নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের জন্য ২১ সদস্যের প্রথমিক স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার শুভাগত হোম চৌধুরী। ৫ বছর পর ফেরা সাদা পোশাকে ফিরলেন শুভাগত। ২০১৬ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন শুভাগত। ৩৪ বছর বয়সী এ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে দলে দেখে চমকে গিয়েছেন অনেকেই। দীর্ঘ বিরতি শেষে শুভাগত কেন স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন তার ব্যাখ্যা দিলেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।
সংবাদ মাধ্যমে নান্নু বলেন, “শুভাগত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একজঅন ধারাবাহিক পারফর্মার। আমরা তাকে একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে নিয়েছি। কিন্তু তার অফ ব্রেক বোলিংটাও বেশ কার্যকরী যা আমাদের স্পিন বিভাগে একটি বাড়তি অপশন যোগ করেছে।”
শুভাগত হোম যখন নিজের সেরা সময় পার করছেন, ঠিক তখন জাতীয় দলের হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেনরা। অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসাবে সেই সময়ে রিয়াদ এবং নাসির ছিলেন নিজেদের সেরা ছন্দে। পরবর্তীতে চলে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং মেহেদি হাসান মিরাজ এর মতো তরুন তারকারা। টিম কম্বিনেশন হোক কিংবা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পরা যার কারনে শুভাগত ছিলেন স্লান হয়ে। একজন হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান হিসাবেই হোমের আগমন ছিলো। ২০১১ সালে জাতীয় দলে আসেন তিনি।তাকে নিয়ে স্বপ্নও ছিলো আকাশছোঁয়া। কিন্তু জাতীয় দলে এসে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে টেস্টে খেলেছেন ৮ টি। ২২.১৮ গড়ে ২৪৪ রান করেছেন। ব্যাট হাতে একটি অর্ধশত রানের ইনিংস রয়েছে তার। বল হাতে অফস্পিনে শিকার করেছেন ৮ উইকেট। ৪ ম্যাচ ওয়ানতে খেলে করেঋেন ৭০ রান। ৫ ম্যাচ টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে করেছেন ৩৫ রান। বল হাতে টি টোয়েন্টি তে ২ টি উইকেট রয়েছে তার। সর্বশেষ ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন শুভাগত হোম।
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেছেন তিনি। জাতীয় লীগ, বিসিএল, ডিপিএল, সব জায়গাতেই আলোচিত পারফরম্যান্স করে নিজেকে নিয়ে গেছেন শীর্ষ ক্রিকেটারদের কাতারে। করোনার পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি কাপে জেমকন খুলনার হয়ে অসাধারণ বোলিং করেন তিনি। তারপর সদ্য শুরু হওয়া জাতীয় লীগে (এনসিএল) ঢাকা বিভাগের হয়ে ব্যাটে-বলে দূর্দান্ত পারফর্ম করে ফের নির্বাচকদের নজরে এসেছেন এই তারকা। দ্বিতীয় রাউন্ডে ঢাকা বিভাগের হয়ে সিলেটের বিপক্ষে ব্যাট হাতে খেলেছেন ১১৪ রানের ইনিংস। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ছয়টি। অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে ২ ম্যাচে ১৬৩ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৭ উইকেট!
এমন পারফম্যান্স এর পর তাকে চূড়ান্ত স্কোয়াডে রাখা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যেহেতু এই সিরিজে চোটের কারনে রিয়াদকে পাওয়া যায় নি। তাই শুভাগত হতে পারেন দলের মিডেল অর্ডারের ভরসা। পাশাপাশি বল হাতেও জ্বলে উঠতে পারেন তিনি।
১২ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিমান ধরবে বাংলাদেশ। সেখানে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচের পর ২১ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত টেস্ট স্কোয়াড!
নিউজক্রিকেট /রাসেল।
