নিউজ ডেস্ক »
২৩ ডিসেম্বর ২০০৪, বাংলাদেশ সফরে থাকা ভারতীয় দলের ম্যাচ চট্টগ্রামে। সাগর পাড়ের হাওয়া মাখার সাথে ভারতীয় জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন এক তরুণ। ওয়ানডে ফরম্যাটে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সাগরিকায় সেদিন দলের জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক গালিচায় পা রেখেছিলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি।
তবে অভিষিক্ত ধোনি? ব্যাট হাতে কোনো বল মোকাবেলার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরলেন। দলীয় ৪২ তম ওভারের ৪র্থ বলে শ্রীধরন শ্রীরাম আউট হলে ক্রিজে আসেন ধোনি। এবার ৫ম বলে মুহাম্মদ কাইফ অন ড্রাইভ করলে নন-স্ট্রাইকের পপিং ক্রিজ ছেড়ে বের হন ধোনি, দৌঁড়ে রান নিবেন। তার আগে তাপস বৈশ্যর থ্রো পৌঁছে যায় খালেদ মাসুদ পাইলটের গ্লাভসে। স্ট্যাম্প ভাঙতে কালক্ষেপণ করেননি বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক, ধোনি আউট, রান আউট!
কে-ই বা জানতেন, ‘গোল্ডেন ডাক’ এর ট্যাগ নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা সেই তরুণই হবেন আজকের জীবন্ত কিংবদন্তি- ‘ক্যাপ্টেন কুল’। ক্রিকেট ইতিহাসে আইসিসি’র সবকটা ট্রপি জয়ী একমাত্র অধিনায়ক। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (২০০৭), এশিয়া কাপ (২০১০, ২০১৬), আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ (২০১১), আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রপি (২০১৩)। সবমিলিয়ে মোট আন্তর্জাতিক রান ১৭,২৬৬। ম্যাচ খেলেছেন ৫৩৮টি।
আজ আবেগময় এক বার্তায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ধোনি। ঐ বার্তায় জুড়ে দিয়েছেন ক্যারিয়ারের স্মতিময় কিছু মুহূর্তের স্থীর চিত্র দিয়ে নির্মিত একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ, সাথে মিউজিক। কাকতালীয় ঘটনা, তাঁর ক্যারিয়ারের শেষটাও হয়েছে সেই রান আউট দিয়ে। ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের দিনে ৫৭ বল থেকে ৫০ রান করে আউট হয়েছিলেন ধোনি, রান আউট। রান আউটে শুরু, রান আউটে শেষ।
