নিউজ ডেস্ক »
টেস্ট ক্রিকেটের বরপুত্র বলা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারাকে। তার স্টাইলিশ ব্যাটিং মুগ্ধ করতো স্টেডিয়ামে থাকা দর্শক আর টিভিতে দেখা দর্শক। হাইলাইটস দেখতে বসলেও কখনো বিরক্তি ধরবে না কারও। ড্রাইভ, কাভার ড্রাইভ, সুইপ শট, পুল শট, হুক শট সবই খেলতেন অবলীলায়।

টেস্ট ক্রিকেটে ক্যারিবিয়ান এই কিংবদন্তি নিজেকে বরাবরই সেরা প্রমাণ করেছেন। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি এই ক্যারিবিয়ান কিংদন্তির দখলেই। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪০০ রানের ইনিংস খেলেছেন লারা। ২০০৪ সালের এই ১২ এপ্রিলই বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন লারা।
মজার ব্যাপার হলো অ্যান্টিগার সেন্ট জোনসেই দুবার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন এই ক্যারিবিয়ান। ১৯৯৪ সালে স্বদেশি স্যার গ্যারি সোবার্সের ৩৬৫ রানের ইনিংস টপকে লারা করেন ৩৭৫ রান। ৩৬ বছর পর এই রেকর্ড ভাঙ্গেন লারা। তবে লারার রেকর্ডটি টেকে মাত্র ৯ বছর। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথিউ হেইডেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পার্থ টেস্টে ৩৮০ করে সেই রেকর্ড নিজের দখলে নেন। তবে হেইডেনের এই রেকর্ডের স্থায়ীত্ব হয় মাত্র ৬ মাস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৪০০ রানের অতিমানবীয় এক ইনিংস।।
সিরিজের চতুর্থ টেস্টে হোয়াইটওয়াশ এড়নোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ওয়েস্ট-ইন্ডিজ। তখন সর্বশেষ তিন টেস্টে মাত্র ১০০ রান করে অফ ফর্মে রান ক্ষরায় ভুগছিলেন লারা। কিন্তু অভিজ্ঞ বাঁহাতি এই কিংবদন্তি যে নিজেকে প্রমাণে বেশি সময় নেন নি। টস জিতে ব্যাট করতে নামা ক্যারিবীয়রা ক্রিস গেইলের ঝড়ো ব্যাটে ভালো সূচনা পায়। গেইল আউট হওয়ার পরই মাঠে নামেন লারা। আর প্রথম দিন শেষে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন লারা।
দ্বিতীয় দিন লারা ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পান। উইন্ডিজ স্কোর বোর্ডে জমা করেন ৫ উইকেট ৫৯৫ রান। যেখানে তৃতীয় দিনেই ইতিহাসে পাতায় নাম লেখান লারা। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে করেন ৪০০ রান। প্রায় ১৩ ঘণ্টার মতো ক্রিজে থেকে ৪৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৮২ বলে ৪০০ রান করেন। ক্যারিবীয়রা ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৫১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে।
লারার কল্যাণেই সেই টেস্টে ড্র করে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ ১৬ বছর হয়ে গেলো এই কিংবদন্তির রেকর্ডটি এখন পর্যন্ত অক্ষুণ্ন রয়ে গেছে।
