অনুশীলনের মাঝেই ইমরুলকে নেট থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন গামিনী!

মারুফ ইসলাম ইফতি »

জাতীয় দলের একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করার সময় অনুশীলনের মাঝেই নেট থেকে বিতাড়িত করে, নেটে অনুশীলন করতে না দিয়ে বেশ কয়েকজন জুনিয়র ক্রিকেটারের উপস্থিতিতে হেয় প্রতিপন্ন করে অনুশীলনের স্থান হতে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো দৃষ্টিকটু ঘটনা ঘটেছে গতকাল মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরের নেট অনুশীলনে।নেটে নিজের ব্যাটিং অনুশীলনের মাঝেই এইভাবে অপমানজনক ভাবে নেট থেকে বিতাড়িত হওয়া জাতীয় দলের সেই সিনিয়র ক্রিকেটারটির নাম “ইমরুল কায়েস”।আর ইনডোরের নেটে অনুশীলনের মাঝপথে ইমরুলকে নেট থেকে হেয় করে তাড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিটি হলেন মিরপুর শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দায়িত্বে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনী ডি সিলভা।

মিরপুর শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল (বৃহস্পতিবার) আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের শেষ দিনের কার্যক্রম চালাকালীন সময়ে বিভিন্ন দলের সাথে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররাও এসেছিলেন হোম অফ ক্রিকেট মিরপুরে।কেউ কেউ চুক্তি সংক্রান্ত ব্যাপারে এসেছেন আবার আসন্ন প্রিমিয়ার লিগে ভিন্ন ভিন্ন দলের সাথে আগেই চুক্তিবদ্ধ হওয়া এইরকম প্রায় একঝাঁক ক্রিকেটারও আসন্ন প্রিমিয়ার লিগকে সামনে রেখে অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে এসেছিলেন হোম অফ ক্রিকেটের মাঠে।অনুশীলন করতে আসা ক্রিকেটারদের মধ্যে মিরপুরের ইনডোর ভবনের ভিতরে চোখ বুলিয়ে দেখা গেল ইনডোরের ভিতরে আলাদা আলাদা নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছেন ইমরুল কায়েস,নুরুল হাসান সোহান ও নাইম ইসলাম।নাইম ও সোহান নেট বোলারদের বল মোকাবেলা করলেও ইমরুল খেলছেন বোলিং মেশিন থেকে ছুটে আসা বল।ইনডোরের ভিতরের নেটে বেশ কিছুক্ষন বোলিং মেশিনে ব্যাট হাতে অনুশীলন করে ব্যাট হাতে এবার ইমরুলের গন্তব্য ইনডোরের মিনি গ্রাউন্ডে।আসন্ন প্রিমিয়ার লিগে ইমরুলের ক্লাব শেখ জামালের আরেক সতির্থ সোহরাওয়ার্দী শুভকে সঙ্গে নিয়ে ইনডোরের ঘাসের উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে যান ইমরুল।

ইনডোরের ঘাসের উইকেটে অনুশীলন করতে যাওয়া ইমরুলকে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আবারো ইনডোরের ভিতরে ফিরে আসতে দেখা গেল। সবে মাত্র ঘাসের উইকেটের নেটে অনুশীলনে গেলেন! কয়েক মিনিটের মধ্যে অনুশীলন না করেই এত দ্রুত ফিরে এলেন কেন ইমরুল? ইমরুলের মুখের দিকে চোখ পড়তেই এবার ইমরুলের অনুশীলন না করে ফেরার মূল কারনটা কি তা জানার কৌতূহলটা আরো দ্বিগুন বেড়ে গেল।নেট থেকে ফিরতেই ইমরুলের চেহারায় তখন স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠছিল গিজগিজ রাগ ও কারো প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভের স্পষ্ট চিত্র।তাড়াহুড়া করে নিজের প্যাডাফ খুলে নিজের সহযোগীকে কিছুটা উচ্চ স্বরে নির্দেশ দিলেন ইনোস্টমেন্ট গুলো গুছিয়ে ব্যাগে ঢুকাতে।ইনডোরের ভিতর থেকে মিনিট কয়েক আগে বাইরের ঘাসের উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলনে যাওয়ার আগ মুহুর্তেও পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিলেন ইমরুল।তাহলে এই কিছুক্ষনের ব্যবধানে ইনডোরের বাইরের নেট প্রেকটিসের স্থানে এমন কি ঘটলো? যার কারনে এইভাবে ইনডোরের বাইরের নেট অনুশীলনে গিয়েও অনুশীলন না করে উল্টো রেগেমেগে লাল হয়ে ফিরে এলেন ইমরুল?

  • কারন খুঁজতে গিয়ে অবশেষে জানা গেল ইমরুলের চোখেমুখে এই গিজগিজ রাগ ও ক্ষোভের মূল কারন। ইনডোরের ঘাসের উইকেটের নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করার সময়ে ইমরুলের সাথে ঘটে গেছে অপ্রত্যাশিত ও সম্মানহানীকর একটি ঘটনা।ইমরুল ইনডোরের ঘাসের উইকেটে নেট অনুশীলন করার সময় ইমরুলকে অনুশীলনের মাঝে বাধা প্রদান করেন হোম অফ ক্রিকেট মিরপুর স্টেডিয়ামের দায়িত্বে নিযুক্ত লঙ্কান কিউরেটর গামিনী ডি সিলভা
  • নেটে অনুশীলনে থাকা ইমরুলকে ওই মুহুর্তে খুব কড়া স্বরে নেট ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন গামিনী।এই সময় ইমরুলকে উদ্দেশ্য করে গামিনী বলেন:এই উইকেট তোমাদের জন্য নয়। এখানে ব্যাটিং করতে হলে আগে অনুমতি নিতে হবে।অনুমতি ব্যাতীত জাতীয় দলের বাইরের কেউ ইনডোরের এই উইকেট গুলো ব্যবহার করতে পারবে না।তুমি জাতীয় দলের কেউ নও এই মুহুর্তে।তাই তুমিও ব্যবহার করতে পারবে না এই উইকেট।এক্ষুনি উইকেট ছাড়ো,আর এই জায়গাটাও।

ইমরুল যেহেতু সর্বশেষ সিরিজে জাতীয় দলের স্কোয়াডে ছিলেন না তাই ইমরুলও ব্যবহার করতে পারবে না এই উইকেট, সরাসরি ইমরুলকে এমনটাই জানিয়ে দেন গামিনী এবং ওই মুহুর্তে নেট ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার নির্দেশ দেন এই লঙ্কান কিউরেটর।তাই ততক্ষনিক অনেকটা অপেশাদার আচরনের মতো আর উচ্ছেদের ন্যয়ে ইমরুলকে ইনডোরের অনুশীলনে থাকা নেট থেকে তাড়িয়ে দেন তিনি।

ইনডোরের এই উইকেট গুলো শুধুমাত্র জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ব্যবহার করতে পারবে! আর জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা ইনডোরের উইকেট ব্যবহার করতে পারবেন না! এমন কোন বাধ্যকতা বা নিয়ম পূর্বে ছিল কিনা সেটা ইমরুলসহ অনেকেরই অজানা।ততক্ষনিক গামিনীর তোপের মুখে পড়ে মাথা নিচু করে নেট থেকে ফিরে যান ইমরুল। জাতীয় দলের হয়ে এক যুগ ধরে প্রতিনিধিত্ব করা একজন সিনিয়র ক্রিকেটার এইভাবে অনুশীলনের মাঝপথে লজ্জাজনকভাবে নেট থেকে বিতাড়িত ও অপমানজনক ভাবে ফিরে আসার মতো দৃষ্টিকটু ঘটনা, যেটা জাতীয় দলের একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সাথে হওয়া কখনোই উচিৎ নয়।

  • ঘটনার কিছুক্ষন পর আবারো ইনডোরের নেটের দিকে যান ইমরুল।ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিউরেটর গামিনীও।ইনডোরের নেটে তখন একটি উইকেটে ব্যাট করছিলেন টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হক। ওই সময়ে দেখা যায় ইমরুল ও গামিনীর মধ্যে প্রায় টানা মিনিট দশেকের মতো কিছু একটা নিয়ে কথাপোকথন হচ্ছে। দুজনের মুখের ভঙ্গি ও কথা বলার ধরন দেখে দূর থেকেও নিশ্চিত ভাবে বুঝা যাচ্ছিলো কিছু একটা নিয়ে কথার লড়াই চলছে উভয়ের মাঝে।
  • প্রেকটিস শেষে ইমরুলের কাছে আজকের এই ঘটনার ব্যাপারে জানার চেষ্টা করলেও এই ব্যাপারে গনমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজী হননি ইমরুল।একই প্রশ্নে গামানীর কাছেও জানতে চাওয়া হয় ঠিক কি হয়েছিল ইমরুলের সাথে সর্বশেষ কথাপোকথনে?
    উত্তরে গামিনী বলেন (আই ডোন্ট নো, আস্ক হিম) আমি জানি না, ওকে গিয়ে জিজ্জেস করো।এরপর আর কোন উত্তর না দিয়ে দ্রুত গতিতে হেটে ইনডোর প্রস্থান করেন এই লঙ্কান কিউরেটর।

নেটে ইমরুলের ব্যাটিংয়ের সময় কিউরেটর গামিনী ডি সিলভার ইমরুলকে নেট থেকে তুলে দেওয়ার ঘটনার সময়ে সেখানে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রিকেটার ঘটনার ব্যাপারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেনঃ এই দেখেন অবস্থা! উনার মতো (ইমরুল) একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সাথে যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে আমাদের অবস্থানটা আরো কতটা নগন্য একবার ভাবুন।এমন একজন সিনিয়র ক্রিকেটার জনসম্মুখে এই ধরনের আচরন কোন ভাবে ডিজার্ভ করেন না।দেখুন এই মুহুর্তে জাতীয় দল এখানে নেই।আর জাতীয় দলের অনুশীলনও নেই আপাতত এখানে। তাহলে জাতীয় দলের সর্বশেষ সিরিজে স্কোয়াডে না থাকায় এইভাবে জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটার বলে উইকেট ব্যবহার করতে পারবে না এমন আচরনের কোন যুক্তি দেখি না। এছাড়া উনি (ইমরুল) তো ভারতের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও খেলেছেন, এছাড়া এবারের বিপিএলেও দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন।শুধুমাত্র হ্যামিস্ট্রিং ইনজুরির কারনে পাকিস্তান সফরের দলে এবং চোট পুরোপুরি কাটিয়ে না উঠায় জিম্বাবুয়ে সিরিজের দলে ছিলেন না।বিপিএলের পর ইনজুরিতে না পড়লে সর্বশেষ সিরিজ গুলোতে দলের সাথে যুক্ত থাকতেন। তখন হয়তো এইভাবে অপদস্থ হয়ে নেট থেকে মাথা নিচু করে ফিরে যেতে হতো না উনাকে।এছাড়া ১২ বছর ধরে জাতীয় দলের সাথে যুক্ত থাকা একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সাথে উনার কথা বলার ধরন ও আচরন গুলোও দৃষ্টিকটু।কোচ কিংবা বোর্ডের কর্তারাও এইভাবে আক্রমণাত্মক ভাবে কোন ক্রিকেটারের সাথে কথা বলেন না।তাহলে কিউরেটর হয়ে জাতীয় দলের একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সাথে এমন আচরন উনি
কিভাবে করেন?

গামিনী ডি সিলভা নামের শ্রীলঙ্কান এই কিউরেটর ২০০৮ সালে বিসিবির কোন এক পরিচালকের হাত ধরে মিরপুর স্টেডিয়ামের কিউরেটর হিসেবে নিযুক্ত হন।এর আগে পেশায় আম্পায়ার ছিলেন তিনি।এক যুগ ধরে বাংলাদেশে আছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে একই চাকুরীতে নিযুক্ত আছেন সর্বশেষ ১২ বছর।একযুগের এই সময়টায় বাংলাদেশের ক্রিকেটার বা বাংলাদেশ ক্রিকেট এর প্রতি তার কিঞ্চিৎ পরিমান আন্তরিকতা বা কৃতজ্ঞতাবোধের ছিটেফোঁটাও নেই এই লঙ্কান কিউরেটরের মাঝে। শুধু ইমরুলের সাথে নয়,এই ধরনের আরো অগনিত অশালীন মন্তব্য ও সমালোচিত অনেক অভিযোগের রেকর্ড আছে এই লঙ্কান কিউরেটরের।প্রায় ক্রিকেটার বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছিলেন গামিনীর কাছে অসংখ্যবার অপমানিত হওয়া ও বাজে আচরনের শিকার হয়ে।এর আগেও বেশ কয়েকবার আচরনগত কারন ও অনান্য বিষয়ে গামিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল।কিন্তু কোন এক অজানা কারনে গামিনীর এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দৃষ্টিকটু ব্যাপার গুলো আমলে নেওয়া হয়না কখনো।যার কারনে সবসময় পার পেয়ে যান এই লঙ্কান আর এইভাবে একের পর এক সমালোচিত কাজ গুলো করার পরও যখন কোন কঠিন পরিস্থিতি কিংবা জবাবদিহির মুখামুখি হতে হয়না তাকে,তাই এইধরনের বাজে হরকত খুব সহজে উনার মাধ্যমে সংগঠিত হয়।হয়তো তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই আমলে নেওয়া হয়না বলে যেকোন কিছু করার সময় চিন্তাভাবনা করার পূর্বে চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন মনে করেন না হয়তো তিনি।পূর্বের ন্যয়ে এইবারও গামিনীর অশোভন আচরনে লাল-সবুজের একজন প্রতিনিধি হেয় হওয়ার তিক্ত ক্ষতটা নিজের ভিতর হয়তো দমিয়ে রাখবেন ইমরুল কায়েস। আর এমন বাজে হরকত অব্যাহত রেখেও গামিনী ডি সিলভারা উল্টো পেতে থাকবেন বিনয়ী আচরন ও সম্মান।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »