বড় ভাই জুমনের আত্মত্যাগের ফসল আজকের মাহমুদুল হাসান জয়!

মারুফ ইসলাম ইফতি »

মাহমুদুল হাসান জয়!
সদ্য অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলের একজন নির্ভরযোগ্য টপ অর্ডার ব্যাটসমান।প্রতিভাবান এই যুবা টাইগারের সামর্থ্যের নমুনা ইতিমধ্যে দেখা হয়ে গেছে সবার।বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলটিকে সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালের মঞ্চে তোলা ক্রিকেটারটি এই মাহমুদুল হাসান জয়।প্রতিভাবান এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের মধ্যে আগামীর ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন অনেকে।

যুব বিশ্বকাপ জয়ী মাহমুদুল হাসান জয়ের অতিত ইতিহাস জানে কজন? আজকের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানটির সাফল্যের রহস্য কিংবা কাদের অবদানে আজকের এই টাইগার তারকা মাহমুদুলের জন্ম? পেছনের গল্পটা অনেকের অজানা।চলুন আজকের এই মাহমুদুল হাসান জয় কিভাবে তৈরি হলো সেই গল্পটি শোনা যাক সেই পর্দার আড়ালের ব্যক্তিটির কাছ থেকে যার আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাহমুদুল হাসান জয়ের মতো একজন নক্ষত্রের আগমন।

বিশ্ব ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তী শচিন টেন্ডুলকারের বিশ্বসেরা হয়ে উঠার পেছনের গল্প এবং একজন টেন্ডুলকার তৈরিতে তার বড় ভাইয়ের অবদান কি পরিমান ছিল এই গল্পটি সবারই জানা।এই জায়গাটিতে শচিন টেন্ডুলকারের সাথে পুরোপুরি মিলে যায় মাহমুদুল হাসান জয়ের উঠে আসার গল্পের।আজকের তারকা মাহমুদুল হাসান জয়ের কারিগর তারই অগ্রজ রাশেদুল হাসান জুমনের। বড় ভাই জুমনের বিরাট আত্মত্যাগের ফল এই মাহমুদুল হাসান জয় নামের এই সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার।

রাশেদুল হাসান জুমন শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমবিএ পাশ।এমবিএ সম্পূর্ণ করেও বাস্তব জীবনে তিনি একজন বেকার ব্যক্তি।এমন নয় যে এমবিএ করেও চাকুরী জুটেনি কপালে, চাকুরী তিনি কখনো করার চেষ্টাও করেননি আর সুযোগ আসলেও দিয়েছেন ফিরিয়ে।কারন একটাই নিজের অনুজ মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে যে স্বপ্ন তিনি দেখেছেন সেই স্বপ্ন পূরনের কারিগর হতে চেয়েছেন তিনি।তাই ক্যারিয়ার, অর্থ কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে না ভেবে ছোট ভাইয়ের সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকাকেই সবচেয়ে বড় কর্তব্য হিসেবে নিয়েছেন মাহমুদুলের বড় ভাই জুমন।

আজকের এই মাহমুদুল হাসান জয়ের মতো ক্রিকেটার
তৈরি হওয়ার পিছনে তার ছায়াসঙ্গী বড় ভাই রাশেদুল হাসান জুমনের অবদান কি পরিমান ছিল সে গল্পটা নিজের মুখে শুনিয়েছেন মাহমুদুলের বড় ভাই জুমন।
ভারতের জনপ্রিয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুমন তুলে ধরেছেন অনুজ মাহমুদুল হাসানের এই ক্রিকেটার হওয়ার পিছনে তার আত্মত্যাগ ও ভালবাসার গল্প।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাশেদুল হাসান জুমন বলেনঃ আমার চাকুরীর কথা যদি বলতে যাই তাহলে বলবো আমার ছোট ভাইয়ের ক্রিকেট দুনিয়ায় তার ছায়াসঙ্গী হয়ে সবসময় পাশে থাকাটাই আমার চাকুরী।আমার স্বপ্ন মানেই ওর স্বপ্ন।আমি ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে আসছি একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে জন্মভূমির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে সে,আমি ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি একদিন সে হবে বিরাট কোহলী, হাশিম আমলার মতো নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার।আমি ওকে বলেছি ভাই তোকে একদিন অনেক বড় ক্রিকেটার হতে হবে,দেশের জন্য কিছু করতে হবে।আমার বিশ্বাস ছিল এবং এখনো আছে সে একদিন অনেক বড় হবে।

এছাড়া জুমন আরো যোগ করেন, “সে প্রতিদিন ম্যাচের আগে ফজরের নামাজ আদায় করে।আমাদের কথার বাইরে সে কখনো যায়না। আমার মায়ের প্রতিটি কথা সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।

ছোট ভাইয়ের ছায়াসঙ্গী জুমন পেশায় ক্রিকেটার না হলেও ক্রিকেটীয় মেধায় যথেষ্ট পরিপক্ব তিনি।আর তাই ছোটভাই মাহমুদুল দলের নামকরা পেশাদার কোচদের শিক্ষার ভিড়েও বড় ভাই জুমন থেকে টোটকা নিতে কখনো ভুল করেননা।জুমনও নিজের সাধ্যানুযায়ী অনুজকে দিকনির্দেশনা দেন কিভাবে সাফলতা লাভ করা যায়? এই ব্যাপারে জুমন সংবাদমাধ্যমকে বলেন: ও প্রতিটি ম্যাচের আগে যখন আমার কাছে ফোন জমা দিতে আসে তখন পরামর্শ চায় কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে কি করে খেলবে।
আমি ওকে সবসময় বলি, বাউন্ডারি মারার মানসিকতা পুরোপুরি ত্যাগ করতে, আগে ম্যাচের সিচুয়েশন বুঝে স্ট্রাইক রোটেট করে নিজেকে উইকেটের সাথে মানিয়ে নিতে,এরপর বাউন্ডারি হাকানো নিয়ে ভাবতে।

ছোটভাইকে নিয়ে স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে জুমন আরো বলেন: মহান আল্লাহ ওর মধ্যে যথেষ্ট পরিমান প্রতিভা দান করে পাঠিয়েছেন।তার ক্রিকেটীয় মেধা যথেষ্ট ভাল।সে বুঝে কোন পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করতে হয়।টেস্ট,ওয়ানডে কিংবা টি-টুয়েন্টি সে ফরম্যাট অনুযায়ী এবং দলের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাট করতে পারে।সবচেয়ে বড় ব্যাপার সে নিজের সামর্থ্যের উপর পূর্ন আস্থা রেখে ব্যাট চালাতে পারে।আমি স্বপ্ন দেখি আমার ভাই একদিন দেশকে আরো অনেক বড় কিছু দিবে।সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন যেন সে একজন সফল ক্রিকেটার হিসেবে তার ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ করতে পারে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরো ভাল কিছু দিতে পারে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »