আসার লক্ষ্য নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে গেলাম প্রাণপণে। গত ১৫ বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে ভাল পারফর্ম করেও একবারের জন্য দলে ডাক পেলাম না, অথচ দেখুন এই সময়ের মধ্যে অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলে এসেছে। অথচ কোন এক অজানা কারণে এত এত রান করেও আমি আরেকটাবার সুযোগ পেলাম না। এই নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ তো থেকেই যায়। তবে প্রাপ্তিও আছে অনেক।হাল না ছেড়ে এতবছর খেলে গেলাম, রান পেয়েছি, অনেক গুলো শতক হাঁকিয়েছি, এগুলো আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে। তাছাড়া ঘরোয়া লিগে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক থেকে ক্রিকেট ছাড়ছি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই প্রাপ্তি গুলোও বিশেষ কিছু আমার জন্য।
নিউজক্রিকেটঃ আমরা কি তুষার ইমরানকে অন্য কোন ভূমিকায় আবারো মাঠে দেখবো? শুনেছি কোচিং পেশায় আসছেন? পেশাদার কোচ হয়ে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার ইচ্ছে কতটুক?
তুষার ইমরানঃ আমি অলরেডি কোচিং করাচ্ছি। শেখ জামাল ক্লাবের একাডেমিতে কোচ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি ক্রিকেটের মানুষ, এতবছর এই জগতেই ছিলাম, তাই ক্রিকেট ছেড়ে থাকাটা কঠিন আমার জন্য। একজন পেশাদার কোচ হয়ে এই ক্রিকেট নিয়েই থাকতে চাই। এখন শেখ জামালে কোচিং করাচ্ছি, আগামীতে যদি ভাল কোথাও সুযোগ হয়, আমি প্রস্তুত।
নিউজক্রিকেটঃ আপনার সাবেক সতীর্থদের অনেকেই এই মুহুর্তে ক্রিকেট বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন। সুযোগ পেলে বোর্ডে কাজ করার ইচ্ছা আছে?
তুষার ইমরানঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। যদি আমাকে যোগ্য মনে করে বোর্ড কোন দায়িত্বে নিয়ে আসে, তাহলে আমি অবশ্যই প্রাণপণ চেষ্টা করবো আস্থার প্রতিদান দিতে। আমি আগেও বলেছি যদি ভাল কোথাও সুযোগ হয় কাজ করার, আমি সবসময় প্রস্তুত।
নিউজক্রিকেটঃ ৪৬ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আপনার কাছে সবচাইতে সেরা ম্যাচ কোনটি? যে ম্যাচের স্মৃতি আজীবন মনে থাকবে…
তুষার ইমরানঃ কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়, আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও সেরা ম্যাচ। ঐতিহাসিক ওই জয়ের সাক্ষী হতে পেরে, এবং ওই ম্যাচে দলের জয়ে কিছুটা হলেও ভুমিকা রাখতে পেরে নিজেকে এখনো অনেক ভাগ্যবান মনে করি। দেখুন, এই মুহুর্তে ওয়ানডে ফরম্যাট আমরা মোটামুটি বড় দল, কিন্তু ওই সময়টায় (২০০৫) টেনেটুনে একটি জয়ও আমাদের জন্য ছিল অনেক বড় কিছু। ওই সময়টায় বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ওদের মাটিতে এইভাবে হারিয়ে দেওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। সবমিলিয়ে অজিদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক জয়টি আমার কাছে সবসময় সেরা ম্যাচ আমার ক্যারিয়ারের।
নিউজক্রিকেটঃ আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটকে তো নিজ চোখে অনেক সময় ধরে দেখলেন? কোথায় কোথায় উন্নতির জায়গা ও ঘাটতি দেখছেন? এই ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কি?
তুষার ইমরানঃ ভাল মানের ক্রিকেটার তৈরি ও পাইপলাইন মজবুত করতে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরো গুরুত্বসহকারে নজর দেওয়া উচিত আমাদের। আমি সবার প্রথমে চাইবো জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলুক। কারণ, তরুন ক্রিকেটাররা যখন লিগে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সাথে ড্রেসিংরুম সেয়ার করবে, মাঠে একসাথে খেলবে, তখন তারা অনেক কিছু জানবে, বুঝবে, শিখবে।এটি তরুনলদের আত্মবিশ্বাসী করতে বড় ভমিকা পালন করবে। আর ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি স্পোর্টিং উইকেট চাইবো। তাহলে সবাই নিজেকে প্রমানের সুযোগ পাবে।
নিউজক্রিকেটঃ আমাদের দেশে তরুনরা প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই খেঁই হারিয়ে ফেলছে। ওদের জন্য কোন পরামর্শ বা বার্তা দেওয়ার আছে?
তুষার ইমরানঃ ডিসিপ্লিন! আমাদের ডিসিপ্লিন এর জায়গাটা নিয়ে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। একজন নতুন ক্রিকেটারের জন্য ক্যারিয়ারের শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওই সময়টায় তার সম্পূর্ণ ফোকাস মাঠে ও খেলাধুলায় থাকা উচিত। ঠিক এই জিনিস গুলো নিশ্চিত করতে ডিসিপ্লিন ম্যান্টেইন করার কোন বিকল্প নেই। তরুণ অনেকেই এসে ফ্লপ হয়ে আবারো জায়গা হারাচ্ছে! আমি মনে করি নিয়মকানুনের পাশাপাশি ওদের পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগে,হুটহাট অভিষেক না করানো উচিত। দেখুন ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটো ভিন্ন। আকাশ-পাতাল ব্যবধান উভয়ের মধ্যে। তাই একজন ক্রিকেটারকে পরিপক্ব হওয়ার সুযোগ না দিয়ে যদি হুটহাট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপে ফেলে দেন, তবে সেই চাপ সামলাতে না পেরে অনেকের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যায়। নিজেকে দিয়েই আমি উদাহরণ দিচ্ছি, আমার অভিষেক হয়েছে ১৯-২০ বছরে। তখন আমি কতটুকুই বা পরিপক্ব ছিলাম? নিজেকে প্রমাণ করার মতো অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যও ছিল না। এরপর সেই যে ২০০৭ সালে বাদ পড়লাম, এত এত রান করেও গত ১৫ বছরে আর ফেরা হলো না। এইভাবে অনেক তরুণ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়েছে, আগামীতেও হবে। তাই আমি মনে করি তরুণদের ক্ষেত্রে ডিসিপ্লিন ও অভিষেকে আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিৎ আমাদের।
নিউজক্রিকেটঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আপনার মুল্যবান সময় দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য।
তুসার ইমরানঃ আপনাদেরও ধন্যবাদ। আপনাদের জন্যও শুভকামনা রইলো।

উল্লেখ্য, তুষার ইমরানের প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০০১ সালে। একই বছরই সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো এই ব্যাটসম্যান ১৮২ ম্যাচে ৩০৭ ইনিংস ব্যাট করে রান তুলেছেন ১১,৯৭২! সাথে রয়েছে ৩২টি সেঞ্চুরি ও ৬৩টি টি ফিফটি। তুষার ব্যাতিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটার ১০ হাজার রানও ছুঁতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে গত ১৫ বছর নিয়মিত রান করে গেলেও কোন এক অজানা কারনে নির্বাচকদের সুনজরে আসতে পারেননি তুষার। যার কারণে জাতীয় দলের হয়ে ৪১ ওয়ানডে আর ৫ টেস্টে খেলেই ২০০৭ সালে থেমে গেছে তুষারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। গত ১৫ বছর লংগার ভার্ষনের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুরি ফুটিয়েও থেমে যাওয়া ক্যারিয়ারের চাকা সচল করতে পারেননি এই ক্রিকেটার। ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর কিউয়ীদের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে খেলে বাদ পড়ার পর আর কখনো ডাক পাননি জাতীয় দলে। ১৫ বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করেও জাতীয় দলে ফিরতে না পারার আক্ষেপ ও বিশাল দীর্ঘশ্বাসে ব্যাট-ফ্যাড ছেড়ে এখানেই হাল ছেড়ে দিলেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের এই মাস্টার-ব্লাস্টার।
