নিউজ ডেস্ক »
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান। সেবার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৩৯ রানের টার্গেট দেয় পাকিস্তান। ২য় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৫৮ রানে অলআউট হয় ভারত।
সে ম্যাচ জয়ে বড় এক ভূমিকা ছিলো পেসার মোহাম্মদ আমিরের।একাই তিনি ভারতীয় টপ অর্ডারে ধস নামিয়ে দেন। সে ম্যাচের অভিজ্ঞতা আর পরিকল্পনা জানিয়েছেন আমির। কামরান আকমালের সাথে এক আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা জানান।
আমির শুরুতে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন,’
হাতে যখন বলটা পেলাম, প্রথমেই মনে হলো, ওদের টপঅর্ডারের তিনজন ব্যাটসম্যানকেই (রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি) যদি আউট করতে পারি, কী দুর্দান্ত একটা ব্যাপারই না হবে! নিজের রান-আপে ফেরত যাওয়ার সময়েই কথাটা বারবার মনে হচ্ছিল আমার।’
রোহিত শর্মার দূর্বলতা বেশ ভালো করেই জানতেম আমির। সে অনুযায়ী তিনি তাকে বল করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম ইন সুইং বলগুলো খেলতে রোহিতের সমস্যা হয়। তাই আমার পরিকল্পনা ছিল, অন্তত প্রথম দুই বল আমি ইনসুইং করাব না। এতে ওর মনে হবে, পিচে বল ইনসুইং করানো যাচ্ছে না। আপনি রিপ্লে দেখলে এখন দেখবেন, দুবারই বলটা ওর কাছ থেকে আউটসুইং করিয়ে সরিয়ে নিয়েছি।তিন নম্বর বলটা ইনসুইং করিয়েছি। অর্থাৎ ওকে আউট করার জন্য আমার যে পরিকল্পনাটা ছিল, সেটা সফল হয়।
এরপর সেরা ব্যাটসম্যান কোহলির ক্রিজে আসেন। তার জন্য করা পরিকল্পনা জানিয়ে বলেন,’এরপর কোহলি এল, এসেই ও একটা ক্যাচ তুলেছিল, যেটা আমরা ধরতে পারিনি। ওর জীবন পাওয়া দেখে আমার একটা কথাই মনে হয়েছিল, আগের ইনিংসেই আমাদের ফখর জামান একটা নো-বলে আউট হয়েছিল। সেই জীবন পেয়ে ও দুর্দান্ত একটা সেঞ্চুরি করে বসে। তাই কোহলির ক্যাচ পড়ার পর মনে হয়েছিল, ও যদি একবার থিতু হয়ে যায়, ৪০-৪৫ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে ফেলবে।’
কোহলি পরাস্ত করার ব্যাপারে আমির বলেন,‘কোহলি যখন ব্যাট করতে এল, প্রথমেই একটা ইনসুইঙ্গার দিলাম ওকে। ও খেলতে পারল না। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ওকে আর ইনসুইঙ্গার দেব না। ও ভাবতে থাকুক, আমি কখন আবার ইনসুইঙ্গার দিই। পরের বলে আউটসুইঙ্গার দিলাম, স্লিপে চলে গেল বলটা। এর পরের বলটাও তা-ই করলাম, কিন্তু আরেকটু উঁচু।’
‘ততক্ষণে বিরাট আমাকে অনসাইডে খেলবে, এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল। ওর শরীরও অনসাইড বরাবর ছিল। কিন্তু আমার বল কোনাকুনি যাচ্ছিল। শাদাবকে ধন্যবাদ, ক্যাচটা ঠিকঠাক নিতে পেরেছিল।’—সাথে যোগ করেন তিনি।
নিউজক্রিকেট/আরআর
