নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বিশ্বকাপ তরুণদের মঞ্চ। এখানে থাকে নিজেকে বিশ্ব ময়দানে তুলে ধরার সুযোগ। কিন্তু টাইগার শিবিরে তারুণ্যের শক্তি নিয়ে শুধু আক্ষেপ। এ যেন এক মরীচিকার নাম হয়ে আছে। লিটন দাস, সৌম্য সরকাররা হতাশা উপহার দিয়েছেন। অন্যদিকে একেবারেই নতুন মুখ হিসেবে বিশ্বকাপ ময়দানে অভিষেক হওয়া শামীম পাটোয়ারি, নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসানরাও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। আবার তাদের ঠিকঠাক ব্যবহার করা নিয়েও প্রশ্ন আছে! বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকা টিম ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা, কোচরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তারা নিজেরাও হতাশ, যাদের ওপর আস্থা রেখেছেন তারা যে তার প্রতিদান দিতে পারেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে সর্বক্ষণ থাকা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘খুব অদ্ভুত লাগে যখন দল নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারি না। সাকিব, মুশফিকদের সময় শেষ হয়ে আসছে। কিন্তু দিন দিন চিন্তা বাড়ছে ওদের জায়গা পূরণ করবে কারা। এই বিশ্বকাপেই দেখেন আমার কাছে তরুণদের নিয়ে বলার মতো কোনো ভাষাই নেই। এমন একটা পরিস্থিতি না পারছি ফেলে দিতে, না পারছি রেখে দিতে। যে কারণে কোনো মন্তব্য করা বেশ কঠিন হয়ে গেছে। যদি ওরা নিজেরা না বোঝে আমরাতো আর মাঠে গিয়ে খেলে দিবো না।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের তরুণ শামীম হোসেন পাটোয়ারীর কথাই ধরা যাক। দুর্দান্ত ফিল্ডার, কব্জির জোরও কম নয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য আদর্শ ক্রিকেটার না বলে উপায় কী! তাকে জায়গা দিতে বিশ্বকাপ দলে জায়গা দিতে উপেক্ষা করা হয়েছে অভিজ্ঞ কোনো ক্রিকেটারকে। কিন্তু তার কাছ থেকে পাওয়া ফলাফলটা শূন্য! গোটা দলের ব্যর্থতার মাঝে ব্যতিক্রম হতে পারেননি ২১ বছর বয়সী শামীম। এই ব্যাটার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে করেছেন ১১ রান। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ দল অলআউট হয় মাত্র ৮৪ রানে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তার সুযোগ ছিল নিজেকে প্রমাণ করার।
কিন্তু সেখানেও ১৯ করে ফিরে যান সাজঘরে। এই ম্যাচে টাইগাররা অলআউট হয় ৭৩ রানে। শামীমের এই বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা হতো কিনা সেটিও ছিল প্রশ্ন। সাইফুদ্দিন, নুরুল হাসান সোহান ও সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে পড়ায় তার সুযোগ আসে।
কিন্তু বড়দের বিশ্বকাপ মাতানোর জন্য প্রত্যয়ী থাকা এই তরুণ ক্রিকেটার প্রমাণ করতে পারেননি নিজেকে। অন্যদিকে স্পিন অল রাউন্ডার মেহেদী হাসান বল হাতে ৮ উইকেট নিলেও ৮ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৫২ রান। দলের বিপর্যয়ে নিজেকে মেলে ধরতে হয়েছেন ব্যর্থ। বাছাই পর্বে স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) বিপক্ষে তিনি করেন তিন ম্যাচে ১৫ রান। বল হাতে সব মিলিয়ে এই তিন দলের বিপক্ষে তার শিকার ৫ উইকেট। শুরুটা দারুণ হয়েছিল তার ম্যাচ শেরা শিকার ১৯ রানে ৩টি উইকেট।
কিন্তু সুপার টুয়েলভে ৫ ম্যাচে তার শিকার মাত্র ৩টি। এছাড়াও স্পিনার নাসুমকে একাদশে খেলানো নিয়েও টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে দেখা গেছে সমন্বয়হীনতা। তিন ম্যাচে ৪ উইকেট ও ব্যাট হাতে করেছেন ১৯ রান। এই তিন তরুণের ব্যর্থতার সঙ্গে তাদের শক্তিব্যবহার করতে না পারার দায়টা যাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টের ওপরই। এ বিষয়ে বিশ্বকাপ দলে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রশ্ন থাকতে পারে আমরা ওদের ব্যবহার করতে পেরেছি কিনা! কিন্তু একাদশ সাজাতে অবশ্যই দলের সেরা ক্রিকেটারদেরই সুযোগ দিতে হয়। তরুণদের রাখা হয় দলের যে কোনো প্রয়োজনে ভূমিকা রাখতে। আমরা যে ওদের সুযোগ দেইনি তাও নয়। এর মধ্যে নাসুম, মেহেদী বল হাতে যতটা সম্ভব নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে। কিন্তু শামীমকে নিয়ে হতাশ হয়েছি। দু’টি ম্যাচে সুযোগ পেয়েও সে কাজে লাগাতে পারেনি। এটা হতে পারে দলের টানা ব্যর্থতার প্রেশারটা ওর ওপর পড়েছে।
তবে তরুণদের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকে জান দিয়ে তারা খেলবে। সেটি আমাদের চোখে পড়েনি। আশা করি তারা নিজেদের প্রমাণ করবে। যে সুযোগ পাবে সেগুলো কাজে লাগাবে।’
