কোচ শূন্য জাতীয় দল, বরাবরের মতোই অবহেলিত স্থানীয় কোচরা

ডেস্ক রিপোর্ট »

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন “আমরা কুকুর ধরি , ঠাকুর ছাড়িয়া” । ববিন্দ্রনাথের এই উক্তির সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটের মিল খুঁজে পেতে আপনাকে বেশী কষ্ট করতে হবে না । বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে তাকালে আপনার মনে হবে রবি ঠাকুর যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দেখেই কথাটি বলেছিলেন।

 

 

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন শ্রীলংকা সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত । কিন্তু দলের সাথে নেই কোচিং প্যানেলের বড় অংশ । হেড কোচ, এবং ব্যাটিং কোচ ছাড়া সকলেই রয়েছেন ছুটিতে। এমনটা নতুন নয় এদেশের ক্রিকেটে,মাঝেমাঝেই দেখা যায় এমন চিত্র, এর কারণ জিজ্ঞেস করলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলবে বিদেশী কোচদের উপর অধিক ভরসা। বড় বড় দলগুলো যখন স্থানীয় কোচদের শরনাপন্ন হতে সফলতার মুখ দেখছে সেই সময়েও বিদেশী কোচদের পিছে হন্যে হয়ে ঘুরছে বিসিবি। যে কারনে বছরের অধিকাংশ সময়ই কোচিং প্যানেল থাকে শূন্য ।

 

বাংলাদেশের স্থানীয় কোচরা ঘরোয়া লীগ, বিপিএলে কোচিং করাচ্ছেন দাপটের সাথে , বিপিএলে সালাউদ্দিন, সুজন, মিজনরা পিছনে ফেলছেন বড় বড় বিদেশী কোচদের। তবুও তাদের বেলায় উদাসীন বিসিবি । স্থায়ী দায়িত্ব তো দূরে থাক বিপদে না পড়লে স্থানীয় কোচদের খোঁজও খুব একটা নেয়না বিসিবি, এমন আফসোস সুজন, সালাউদ্দিনদের কণ্ঠে নিয়মিতই শোনা যায় ।

 

 

বিদেশি কোচরা সিরিজ শেষেই ছুটে চলেন বাড়ির পথে, সেই সময় কোচ শূন্য থেকে দল, অনুশীলন করতে হয় কোচ ছাড়াই। সেই সময়ে ক্রিকেটাররা শরনাপন্ন হন দেশীয় কোচদের। আবার ক্রিকেটাররা ফর্ম হীনতায় ভুগছে তারা ঠিকই ছুটে যায় সালাউদ্দিন, সুজনদের কাছে। তবুও বিসিবি তাদের বেলায় উদাসীন। দেশীয় ভালো মানের কোচ থাকার পরও তারা ছুটে বিদেশী কোচদের পিছনে ।

 

ভারত , পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া যখন স্থানীয় কোচদের দায়িত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে নিজেদের ক্রিকেটকে তখন আমরা কোচ শূন্য দল নিয়ে ছুটি সিরিজ খেলতে । একের পর এক ব্যর্থতার পরও টনক নড়ছে না বিসিবির। কবে পারবে বিসিবি অতীতকে বিদায় বলে নতুন সময়ের সূচনা করতে?

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »