দুর্দান্ত শুরু করেও শেষ রক্ষা হলোনা টাইগারদের

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিলো ভারতের। ‘মহা’র তান্ডবের কারণে ম্যাচ আদৌ হবো কিনা তা নিয়েই ছিলো বিরাট সংশয়। কিন্তু সকাল থেকে কড়া রোদ হেসে উঠে রাজকোটে। আর যথাসময়েই ম্যাচ মাঠে গড়ায়। তিন পেসার, এক লেগস্পিনার ও দুই অলরাউন্ডার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। দলে কিছুটা পরিবর্তন আনার কথা শোনা গেলেও অপরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নেমেছিলো দু’দল।

শুরুতেই টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। টস জেতার পর দু’দলের অধিনায়ককেই আশাবাদী দেখা যায়। দু’জনেই পিচে ভালো রান চেজের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। রিয়াদ বলেন, ‘পিচ অনেক ভালোই। আমি মনে করিনা টসের কারণে ম্যাচে কোন প্রভাব পড়বে। যদিও বা এমন পিচে আমি শুরুতেই বোলিং নিতে চাইতাম। তারপরও যেহেতু ব্যাটিং নিয়েছি, আশাকরি এ-ই পিচে ভালোই রান আসবে। সিনিয়রদেরো চেষ্টা থাকবে ভালো করার৷ পাশাপাশি নবাগত খেলোয়াড়দের কাছেও ভালো কিছু আশা করছি।’

অপরদিকে, রোহিত বলেন, ‘রাজকোটের পিচ দারুণ। এ-ই পিচে রান চেজ করা তেমন একটা কঠিন হবেনা। তাছাড়া আপনি যখন কোন টার্গেট চেজ করবেন তার আগে আপনাকে কত চেজ করতে হবে তা জানা থাকলে চেজ করা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। আমরা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে এসেছি। এবং আমরা আশাবাদী।’

শুরুতে ব্যাট করতে নেমেই বাংলাদেশের ২ ওপেনারের এট্যাক ভারতের বোলিং শিবিরকে বিধস্ত করে। একের পর এক বাউন্ডারি দিয়ে দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের। বোঝাই যাচ্ছিলো খুব উৎফুল্লভাবেই খেলতে নেমেছে লিটন-নাঈম। এ-ই জুটির উপর ভরসা করেই বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। মাঝখানে যখন লিটন আউট হতে গিয়ে লাইফ পেলো, এরপর আবার বাউন্ডারি তোপ শুরু। এ-র কিছু পর আবার লিটন যেতে যেতে বেঁচে গেলো। কিন্তু সপ্তম ওভারে এসে শেষ রক্ষা হলোনা লিটনের। রান আউট হয়ে ফিরে গেলো। এরপর সৌম্য-নাঈম জুটি কিছুক্ষণ টেনে নিয়ে গেলেও ১০ম ওভারে গিয়ে নাঈম ক্যাচ তুলে দেয় সুন্দরের বলে।

এরপর মুশি-সৌম্য জুটি বাঁধার চেষ্টা করতেই চাহালের বলে মুশি আউট হন। এরপর সৌম্য কিছুটা চেনা রূপে ফেরার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ হাল ধরতে পারেনি। এরপর আর তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি কেউ। মাহমুদউল্লাহর উইকেট পড়ার পর স্তিমিত হয়ে পড়ে টাইগার শিবির। ১৯ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশের ৩ উইকেট হারিয়ে বসে। আর অবশেষে ১৫৩রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। লক্ষ্যটা যেখানে ছিলো ২০০ এর কাছাকাছি, সেখানে দেড় শতকের ঘরেই থেমে গেলো টাইগাররা। মূলত শেষের দিকে ভারতের বোলিং এট্যাকে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে টাইগাররা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই এট্যাকিং খেলা শুরু করে ভারত। রোহিত আর ধাওয়ানের বিধ্বংসী ব্যাটিং- এ দ্রুতই টার্গেটের দিকে এগুতে থাকে ভারত। নিজের শততম টি-টোয়েন্টি তে তার দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি(২৩বলে) করলেন রোহিত। মূলত ভারত বধের মূলমন্ত্র হলো তাদের ওপেনিং জুটি ভাঙা। কেননা ভারতের ওপেনিং জুটি একবার সেট হয়ে গেলে যেকোন বড় সংগ্রহই তাদের কাছে চেজ করা সহজ হয়ে যায়। ১০ম ওভারে এসে ভারতের ওপেনিং জুটি ভাঙে আমিনুলের বলে। ধাওয়ানকে (৩১) প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে জুটিতে ছেদ করেন। এরপরও চলতে থাকে রোহিতের ব্যাটিং তান্ডব। ১২তম ওভারে আবার আমিনুলের এট্যাক। এবার আমিনুলের স্বীকার হলেন বিপক্ষ দলের বাঘা ব্যাটসম্যান রোহিত (৮৫)। ভারতের সংগ্রহ তখন ২ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান। এরপর রাহুল-আইয়ের জুটি বাকি ইনিংস এগিয়ে নেন। ৮ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জয়ী হয় ভারত।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ একাদশ: ১৫৩/৬ (২০ওভার)

নাঈম ৩৬, সৌম্য ৩০, মাহমুদউল্লাহ ৩০।

চাহাল ২/২৮, চাহার ১/২৫,সুন্দর ১/২৫।

 

ভারত একাদশ:

রোহিত ৮৫, ধাওয়ান ৩১, আইয়ের ২৪

আমিনুল ২-২৯

ফলাফল : ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »