উন্নতি করেও কেন সমালোচিত তামিম!

কে এম আবু হুরায়রা »

তামিম ইকবাল, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ পুরো বিশ্বজুড়ে তার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে। এক সময়ের বুম বুম তামিম আজ ধীরে সুস্থে ঠান্ডা মাথায় দ্বায়িত্ব নিয়ে খেলা এক পরিনত তামিম। অভিষেকে ডাকাবুকো ব্যাটিংয়ে মন জয় করে নিয়েছিলেন দর্শকদের। তবে আজ তাকে নিয়েই দর্শকদের অভিযোগের অন্ত নেই। শুরুতে নেমে ধীরগতির ব্যাটিংয়ে বিপরীত প্রান্তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ বরাবরের। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কিছু৷

স্ট্রাইক রেটে প্রতিনিয়ত উন্নতি করা তামিম ইকবালই কিনা সমালোচিত হচ্ছেন স্ট্রাইক রেটের কারনে। দর্শকরা চাচ্ছেন আগের সেই ডাকাবুকো তামিমকে। অথচ পরিসংখ্যান বলছে তামিম ইকবাল আগের থেকে তামিম ইকবালের চার-ছক্কা কম হলেও স্ট্রাইক রেট, রান বা গড় কোনটিই কমেনি আগের থেকে৷ বরং বেড়েছে কয়েকগুন।

তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ২০০৭ সালে। এর পরে কেটে যায় ১৩ বছর। সেখানে বরাবরই উন্নতির ছাপ রেখেছেন তিনি। খেলার ধরন পাল্টে নিজের কাঁধে নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ইনিংস গোড়াপত্তনের দ্বায়িত্ব।

২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অভিষেক হওয়া তামিম ইকবাল শুরুতে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছড়ালেও স্ট্রাইক রোটেটিংয়ে সমস্যা ছিলো তার। ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সালে তিনি খেলেছেন ৮৯ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেখানে ৮৯ ইনিংসেই ব্যাটিং করে রান করেছেন ২৬৪০। সর্বোচ্চ ১৫৪ রানের ইনিংস যা ঐ সময়ের দেশীয় সবথেকে সেরা ইনিংস৷ গড় ২৯.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৯.২৩। সেখানে ৩টি শতক এবং ১৬টি অর্ধশতকের সাথে ছিলো ৮টি ডাকও৷

২০১১ থেকে ২০১৫ সালে ৬৪ ম্যাচ খেলে ৬৩ ইনিংসে ব্যাটিং করে ২০৭৩ রান করেন তামিম ইকবাল। সর্বোচ্চ ১৩৪ রান এবং গড় ছিলো ৩৪.৫৫। স্ট্রাইক রেট গত ৩ বছরের তুলনায় কম৷ মাত্র ৭৬.৮৬। শতক ৩টি অর্ধশত ১৬টি এবং ৭ বার শূন্য রানে আউট হন তামিম ইকবাল।

২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেখা মিলে এক বদলে যাওয়া তামিমের। স্ট্রাইক রেট যথার্থ রেখেই তিনি একপাশ আগলে রেখে দলের মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। এই ৫ বছরে ৫৪ ম্যাচের ৫৩ ইনিংসে ব্যাটিং করে ২৪৮৯ সর্বোচ্চ ১৫৮ এবং গড় আকাশচুম্বী ৫২.৯৫!
স্ট্রাইক রেট ৭৯.৬৭ সেটিও খুব একটা মন্দ নয়। শতক ৭টি, অর্ধশতক ১৫ টি এবং রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেছেন মাত্র ৩ বার।

স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর সাথে সাথে রপ্ত করেছেন স্ট্রাইক রোটেট করে খেলাটাও। আগের মত চার-ছয়ের বাহারি ক্রিকেট না খেলে সিঙ্গেলস এবং ডাবলসের উপরে ভর করে দলের প্রয়োজন মেটান তামিম ইকবাল৷

২০০৭ থেকে ২০১০ সাল এই চার বছরে তার করা মোট ২৬৪০ রানের ৫৫ শতাংশ রানই এসেছে বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারি থেকে অথচ ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের এই ৫ বছরে তামিম ইকবালের বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারি থেকে রান এসেছে মাত্র ৪৬.৬৭ শতাংশ। বাকি ৫৩.৩৩ রানই করেছেন সিঙ্গেল এবং ডাবলের উপর ভর করে।

২০০৭ সালের সেই পাগলাটে তামিম আজ অনেক পরিনত। এই তামিম জানে দলে তাঁর গুরুত্ব কতটুকু। তাই সকল সমালোচনাকে তুলে রেখে দলের গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বটাই পালন করে যায় বুমবুম তামিম ইকবাল আর সেটা নীরবে এবং নিভৃতে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »