মোহাম্মদ সোহেল »
মহান ক্রিকেটার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ছিলেন তাঁর যুগের অন্যতম সেরা ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দু’বারের বিশ্বকাপ বিজয়ী স্যার ভিভ ব্যাটিংয়ের সময় তার আগ্রাসন এবং দোলাচলের জন্য জনপ্রিয় ছিল।
তিনি এমন এক সময়ে খেলেছিলেন যখন বাউন্সারদের উপর কোনও বিধিনিষেধ ছিল না এবং ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে দুষ্কৃত বোলারদের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। তবে মজার বিষয় হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভয়ঙ্কর এই ব্যাটসম্যান ব্যাটিংয়ের সময় কখনো মাথায় হেলমেট পড়তেন না। এবং যতক্ষন ক্রিজে থাকতেন চুইংগাম চিবুতে চিবুতে ঠান্ডা মাথায় তুলোধোনা করতেন বোলারদের।
ঐ সময়কে স্মরণ করে রিচার্ডস অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনের সাথে এক আড্ডায় তার পুরো কেরিয়ারে হেলমেট না পরার আসল কারণটি প্রকাশ করেন। “ক্রিকেটের প্রতি আমার এমন অনুভূতি ছিল, ক্রিকেটকে আমি এতটাই ভালবাসি যে, ক্রিকেট খেলে মরে যেতেও আমি দ্বিধাবোধ করতাম না।“
ওয়াটসনের পডকাস্টে বার্তা সংস্থা আইএএনএস-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ ক্রিকেট মাঠে ক্রিকেট খেলে যদি মরে যাই, তবে মরার জন্য এর থেকে আরও ভাল উপায় আর কী হতে পারে?’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্রেট এও প্রকাশ করেছেন যে, তিনি অন্যান্য খেলাধুলার ক্রীড়াবিদদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যারা তাদের জীবনকে সর্বোচ্চ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে নিজেদের সেরাটা দিতেন। “আমি অন্যান্য ক্রীড়াবিদ পুরুষ এবং মহিলাদের দেখেছি যারা চূড়ান্ত পর্যায়ের ঝুকি নিয়ে খেলাধুলা করেছে এবং তাদের জন্য আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি দেখছি যে একজন রেসিং গাড়ি চালাচ্ছে, এর চেয়ে বিপজ্জনক আর কী হতে পারে? ” রিচার্ডস বলেছেন।
ওয়াটসন জবাবে বলেন, “হেলমেট ছাড়াই ১৫০ কিলোমিটার গতির বল মোকাবেলার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক কি আর হতে পারে?”
ব্যাটিং করার সময় স্যার রিচার্ডস সারাক্ষন চুইংগাম চিবুতেন। চুইংগামের প্রতি তাঁর ভালবাসা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার একজন দন্তচিকিৎসক আমাকে একটি মাউথপিস তৈরি করে দিয়েছিলেন এবং এটি আমি কয়েকবার চেষ্টা করেছি। তবে আমি সবসময় আমার চুউইংগাম উপভোগ করি। মাঠে ভিন্ন দলের ১১জন খেলোয়ার এবং আম্পায়ার রয়েছে –এই অবস্থায় নিজেকে সংখ্যালঘু মনে হত। এবং এই অবস্থায় আমার সঙ্গী ছিল ছোট এক টুকরা চুইংগাম।‘
স্যার ভিভ আরো বলেন, ‘এটি আমাকে একরকম শিতল ও শান্ত রাখে, এটি আমার খেলায় ছন্দ এনে দেয়। এটি আমার জন্য সঙ্গী ছিল। আমি প্রতিবার ব্যাটিংএ যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিতামযে, আমার মুখে চুউইংগাম আছে কিনা। আপনি যদি দীর্ঘসময় ব্যাটিং করেন তবে এটি কিছুটা বাসি হয়ে যায়। তবে এটি বেশ ভাল। তাই আমি মাউথপিস্টি সরিয়ে দিয়েছি’।
তিনি ১২১টি টেস্ট ম্যাচ ও ১৮৭ টি ওডিয়াই ম্যাচ খেলে রান করেন যথাক্রমে ৮৫৪০ রান এবং ৬৭২১ রান। তিনি একসময় ছিলেন ওডিয়াইতে সবচেয়ে দ্রুত ১০০০ রান করা ক্রিকেটার টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক।
