নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস দ্য কিং অফ স্পিড মাস্টার শোয়েব আখতার! শোয়েব আখতার মানেই প্রতিপক্ষের কাছে এক আতঙ্কের নাম! পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে বল হাতে অবিশ্বাস্য গতি, সুইং, রিভার্স সুইং, বাউন্স, ইয়র্কার কিংবা মারাত্মক স্লোয়ারে ব্যাটসম্যানকে নাস্তানাবুদ করছেন তিনি। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান এর স্টাম্প নিয়ে খেলা করতে উপভোগ করতেন শোয়েব আখতার। তার গতির সামনে অসহায় ছিলেন শচীন, লারা, শেবাগ, পন্টিংদের মতো তারকা ব্যাটসম্যানরা। সবকিছু মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বিখ্যাত রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস! এবার তারই নামে স্টিডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে!
রাওয়ালপিন্ডির দ্যা খান রিসার্স ল্যাবরেটারিস (কেআরএল) স্টেডিয়ামকে শোয়েব আখতারের নামে নামকরণ করা হয়েছে। জন্মস্থানে নিজের নামে স্টেডিয়ামের নামকরণ হওয়া নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ‘রাওয়ালপিণ্ডি এক্সপ্রেস’ খ্যাত এই তারকা ক্রিকেটার।
শোয়েবের নামে কেআরএল-এর নতুন করে নামকরণের পর টুইটে আবেগঘন পোস্ট করেন প্রাক্তন পাক পেসার। তিনি লিখেছেন, ‘এটা জানাতে আমি সম্মানিত এবং একইসঙ্গে গর্ববোধ করছি যে, রাওলপিণ্ডির কেআরএল স্টেডিয়ামের নতুন নামকরণ হয়েছে শোয়েব আখতার স্টেডিয়াম। আমি সাধারণত বাক্যহারা হই না। কিন্তু আজ আমি বাক্যহারা। সত্যি কথা বলতে, বছরের পর বছর সকলে আমাকে যে ভাবে ভালবেসেছে, সম্মান দেখিয়েছে, তার পর তাঁদের ধন্যবাদ জানানোর কোনও ভাষা আমি খুঁজে পাচ্ছি না।’
এমন অর্জনের পর শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শোয়েব আখতার! তিনও বলেন‘বছরের পর বছর ধরে সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি সবসময় পাকিস্তানের সেবায় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি আমাদের পতাকাকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেছি। এখনও প্রতিদিন আমি গর্বের সঙ্গে তারকা বুকে ধারণ করি।’
কেআরএল স্টেডিয়ামটি মূলত ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার কাজে ব্যবহৃত হয়। ৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামে বর্তমানে ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগের দল কেআরএল এফসির ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই মাঠে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটও খেলা হয়। খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ ক্রিকেট দলেরও এটা ঘরের মাঠ। ২০১৯ সালে কায়েদ-ই-আজম ট্রফির ম্যাচ আয়োজনের জন্য এই স্টেডিয়ামকে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
বিশ্বের সবথেকে দ্রুততম পেসার শোয়েব আখতার এর ক্রিকেট ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ।যদিও বিতর্কিত কাজ আর ইনজুরির জন্য তার ক্যারিয়ার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। কখনো অবৈধ বোলিং অ্যাকশন, কখনো ড্রাগ গ্রহণ, কখনো সতীর্থদের সাথে দুর্ব্যবহার কিংবা কখনো ইনজুরির কারণে বারবার দল থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়া একবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিপক্ষে প্রকাশ্যে নেতিবাচক কথা বলে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। তার পরেও ক্রিকেট ক্যারিয়ারে দূর্দান্ত সময় পার করেছেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে ৪৬ টেস্টে ১৭৮ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ১৬৩ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২৪৭ উইকেট। ১৫ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৯ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফর্মেট মিলিয়ে ২১৯ ম্যাচ খেলে মোট ৪৪৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সর্বোকালের সেরা উইকেট শিকারির তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন তিনি। পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেললে হয়তো ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুসদের কাছাকাছি থাকতেন শেয়েব আখতার।
