নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
আজ সন্ধ্যা ৬ টায় মিরপুরে ৫ ম্যাচ টি টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ এবং অষ্ট্রেলিয়া। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে এবং টেস্টে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেলেও টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তাই এই সিরিজে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাসের প্রথম জয়টি তুলে নিতে চাইবে বাংলাদেশ।
বিশ্ব ক্রিকেটে পরাশক্তির দল অষ্ট্রেলিয়া। যার কারনে তুলনামূলক কম শক্তিশালী দল গুলোর বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বারাবরই অনিহা রয়েছে তাদের। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনে নানা তালবাহানা দেখায় দলটি। এই ফর্মেটে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দেখা ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে। ২০০৭-২০২১ এই ১৪ বছর আগে দু,দল মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে নি অষ্ট্রেলিয়া। চলতি সিরিজ দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে মাত্র ৪ টি। ২০০৭, ২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ২০০৭ থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ বছরে মোট দেখা ৪ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এই সিরিজে এক সাথেই খেলবে ৫ টি ম্যাচ। তাই গত ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হলে এই সিরিজকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে বাংলাদেশকে। যেহেতু দলের সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তামিম, মুশফিকরা নেই এই সিরিজে তাই চ্যালেঞ্জ জিততে হলে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের তরুন খেলোয়াড়দের।
২০০৫ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে সেই সময়ের উড়তে থাকা দলটাকে মাটিতে নামিয়ে এনেছিলেন আশরাফুল নামের এক তরুন। তাকে সাপোর্ট করেছিলেন মাশরাফি, আফতাব, হাবিবুলরা। ২০১৭ সালে সাদা পোশাকে অষ্ট্রেলিয়াকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন তরুন মিরাজ, তাইজুলরা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল।
২০২১ একটা পরিনত ক্রিকেট দল হয়েও যদি অষ্ট্রেলিয়াকে টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে হারাতে না পারে তবে সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের আক্ষেপ আরও বাড়াবে। সৌম্য, নাঈম, আফিফ, মোস্তাফিজ, সাইফুদ্দিন, শরিফুল, সামীমদের হাত ধরে আসুক সেই সাফল্য। ওদেরকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিক সাকিব আল হাসান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মত সিনিয়র পারসন। অষ্ট্রেলিয়া দূর্গ ভেদ হোক এবারই। ওয়ানডে, টেস্টের পর এবার টি টোয়েন্টি ক্রিকেটেও জয়ের বন্দরে নোঙর করুক টিম বাংলাদেশ।
এক নজরে দেখে আসি আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি তে অষ্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়া সেই চার ম্যাচের পরিসংখ্যান।
১। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৭, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
স্কোর বাংলাদেশ ১২৩/৮(২০)
অষ্ট্রেলিয়া ১২৪/১(১৩.৫)।
কেপ টাউনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারে নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সেদিন অষ্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যাবধানে হেরেছিল।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে জয়ী।
২। ৫ মে, ২০১০, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
অষ্ট্রেলিয়া ১৪১/৭(২০)/ বাংলাদেশ ১১৪/১০(১৮.৪)। বার্বাডোজের সেই ম্যাচে অষ্ট্রেলিয়াকে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ১২.৫ ওভারে মাত্র ৬৫ রানেই অষ্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। নেপথ্যে ছিলেন মাশরাফি, রাজ্জাক এবং সাকিব। পরের জুটিতে অবশ্য অষ্ট্রেলিয়া ৭৪ রান তুলে ফেলে। বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের খারাপ করায় ম্যাচ হেরেছিল।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ২৭ রানে জয়।
৩। ১ এপ্রিল, ২০১৪, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
স্কোর বাংলাদেশ ১৫৩/৫(২০) / অষ্ট্রেলিয়া ১৫৮/৩(১৭.৩)। মিরপুরে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ওপেনার ব্যর্থ হলে দাপুটে ব্যাটিং করেন সাকিব, মুশফিক। তাদের ১১২ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। কিন্তু অষ্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা আরও ভালো ব্যাটিং করে জয় তুলে নেয়।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।
৪। ২১ মার্চ, ২০১৬, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
স্কোর বাংলাদেশ ১৫৬/৫(২০) / অষ্ট্রেলিয়া ১৫৭/৭(১৮.৩)। বেঙ্গালুরুতে ব্যাটে বলে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে জেতার জন্য বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে অজিদের। বিশেষ করে সাকিব, মোস্তাফিজের বিপক্ষে।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী।
শেষ ম্যাচের ফলাফল অনুযায়ী এই সিরিজে আশা দেখতেই পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আশা করি তিন বিভাগেই প্রতিরোধ গড়বে সাকিব, রিয়াদ, সৌম্যরা। টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট দল বড় দল বলে কিছু নেই। দলগতভাবে যে দল ভালো খেলবে তারাই জয়ের হাসি হাসবে। টাইগার ভক্তদের প্রত্যাশা জয় হবে বাংলাদেশের।
নিউজক্রিকেট/ রাসেল।
