শোয়েব আক্তার »
সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মার অর্ধ-শতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৩১৬ রানের টার্গেট চার উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখেই টপকে গেছে স্বাগতিক ভারত। ফলে তিন ম্যাচ ওডিআই সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল ভারত।
৩১৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে মেনে ভারত কে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই উদ্ভোধনী ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল। দুজনের ১২২ রানের উদ্ভোধনী জুটিতে রোহিত ৬৩ ও রাহুল ৫৬ রান করেন।
জেসন হোল্ডারের করা ২২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শাই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে রোহিত শর্মা ফিরে যান। এরপর ৩০তম ওভারের শেষ বলে জোসেপের বলে শাই হোপের তালুবন্দি হয়ে ব্যক্তিগত ৭৭ রানে সাজঘরে ফেরত যান রাহুল।
এরপর শ্রেয়াস আয়ার ও রিশাভ পান্ত-৭ রানে ও কেদার যাদব ৯ রানে আউট হয়ে গেলেও উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রবীন্দ্র জাদেজার সাথে ৫৮ রানের জুটি গড়ে জয়ের ভীত গড়ে দেন। কিমো পলের করা সাতচল্লিশ তম ওভারের প্রথম বলে বলে ব্যক্তিগত ৮৫ রানে আউট হয়ে গেলেও রবীন্দ্র জাদেজার ৩৯ ও শারদুল ঠাকুরের ৬ বলে ১৭ রানের সুবাদে জয়ের বন্দরে পৌছে যায় ভারত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে কিমো পল ৫৯ রানে ৩টি, জোসেপ ৫৩ রানে ১টি, জেসন হোল্ডার ৬৩ রানে ১ টি ও শেলডন কটরেল ৭৪ রানে ১ টি উইকেট লাভ করেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দশে মিলে করি কাজ নীতিতে নিজেদের সংগ্রহ তিনশ’র ওপারে নিয়ে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান’রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির দেখা না পেলেও নিকোলাস পুরান ও কায়রন পোলার্ডের জোড়া অর্ধ-শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট ৩১৫ রান সংগ্রহ করে।
দুই উদ্ভোধনী ব্যাটসম্যান এভিন লুইস ও শাই হোপ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে ভালো সূচনা এনে দেন। ১৫তম ওভারের শেষ বলে নবদীপ সাইনির ক্যাচ বানিয়ে ব্যক্তিগত ২১ রানে এভিন লুইস কে আউট করে ৫৭ রানের জুটি ভাঙ্গেন রবীন্দ্র জাদেজা।
পাঁচ ওভার পর ব্যক্তিগত ৪২ রানে শাই হোপ কে বোল্ড করেন মোহাম্মদ সামি।
৩০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অভিষিক্ত নবদিপ সাইনির প্রথম শিকার হোন শিমরন হেটমায়ার। ব্যক্তিগত ৩৭ রানে কুলদিপ যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন হেটমায়ার।
এক ওভার পর ৩২তম ওভারের তৃতীয় বলে আবার ও উইকেটের দেখা পান সাইনি। দূর্দান্ত খেলতে থাকা রেস্টন চেজ কে ৩৮ রানে বোল্ড করে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান সাইনি।
তবে, পঞ্চম উইকেট জুটিতে অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড ও নিকোলাস পুরান ১৩৫ রানের পার্টনারশীপ গড়ে উইন্ডিজ কে বড় সংগ্রহ এনে দেন। ইনিংসের শেষ দিকে আট চল্লিশ তম ওভারের শেষ বলে শারদুল ঠাকুরের বলে জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৮৯ রানে আউট হয়ে যান পুরান।
শেষ পর্যন্ত পোলার্ডের ৫১ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের সুবাদে ৩১৫ রানের পুজি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের অধিনায়ক আজ মাত্র পাঁচ বোলার কে দিয়ে ৫০ ওভার বল করেছেন যেখানে কুলদিপ যাদব ছাড়া সবাই উইকেট পেয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচ উইকেটের মধ্যে নবদিপ সাইনি ৫৮ রানে ২টি, রবীন্দ্র জাদেজা ৫৪ রানে ১টি এবং শারদুল ঠাকুর ও মোহাম্মদ সামি ৬৬ রানে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
৮৫ রানের দ্বায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জেতাতে ভূমিকা রাখায় বিরাট কোহলি ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং রোহিত শর্মা ম্যান অব সিরিজ নির্বাচিত হোন।
