নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাংলাদেশ ক্রিকেট তার আগমন ধূমকেতুর মতো । যেন বাংলার ক্রিকেটের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছিলেন । গতির ঝড় তুলে বিশ্ববাসীকে জানান দিয়েছিলেন আমি আসছি ক্রিকেট দুনিয়া কাপতে । দেশকে তিনি দিয়েছেন একের পর এক জয়, শিখিয়েছেন হার না মানার মন্ত্র। সময় যত গড়িয়েছে তাকে ইঞ্জুরি বারবার কাবু করতে চেয়েছে, কিন্তু তিনি তো হার মানার পাত্র না, তিনি প্রতিবারই উঠে দাড়িয়েছেন, লড়াই চালিয়ে গেছেন। হ্যা ঠিকই ধরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজার কথাই বলছিলাম।
ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির ১৬বছরে দুই হাঁটু মিলিয়ে ৭বার অপারেশন, দুই অ্যাংকেল মিলিয়ে ১০বার ডাক্তারের ছুরির নিচে নিজেকে সপে দিয়েছেন। প্রতি ম্যাচ শেষে সিরিঞ্জ দিয়ে টেনে বের করতে হয় হাঁটুতে জমা বিষাক্ত রষ। ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে নামতে পারেন না বিছানা থেকে। হাঁটু দুটি কয়েকবার ভাঁজ ও সোজা করতে হয়। তারপরেই শুরু হয় দিন। ডাক্তাররা বলেছেন এভাবে ক্রিকেট চালিয়ে গেলে এক সময়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবেন। কিন্তু দমে যাননি, সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নেমে পড়েন বল হাতে, লাল সবুজের জার্সি গায়ে আরেকটি বল করতে ।
বাঘের মতো ছটে চলা। এ যেন এক অপ্রতিরোধ্য বীর সেনার গল্প। যার জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে সাহসিকতা, দেশপ্রেম আর অদম্য এক যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি। শত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে লাল সবুজ পতাকার সম্মান, হাসি-কান্নার ভার যার কাঁধে, ম্যাচ হারলে যিনি কাঁদেন নিরব সবার আড়ালে। যাতে তরুন ক্রিকেটাররা হতাশ না হয়। নবীন ক্রিকেটারদের বুকের মধ্যে আগলে রাখেন ভালোবাসা দিয়ে বটবৃক্ষের মতো। ছোট ক্রিকেটারদের কাছে তিনি একজন অভিভাবক।ভক্তগোষ্ঠী মাঠে ঢুকে পড়লেও বুকে আশ্রয় দেন পরম মমতায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তী, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো টাইগার ক্রিকেটের সোনালী দিনের বংশীবাদক এবং লড়াকু সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়েও যিনি বল করে যান। দলকে নেতৃত্ব দেন সামনে থেকে। নিজের কষ্ট, ব্যথা নিজের মধ্যে রেখে লড়ে যান দেশের জন্য ক্রিকেট যুদ্ধে।
৫ই অক্টোবর ১৯৮৩সালে নড়াইল জেলায় গোলাম মুর্তজা ও হামিদা রহমান বলার ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বোলিং স্তম্ভ মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ জাতীয় দল ছাড়া এশিয়া একাদশে একদিনের আন্তর্জাতিক দলে খেলেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বাকালের সেরা অধিনায়ক তিনি।
তাঁর হাত ধরেই ক্রিকেটের সোনালী সময় পার করছে বাংলাদেশ। মাশরাফিই বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি কোনো লিস্ট-এ ম্যাচ না খেলেই সরাসরি জাতীয় দলের মূল দলে জায়গা পেয়েছেন। ২০১৫ বিশ্বকাপে দলকে নিয়ে গিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। সেরা সাফল্য আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সেমি-ফাইনাল। তার হাত ধরেই পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ, ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা, উইন্ডিজদের সাথে সিরিজ জয় করেছে।
জাতীয় দলে প্রবেশ করেন টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমে। ৮ই নভেম্বর, ২০০১সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় টেস্টে। ইনজুরির বিষাক্ত ছোবলে টেস্ট ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে পারেননি। ২০০৯ সালে উইন্ডিজ দলের বিপক্ষে ইনজুরি হয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান। ৩৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলে দুটি অর্ধ-শত সহ ৭৯৭রান নেন। ৭৮টি উইকেট নেন, ক্যারিয়ার সেরা ফিগার ৬০রানে ৪উইকেট। ২৩শে নভেম্বর ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় ওডিআইতে। এখনো দারুণ দক্ষতার সাথে খেলে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই মহা মানুষ।
এই পর্যন্ত তিনি ১৭১টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১টি অর্ধ-শত সহ ১৫৪০রান এবং ২২২উইকেট নিয়েছে। সেরা বোলিং ফিগার ২৬রানে ৬উইকেট। টি-টুয়েন্টিতেও এই জিম্বাবুয়ের সাথে ২০০৬সালের নভেম্বরে অভিষেক ঘটে। টেস্টের মতো টি-টোয়েন্টিকেও বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন এই মহা তারকা ২০১৭ সালের ৬এপ্রিল শ্রীলংকার সাথে ম্যাচ খেলে। ৫২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৩৬৬রান এবং ৩৯উইকেট নিয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং ফিগার ১৯রানে ৪উইকেট। অনেকে ভালোবেসে ম্যাশ বলে ডাকেন। ক্রিকেট জীবনে সবচেয়ে বড় দুঃখ চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইনজুরির জন্য ঘরের মাঠে ২০১১সালের বিশ্বকাপ খেলতে না পারা। এছাড়া সোনায় মোড়ানো মাশরাফির ক্রিকেটীয় জীবন।
১৯৮৩ সালের এই দিনে পৃথিবীর বুক আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। আজ তার জন্মদিন। নিউজ ক্রিকেট ২৪ এর পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন অধিনায়ক।
নিউজ ক্রিকেট / সুফিয়ান
