সানিউজ্জামান সরল »
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর রহমান ব্যাটসম্যানদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। বড় বড় সব ব্যাটসম্যানরা তাকে সমীহ করতে ভুল করে না। পারফরম্যান্স করেই তিনি দেশে-বিদেশে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছেন। ক্যারিয়ারে আরেকটি অর্জন হিসেবে, উইজডেনের বিগত দশ বছর ধরে ভালো পারফরম্যান্স করে আসা ক্রিকেটারদের তালিকায় ৪র্থ স্থানে ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত এ বোলার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুস্তাফিজের অভিষেকটা হয়েছিল এক রূপকথার গল্পের ন্যায়। অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে তিনি অল্পদিনেই হয়ে গেছেন সেরাদের সেরা। শুরুটা হয়েছিল প্রতিবেশী রাজ্য ভারত দিয়েই। অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে ধসিয়ে দেওয়ার কাজটা ভালোই করেছিলেন ফিজ। দ্বিতীয় মুস্তাফিজ যেন ছিলেন আরো উজ্জ্বল মাত্র ৪৩ রান খরচায় ভারতের পাহাড় সমান বোলিং স্তম্ভকে নিয়ে একরকম উপহাসে মেতে ৬ উইকেট শিকার করেন।যা ভারতের সিরিজ হার নিশ্চিত করে।
আর এরপর থেকেই বিশ্বক্রিকেটে শুরু হয় মুস্তাফিজ বন্দনা। চারিদিকে যেন শুধু ফিজেরই নাম ডাক। খেতাব পেয়ে যান কাটার মাস্টারের। নাম লেখান আইপিএলেও। তার বোলিং দৃঢ়তায় যেন স্বয়ং আইপিএলই হয় মুগ্ধ। তার বোলিং নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় তার দল সানরাইজ হায়দরাবাদ। সে বছর প্রথম কোন বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলে সেরা ইমার্জিং খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ‘দ্যা ফিজ’।
ফিরি মূল আলোচনায়, ২০১৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে করা অগ্নি ঝড়া বোলিং ফিগারই মুস্তাফিজকে উইজডেনের দশক সেরা পারফরম্যান্সের তালিকায় চতুর্থ স্থানে এনে দিয়েছে। সেদিন তিনি অর্থাৎ সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে তিনি ১০ ওভার বল করে ৪৩ রান খরচায় ৬ জন ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান।
দশক সেরা এ তালিকায় সেরা চারে থাকার পর মুস্তাফিজ সম্পর্কে ‘ক্রিকেটের বাইবেল’ খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালামনাক মুস্তাফিজ সম্পর্কে জানিয়েছে, ‘নিজের কাটারের ধারে সত্ত্যিই মুস্তাফিজুর রহমান ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে কেটে দিয়েছিল। যা ছিল মনে রাখার মতো।’
প্রসঙ্গত, যদিও কাটারের ধার কমেছে ফিজের। বেশ কয়েক ম্যাচ ধরে খরুচেও দেখা যাচ্ছে তাকে। তবে এখনো ফিজকে সমীহ করতে ভুল করে না কোন ব্যাটসম্যান। কিছুদিন আগেই ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগেও, ভিরাট কোহলি মুস্তাফিজকে নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। ভিরাট সংবাদ সম্মেলনে ফিজকে সমীহ করে নিজেদের ব্যাটসম্যানদের সতর্ক থাকতেও বলেছিলেন।
