শোয়েব আক্তার »
সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়ালো বিপিএলের সপ্তম আসরের যার এবারের নাম “বঙ্গবন্ধু বিপিএল”।
হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে উদ্ভোধনী ম্যাচে সিলেট থান্ডারসের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রায়াদ এমরিত।
ইনিংসের শুরুতেই রণি তালুকদারের উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় সিলেট থান্ডারস।ইনিংসের দ্বিতীয় ও ব্যক্তিগত প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসানের তালুবন্দি করান রুবেল হোসেন।
তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দেখেশুনে খেলে ইনিংস বড় করতে শুরু করেন আরেক উদ্ভোধনী ব্যাটসম্যান জনসন চার্লস ও ওয়ান ডাউনে খেলতে নামা মোহাম্মদ মিথুন।দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে মিলে সংগ্রহ করেন ৩১ বলে ৪৬ রান।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে বাঁহাতি নাসুম আহমেদের ঘূর্নিতে বোকা বনে বোল্ড হয়ে যান জনসন চার্লস।আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ৩৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে যান তিনি।
তৃতীয় উইকেটে জীবন মেন্ডিস ও বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেন নি।এমরিটের বলে লং অনে ওলাটনের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হয়ে মাত্র চার রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান তিনি।
মেন্ডিসের আউটের পর হাত খুলে খেলতে শুরু করেন মোহাম্মদ মিথুন।ইনিংসের ১৩ তম ওভারে নাসুম আহমেদ কে তিনটি ছয় ও পরের ওভারে নাসির হোসেন কে আরও একটি ছয় হাঁকিয়ে অর্ধ-শতক পূর্ণ করেন তিনি।
৪র্থ উইকেটে থেকে মিথুন কে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যান অধিনায়ক মোসাদ্দেক সৈকত।চতুর্থ উইকেটে এ দুজন মিলে ৬৩ বলে ৯৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেন।
ইনিংসের শেষ ওভারের ২য় বলে রুবেল হোসেনের বলে রায়াদ এমরিটের হাতে ক্যাচ হন মোসাদ্দেক সৈকত।আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ২৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ মিথুনের অপরাজিত ৮৪(৪৮) রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬২ রানের পুঁজি দাঁড় করায় সিলেট থান্ডারস।মিথুনের ইনিংসটি ৫ ছয় ও ৪ টি চারে সাজানো ছিল।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষে রুবেল হোসেন ২৭ রানে ২ টি উইকেট নেন।
১৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি চট্টগ্রামের।নাজমুল ইসলাম অপুর করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের ৫ম ও ৬ষ্ঠ বলে জুনায়েদ সিদ্দিকি ও নাসির হোসেন কে হারিয়ে বিপদে পড়ে দলটি।
দারুণ ছন্দে থাকা আভিষ্কা ফার্নেন্দ কে পাওয়ার প্লে’র শেষ বলে জীবন মেন্ডিসের ক্যাচ বানিয়ে প্যাভিলিয়নে পাঠান সানটকি।ফার্নেন্দ ২৬ বলে ৩৩ রান করেন।এরপর নবম ওভারের পঞ্চম বলে ৯ বলে ৩ রান করা রায়ান বার্ল কে এলবি ডব্লিউ’র ফাদে ফেলে আউট করেন মোসাদ্দেক হোসেন।
৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা চট্টগ্রাম কে খেলায় ফেরান ইমরুল কায়েস ও ওয়ালটন জুটি।পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুজনে সংগ্রহ করেন ৫৩ বলে ৮৬ রান।
ইবাদত হোসেনর করা ১৮ তম ওভারের ৪র্থ বলে সানটকির ক্যাচে পরিণত হয়ে আউট হয়ে যান ইমরুল কায়েস।আউট হওয়ার আগে পাঁচ ছয় ও দুই চারে ৩৮ বলে ৬১ রান করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত চাডউইক ওয়ালটনের ৩০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের সুবাদে ৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় সূচক ১৬৩ রান সংগ্রহ করে ফেলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।সিলেট থান্ডাসের পক্ষে নাজমুল অপু ২৩ রানে ২ টি উইকেট লাভ করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট থান্ডারস:১৬২/৪(২০)
মোহম্মদ মিথুন:৪৮(৪৮)*,জনসন চার্লস:৩৫(২৩)
রুবেল হোসেন:২৭/২
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স:১৬৩/৫(১৯)
ইমরুল কায়েস:৬১(৩৮),ওয়ালটন:৪৯(৩০)
ফলাফল:চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৫ উইকেটে জয়ী।
