সুফিয়ান আল হাসান »
দলের বিপদে ভাঙ্গা হাত নিয়ে ব্যাট হাতে নামা, দলের সংগ্রহ একটু বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য জন্য এক হাতে ব্যাট করা। তামিম ইকবালের মতো এমন বীরত্ব গাঁথা বিশ্ব ক্রিকেটে খুব কমই আছে। ক্রিকেটে প্রতিদিনই গড়ে নিত্য নতুন কতো কীর্তি, কিন্তু এমন কীর্তি ঘটে কলে ভাদ্রে একবার। সেদিন লংকানদের বিপক্ষে ভাঙা হতে ব্যাট করে তামিম ভালোবাসা বাড়িয়েছেন লক্ষ ভক্তের মনে ।
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ক্রীড়া প্রেমী এক পরিবারে জন্ম খান সাহেবের। চাচা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, বড় ভাই নাফিস ইকবাল জাতীয় দলের নিয়মিত ওপেনার। চাচা, আর ভাইকে দেখে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা তামিম আজ বাংলাদেশ দলের অন্যতম স্তম্ভ। টাইগারদের বিজয় গাথায় তার অবদান না ভুলার মতো। তিনি লাল সবুজের জার্সিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক , ব্যাট হাতে টাইগারদের প্রায় সকল রেকর্ডই তার দখলে ।
ভাই চাচাদের পথ ধরেই ক্রিকেটে আসা ছোট্ট তামিমের।মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক, দুর্দান্ত পারফর্মে নজর কেড়ে সে বছরই সুযোগ করে নেন অনূর্ধ্ব ১৯ দলে । ২০০৭ সালে ডাক আসে জাতীয় দলে, জিম্বাবুয়ের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। সেই শুরু হলো খান সাহেবের জয় রথ, শত বাধা পেরিয়ে চলছে এখনো। মাঝ পথে থমকে দাড়াতে হয়েছে বেশ কবার, তবে তামিম ছিলেন তার লক্ষ্যে অটুট। শুরুর মারকুটে তামিম জাতীয় দলে পার করেছেন অনেক বছর, কুড়িয়েছেন অভিজ্ঞতা, হয়েছেন লাল সবুজের কান্ডারী। অপরিনত মারকুটে তামিম অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে হয়েছেন পরিণত, এখন তামিম দলের নির্ভরতার প্রতীক, পালন করেন দলের ব্যাটিংয়ের মূল কাজ।
ক্যারিয়ারের ১৩ বছরে তামিম দেখেছেন মুদ্রার দুই পাশই, ভালো সময়ে যেমন তামিম কুড়িয়েছেন প্রশংসা তেমনি পড়তে হয়েছে নিন্দুকদের সমালোচনার রোষানলে। তবে তামিম ভরকে জাননি, নিন্দুকদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাট হাতে। নিন্দুকদের সমালোচনার পরও তামিম বুক চিতিয়ে লড়ে যান দেশের জন্য, বয়ে আনেন সাফল্য। এতো এতো সমালোচনার পড়েও তামিম ভাঙা হাত নিয়ে ব্যাট করতে নামেন দেশের জন্য।
নিন্দুকদের সমালোচনাকে চোখ রাঙানি দিয়ে তামিম ইকবাল হয়েছেন দেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, টেস্ট ওডিআই , টি ২০ সব ফরমেটেই দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের নাম তামিম ইকবাল খান। দেশের প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে তামিম করেছেন টি২০ শতক। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে চার, পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করা ক্রিকেটারও তিনি। তার অর্জন গুলো বলতে নিলে লিখতে হবে অনেক ।
তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পার করেছেন ১৩ বছরের বেশি । এই সময়ে তামিম তামিম ৬০ টেস্ট , ২০৭;ওয়ানডে ও ৭৮ টি টি২০ খেলেছেন। টেস্টে ১১৫ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৮ গড়ে রান করেছেন ৪৪০৫, ২৭ টি অর্ধশতকের সাথে আছে ৯ টি শতক,ক্যারিয়ার সেরা ২০৬ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালে খুলনায়।
২০৭ ওয়ানডেতে তামিমের রান ৭২০২, ৩৭ গড়ে ব্যাট করে করেছেন ১৩ টি শতক এবং ৪৭ টি অর্ধশতক। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ১৫৮, যা দীর্ঘদিন ছিলো দেশের পক্ষে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান। এ বছর জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাকে টপকিয়েছেন লিটন দাস । টি২০ তে ৭৮ ম্যাচে ১৭৫৮ রান করেছেন,২৪ এভারেজে ১ টি শতকের সাথে আছে ৭টি অর্ধশতক।
তামিমের ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দেখলে তাকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় রাখা কঠিন। তবে শেষ ৫ বছরে তামিমের রান , গড় চোখে পড়ার মতো। যা টক্কর দিতে পারে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের। শেষ পাচ বছরে তামিমের ব্যাটিং তামিমকে রাখবে বর্তমানের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায়।
