বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার-১২’তে যেতে চায় ওমান

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

দলে পূর্ণ পেশাদার ক্রিকেটার নেই একজনও। ৯টা-৫টা অন্য চাকরি সামলেই ক্রিকেট খেলতে হয় সবাইকে। অনেক সময় ক্যাম্প কিংবা টুর্নামেন্টের সময়ও ছুটি মেলে না। বোর্ডের সঙ্গে আধা-পেশাদার চুক্তি আছে মাত্র কয়েকজনের। বাকিদের সেই নিশ্চয়তাটুকুও নেই। তবু প্রাণের খোরাক মেটাতে চলছে ক্রিকেটের আঙিনায় তাদের স্বপ্নের চাষ। পরিশ্রম আর ত্যাগের ফসলও মিলছে। আজ তারা মাঠে নামছে বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথে এগিয়ে যেতে।

ওমান দলটির প্রায় সবার জন্য ক্রিকেটের লড়াই তাদের জীবন যুদ্ধেরই অংশ। আজকের দিনটি হতে পারে তাদের সবার জীবনে, ওমান ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। দিনের প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে স্কটল্যান্ড যদি প্রত্যাশিত জয় পেয়ে যায়, পরের ম্যাচে বাংলাদেশকে হারাতে পারলেই ওমান নিশ্চিত করে ফেলবে এবারের আসরের মূল পর্বে খেলা।

অনেক বাধা, অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে, লড়াইয়ের অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তবেই আজকের পর্যায়ে এসেছে ওমান। তাদের ক্রিকেট দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের ওপর, সেখানেও প্রাধান্য মূলত উপমহাদেশের। জাতীয় দলের প্রায় সবাই ভারতীয় ও পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত। অন্যান্য পর্যায়েও তাদেরই প্রধান্য। স্থানীয় লিগে বাংলাদেশি ও শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূতও আছে বেশ এখন।

সম্পূর্ণ প্রবাসীদের ওপর নির্ভর করতে হয় বলেই এখনও পুরো পেশাদার হতে পারছে না ওমান ক্রিকেট। কিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে এক ধরনের চুক্তি আছে ওমান ক্রিকেটে, যেটাকে তারা বলেন ‘সেমি-হাইব্রিড’ চুক্তি। খেলার সময় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে বিনা বেতনে ছুটি মেলে তাদের, ওই সময় বেতন দেয় ওমান ক্রিকেট।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে তৃনমূলে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তবে কোভিড পরিস্থিতিতে তা থমকে যায় অনেকটাই। স্কুল পর্যায়ে ক্রিকেট কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। সেটিও মূলত ভারতীয় ও পাকিস্তানি স্কুলগুলোতেই। সরকারী কিছু স্কুলেও শুরু হয়েছে ক্রিকেট কার্যক্রম।

জাতীয় দলকে কোচিং করানোর পাশাপাশি মাঠের বাইরে পরিকল্পনা ও কাঠামো গড়ে ওমান ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার আড়ালের নায়ক দুলিপ মেন্ডিস। সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক এখন ওমান ক্রিকেটের প্রবাদ পুরুষ। তার তত্ত্বাবধানে গত ১০ বছরে বিশ্ব ক্রিকেটের নিচু পর্যায় থেকে আজ বিশ্বমঞ্চে এমন আলোচিত নাম ওমান।

ওমান ক্রিকেটের সেই উঠে আসার লড়াইয়ের গল্প শোনালেন এখন জাতীয় দলের কোচের পাশাপাশি ওমানে চিফ ডেভেলপমেন্ট অফিসারের দায়িত্ব পালন করা মেন্ডিস। এই দলটার শক্তির জায়গাও তুলে ধরলেন তিনি।
“আমরা ডিভিশন ফাইভ দিয়ে শুরু করেছিলাম একটা সময়। তার প্রতিটি ধাপ বেয়ে এগিয়ে গেছি। অনেক সময় হোঁচট খেয়েছি, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছি, এখনকার টেস্ট দল আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছি, ওয়ানডে মর্যাদা পেয়েছি। এবার দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছি।”

“দারুণ অলরাউন্ড দল আমাদের। খুব ভালো তিনজন ফাস্ট বোলার আছে, সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে সেরা পেসার ওরা। দারুণ কিছু অলরাউন্ডার আছে। স্পিনে খুব ভালো বাঁহাতি স্পিনার আছে, অফ স্পিনার আছে এবং উইকেট শিকারি একজন লেগ স্পিনার আছে।”

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »