ক্রিকেটে মজা আছে, সম্মান আছে এটা অভিভাবকরাও জানেন এখনঃ ডিকেন্স

হাসান আল মারুফ »

খেলা ছেড়েছেন আগেই। এরপর পুরোদমে নামেন ক্রিকেট কোচিংয়ে। দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয় অর্থাৎ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায় ছিলেন ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স। ক্রিকেটার হবে নিজের ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা না হলেও কোচিং ক্যারিয়াররা লম্বা করতে চান তিনি।

কোয়ারেন্টাইনের এই সময়টাতে নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডট কম কথা বলেছে ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সের সাথে।

পাঠকদের জন্য পুরো সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো।

নিউজক্রিকেটঃ বয়সভিত্তিক দলে খেলোয়াড়দের কি কি সমস্যা থাকে?

ফয়সাল হোসেনঃ আসলে আমি ২ বছরের মতো বয়সভিত্তিক দলে কাজ করেছি। অনূর্ধ্ব-১৪ থেকেই প্রায় সব বয়সের খেলোয়াড়দের তৈরি করার জন্য তাদের খেলার প্রতি আগ্রহ নিয়ে কাজ করা হয়, তাদের তৈরি করা হয়। তবে অনূর্ধ্ব-১৭ যে জিনিসটা পায় সেটা অনূর্ধ্ব-১৪ পাচ্ছে না। আবার আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলটা সব কিছু ভালোভাবে গাইডলাইন কিংবা তাদের যে সমস্যা রয়েছে সেসব নিয়ে কাজ করাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন ভালো খেলতেছে।

নিউজক্রিকেটঃ বয়সভিত্তিক দলে আপনার কি মনে হয় যারা শিখে আসে তারা কি অনূর্ধ্ব-১৪ থেকেই শিখে আসে?

ফয়সাল হোসেনঃ আসলে দেখেন দল নির্বাচনে তো অনেক ধাপ আছে। যেমন ন্যাশনাল টিমে দেখুন ৩০-৩৫ জনের একটা প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে ১৫ জনের মূল স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। তেমনি বয়সভিত্তিকেও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাছাই করে এরপর হয়তো ২৫ জন খেলোয়াড় নিলো। যাদের নিচ্ছে তাদের স্কিল, ফিটনেস সবার থেকে সেরা দেখেই নিচ্ছে।

নিউজক্রিকেটঃ আসলে আমরা দেশের মাটিতে সহজে খেলতে পারলেও বাইরের মাটিতে খেলতে গেলে বেশিরভাগ সময়ই বাজে অবস্থায় থাকি সেটার জন্য কি বলবেন?

ফয়সাল হোসেনঃ এটা পুরোটাই স্কিলের ব্যাপার। একজন খেলোয়াড়ের মনে করেন এক সাইডে স্কিল ভালো কিন্তু সে যখন ইন্টারন্যাশনালে খেলতে যেয়ে ফেইল করে তখন মনে করে যে না আমার তো কিছু সাইডে স্কিল কম। বয়সভিত্তিকে স্কিল নিয়ে কাজ করা হয় যাতে ইন্টারন্যাশনালে গেলে সমস্যা না হয়।

নিউজক্রিকেটঃ দেখেন আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা বেশ স্কিলফুল হওয়া সত্ত্বেও বাইরের মাটিতে প্রায় সময় আমাদের পারফরম্যান্স ভালো না। সেটার কারণ কি?

ফয়সাল হোসেনঃ এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি কিভাবে প্রিপারেশন নিবো, কিভাবে খেলতে হবে আমাকে এটা মানসিক ও ব্যক্তিগত ব্যাপার। সিনিয়ররা মিলে দলে একটা ভারসাম্য রেখেছে সাথে জুনিয়রদেরও সেভাবেই সাপোর্ট করছে। তবে আসলে আমরা বাইরের দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে কিন্তু টেস্ট খেলার সুযোগ পাই না আর সেটা সবাই জানে। তবে টেস্ট ক্রিকেট সম্পূর্ণ মানসিক ও ব্যক্তিগত ব্যাপার খেলোয়াড়ের জন্য। তবে ভালো করতে হলে অবশ্যই কিছু কিছু লীগে ইন্টারন্যাশনাল মানের পিচ তৈরি করতে হবে যাতে খেলোয়াড়েরা গতি এবং বাউন্সার নিয়ে কাজ করতে পারে, অনেক কিছু শিখতে পারে। না হলে দেখা যায় নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যেয়ে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। আমরা কিন্তু দেশে ও দেশের বাইরে সিরিজ জিতেছি। টেস্টে আরো ভালো করতে হলে প্র‍্যাকটিস সিচুয়েশন বা ভালো পিচ টা কিন্তু দরকার। এখন বেশ কিছু নিয়ম দিয়েছে আইসিসি সাথে লকডাউনের পর আসলে কি হবে কেউ জানে না, এক্ষেত্রে মানসিকতাই বড় ব্যাপার হবে।

নিউজক্রিকেটঃ তো ছোটদের যদি বড় ম্যাচ খেলানো যায় যেমন ৬০ ওভার করে যদি খেলানো যায় তাহলে ছোট থেকেই তাদের সেই মানসিকতা তৈরি হবে কি মনে করেন?

ফয়সাল হোসেনঃ এটা অবশ্যই সম্ভব। পাশের দেশ ভারতকে দেখুন। টেন্ডুলকার স্কুল ক্রিকেটে ৪০০ করছে কারণ ওরা বলেছে খেলতে থাকো। তো এটা যে কাউকে যদি বলেন সারাদিন ব্যাটিং করবা তখন আস্তে আস্তে অটোমেটিক মানসিকতা তৈরি হয়ে যায়। আবার টি-২০, ওয়ানডেতে সেভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ওই ধারায় খেলতে পারে। তো একটাই কথা মানসিক ভাবে তৈরি করতে পারলেই হয়।

নিউজক্রিকেটঃ টি-২০ ক্রিকেট যেহেতু চার-ছক্কার খেলা তো সেক্ষেত্রে আপনার কি মনে হয় এর জন্য আলাদা দল তৈরি করা উচিত?

ফয়সাল হোসেনঃ দেখেন ঘুরে ফিরে মানসিকতার ব্যাপারই পুনরায় চলে আসে। আমি তো জানি আমি ওয়ানডে খেলছি নাকি টি-২০ খেলছি। আমাকেই সেভাবেই তৈরি করতে হবে। খেলতে খেলতেই আসলে মানসিকতাটা তৈরি হয়।

নিউজক্রিকেটঃ আপনি তো ন্যাশনাল টিমে খেলেছেন। প্রিমিয়ার লিগ- ডিভিশনেও খেলেছেন তখনকার আর এখনকার মধ্যে পার্থক্যটা কেমন?

ফয়সাল হোসেনঃ আমি শুধু বলবো আগে ক্রিকেটকে যেভাবে চিন্তা করা হইতো এখন অনেক ফার্স্ট হইছে। ক্রিকেটের মধ্যে যে মজা আছে, সম্মান আছে এটা শুধু প্লেয়ার না অভিভাবকদের মধ্যেও ঢুকেছে। তাই অনেকেই ক্রিকেটে আসতেছে। ক্রিকেট বাংলাদেশে যে জিনিসটা সহজেই দিচ্ছে সেটা অন্য খেলায় কিন্তু পাচ্ছেন না।

নিউজক্রিকেটঃ আপনি তো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সাথে ছিলেন। সবাইকে কাছ থেকে দেখেছেন। ওদের মধ্যে কারা পরবর্তীতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে বলে মনে করেন?

ফয়সাল হোসেনঃ এই দলটা যখন যায় তখন আসলে দেখা যায় অনেকের কনফিডেন্স লেভেল ডাউন। অনেকেই বিশ্বাস করতো না ওরা পারবে। ১৭-১৮ মাস করার পর সে বিশ্বাস টা আসছে। কাজেই এখন বলা মুশকিল। তবে তাদেরকে সেভাবে গাইড করলে তারা পারবে এটা বলতে পারি।

নিউজক্রিকেটঃ এই দল নিয়ে সম্ভাবনাটা কেমন দেখছেন ভবিষ্যতে?

ফয়সাল হোসেনঃ ৫-৭ জন ছেলে যারা আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে পাকাপাকি ভাবে ন্যাশনাল টিমে খেলবে এটা নিশ্চিত। আর এই কথা আমি তাদেরকেও বলেছি।

নিউজক্রিকেটঃ প্রিমিয়ার লিগ বা কোনো টুর্নামেন্টে কেউ ভালো করলেই দেখা যায় যে তাকে দলে নিয়ে নেওয়া হয়। সে ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

ফয়সাল হোসেনঃ এটা আমাদের সময়ও ছিলো। তবে আমাদের সময় আমরা অনেক দিন ফার্স্ট ক্লাসে খেলে তারপর ন্যাশনাল টিমে ঢুকছি। এটা আসলে ক্রিকেট বোর্ডের ব্যাপার। তারা যা ভালো মনে করে সেটা করে।

নিউজক্রিকেটঃ খুব কম বয়সে দলে সুযোগ পেয়ে পারফর্ম করতে না পারলে আবার হারিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বিসিবির কি আরো সচেতন হওয়া উচিত?

ফয়সাল হোসেনঃ অনূর্ধ্ব-১৯ দল আসার পরই বলা হইছে এদেরকে ২ বছর অনেক ক্রিকেট খেলানো হবে। তবে এখন করোনার কারণে খেলা বন্ধ। পরিকল্পনা রয়েছে এদের দিয়ে ২ বছর অনেক ম্যাচ খেলানো। আমি মনে করি এভাবে চিন্তা করলে অবশ্যই ভালো হবে।

নিউজক্রিকেটঃ নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডট কমের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

ফয়সাল হোসেনঃ আমি ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে ছিলাম, ক্রিকেটের সাথেই থাকতে চাই। ক্রিকেট নিয়ে যেকোনো বিষয়ে আমি আছি। ক্রিকেট খেলে যা পাই নাই কোচ হিসেবে এর চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডট কমের সকল পাঠকদের জন্য শুভেচ্ছা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »