ডমিঙ্গোর বিকল্প নিয়ে ভাবছে না বিসিবি-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

 

কোচ হিসাবে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক সিরিজে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গা। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের বিবর্ণ পারফরম্যান্সের জন্য সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। প্রতিটা ক্রিকেট প্রেমি থেকে ক্রিড়া বিশ্লেষক সবার কাছেই ফুটে উঠছে ডোমিঙ্গোর ব্যর্থতা। চারদিক থেকে একের পর এক প্রশ্ন ভেসে আসছে ডোমিঙ্গার বিপক্ষে। ডোমিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তিও প্রায় শেষের দিকে। তাই অনেকেরই প্রশ্ন তবে কি বাদ পরতে যাচ্ছেন রাসেল ডোমিঙ্গা। কিন্তু বিসিবি বসের মুখে উল্টো শুর। গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলনে ডোমিঙ্গার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

একজন ট্যাকনিক্যাল এবং মাস্টার মাইন্ড কোচ একটা দলের চিত্রটাই পাল্টে দিতে পারে। প্রতিটা খেলোয়ারের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারেন একজন কোচ। নৃত্য নতুন গেম প্লানিং এবং নয়া কৌশলে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে পারেন। একজন খেলোয়াড় এর ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে ফিরে আসার পরমর্শ দিয়ে থাকেন। একজন সফল কোচ সকল প্রকার চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারেন।

২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর হেড কোচ স্টিভ রোডস এর বিদায়ের পর নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন ডোমিঙ্গা। ডোমিঙ্গা দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ দলের সাফল্য গ্রাপ নিম্নমুখী হতে থাকে। নবাগত আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। তার অধীনে জিম্বাবুয়ে ব্যাতীত আর কোনো টিমের বিপক্ষে টেস্ট জিততে পারে নি বাংলাদেশ। আন্তার্জতিক ক্রিকেটে সর্বোশেষ টানা ১০ ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। কোচ হিসাবে তার চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতোকিছুর পরেও এখনই কোচ বদলানোর চিন্তা করছে না বিসিবি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, “‘এখানে ২-৩টা ব্যাপার আছে। প্রথম কথা হচ্ছে আমরা তার সাথে চুক্তি নবায়ন করব কি করব না। এটা একটা ইস্যু। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যদি আমরা নবায়ন না করি তাহলে বিকল্প একটা থাকতে হবে। থাকতে হবে তো? ব্যাক আপ কিছু একটা থাকতে হবে। এই কোভিড পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের আগে এমন কোন কিছু আমাদের মাথায় নেই। এটাই বাস্তবতা।’

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে টি-২০ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের আগেই ডমিঙ্গোর সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি শেষ হয়ে যাবে। তাকে বাদ দেওয়ার আগে খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফ নিয়ে বসতে চায় বিসিবি। দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় শুধুমাত্র কোচিং স্টাফদেরকে এখনই দায় দিতে চান না বিসিবি সভাপতি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্রিকেটারদের সাথেও বসা দরকার বলে মনে করেন তিনি। ডমিঙ্গোর সাথে ব্যাটিং কোচ জন লুইসও যে থাকছেন সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত টেস্ট করার সুযোগই পাচ্ছি না। আমি যদি বলি আমার ব্যাটিং খারাপ হলো কিভাবে? ও (জন লুইস) তো আমাকে বলবে, ‘দেখো, কি শট খেলেছে। এ সময়ে কেউ এই শট খেলে। এখন তোমার খেলোয়াড়দেরকে কি আমার এটা শিখিয়ে দিতে হবে যে এটা খেলতে হবে না এই সময়ে গিয়ে?’ তখন আমি বলব কী?”

“আগে তো বুঝতে হবে সমস্যাটা কোথায়। কাজেই এটা খেলোয়াড়দের সাথেও বসা দরকার। আমি তো খেলোয়াড়দের সাথেও বসতে পারছি না। আমার তো আসলে সবাইকে নিয়ে বসতে হবে। আমি তো বসতেই পারছি না কোভিডের জন্য। কি এক বায়োবাবল করে রেখেছে, ঢুকতে দেয় না। আমাকেও ঢুকতে দেয় না”

নিউজক্রিকেট /রাসেল।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »