ক্রিকেট ক্যারিয়ারের আক্ষেপ ঘোচাতে চান দেশের প্রথম টেস্ট রেফারি

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে চলেছেন মোহাম্মদ নিয়ামুর রশিদ। আসন্ন বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ রেফারী হিসেবে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে তাঁর। আইসিসির এ্যালিট প্যানেলভূক্ত না হওয়ার পরেও কোভিডের কারণে এই সুযোগ পেতে যাচ্ছেন তিনি।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানো ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের সদস্য ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই ক্রিকেটার। এটাই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে ওয়ানডে ম্যাচই খেলেছেন মাত্র ২টি। কিন্তু টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি। তবে এ পর্যন্ত ৯ টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে এবাই প্রথম। এমনকি বাংলাদেশেরও প্রথম ম্যাচ রেফারি তিনি। নিজেকে তাই বেশ ভাগ্যবান মানছেন নিয়ামুর।
ক্যারিয়ারে টেস্ট ম্যাচ না খেলার আক্ষেপ ঘোচাতে চান ম্যাচ রেফারি হিসেবে অভিষেক দিয়ে।

এ প্রসঙ্গে নিয়ামুর বলে,”অনেক দিন থেকেই তো এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিলাম। নিজে টেস্ট খেলতে পারিনি, আক্ষেপ ছিল। সেটিই পূরণ করতে চেয়েছিলাম টেস্টে ম্যাচ রেফারি হয়ে। আমি মনে করি, আমার ক্রিকেট জীবন পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে এটি দিয়ে। যেটি বলছিলাম, ইতিহাস গড়ার সৌভাগ্য সবার হয় না। এখানে আমিই প্রথম। আর কেউ প্রথম হতে পারবে না, এটা কেউ কেড়ে নিতেও পারবে না। সেদিক থেকে আমি দারুণ ভাগ্যবান। বলার অপেক্ষা রাখে না, কতটা রোমাঞ্চিত আমি। যে স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিয়ে ম্যাচ রেফারি হয়েছিলাম, সেটি পূরণ হতে যাচ্ছে। নিজের স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচ রেফারি হিসেবে দেশেরও প্রথম আমি, অনেক বড় গর্বের ব্যাপার।”

নিয়ামুরের প্রত্যাশা তাঁর দেখানো পথেই একদিন শত ম্যাচে আম্পায়ারিং করা আম্পায়ার কিংবা ম্যাচ রেফারি পাবে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন,”আমাদের ক্রিকেটাররা যেমন একটু একটু করে এগিয়েছে, একটি-দুটি জয়, এরপর সিরিজ জয়, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনাল খেলেছে ক্রমে, তাতে ক্রিকেট বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, সেভাবে আমরাও আশা করি নিজেদের প্রমাণ করব। আমি এলিট প্যানেলে যেতে না পারি, এমন একটা মঞ্চ আমরা তৈরি করে দিতে চাই যেন এরপর বাংলাদেশের কেউ ১০০ টেস্টে ম্যাচ রেফারি বা আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।”

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »