নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের অনুশীলন মূহুর্তের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, নিজস্ব ট্রেনার নিয়োগ দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টলার এই খান সাহেব।
বিশ্বকাপ ও শ্রীলঙ্কা সফরে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারায়, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের মধ্যকার তিন জাতির টুর্নামেন্ট থেকে বিশ্রামে চলে যান তামিম। বিশ্রামরত এই সময়টা নিজের মতো করে কাটাতে ব্যাংককে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে নিজস্ব ট্রেনার নিয়োগ দিয়ে ৩০-৩৫ দিনের ট্রেনিংয়ে ৪৯ টি সেশন করে ৫ কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হন ‘দ্যা গেইম চেঞ্জার’ খ্যাত এ ব্যাটসম্যান।
দীর্ঘদিনের বিশ্রাম শেষে চলতি ভারত সফর দিয়ে মাঠে ফেরার কথা ছিলো তামিমের। ভারত সফরে খেলার জন্য ঠিকঠাক প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। তবে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে এ সফর থেকেও ছুটি নিতে হয় তাকে। ফলে ২২ গজে তামিমের ফেরার অপেক্ষা আরেকটু দীর্ঘ হয়।
ভারত সফরে না যেতে পেরে তামিম নিজেও হতাশা প্রকাশ করেন। দেশ সেরা এ ব্যাটসম্যান হতাশা প্রকাশ করে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা জানেন, পারিবারিক কারণে ভারত সফর থেকে আমি বিরতি নিয়েছি। এই সিরিজে খেলতে না পেরে আমি নিজেও ভীষণ হতাশ।
বাংলাদেশ প্রথমবার ভারতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও আমাদের প্রথম ম্যাচ এই সফরে। এই সফর ও নতুন মৌসুমের জন্য আমি খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। দেশের বাইরে গিয়ে আলাদা করে এক মাস ফিটনেস ট্রেনিং করেছি। দেশে ফিরে ব্যাটিং অনুশীলন করেছি। শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু তার পরও সফরে যেতে পারছি না, কারণ কখনও কখনও পরিবার ও আপনজনের পাশে ক্রিকেট গৌণ হয়ে ওঠে।
আমি ও আমার স্ত্রী আমাদের দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছি। আমার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার কারণে আমাদের ধারণার চেয়ে একটু বেশি সময় ওকে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। আমার মনে হয়েছে, এই সময়টায় ওর পাশে আমার থাকা উচিত। এজন্যই ছুটি নিতে হয়েছে। এমনিতেই পরিবার থেকে অনেকটা সময় আমরা দূরে থাকি, তাদেরকে প্রাপ্য সময়টুকু দিতে পারি না। আমাদের পরিবারের সদস্যারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। অন্য অনেক সময় না পারলেও জীবনের এই সময়গুলোতে অন্তত পরিবার আমাকে পাশে চাইতেই পারে।
আমি আমার দলকে মিস করব, ক্রিকেট মাঠকে মিস করব। তবে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্ত্রী যেন আমাকে মিস না করে, সেটুকু নিশ্চিত করতে চেয়েছি।’
প্রত্যেকটা স্বামীরই দায়িত্ব ও কর্তব্য স্ত্রীর এমন ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে তার পাশে থাকা। তামিমও স্বামীর দায়িত্ব পালন করতে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থেকেছেন। তবে ভেতরের খবর হলো স্ত্রীকে সময় দেয়ার পাশাপাশি নিজেকে ফিট রাখতে এখনো অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মাস দেড়েক আগে ব্যাংককে অনুশীলনের একটি ভিডিও নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে আপলোড করে তামিম জানান দিয়েছেন তিনি ফিরে আসতে কতটা মরিয়া। স্ত্রীর পাশে থেকেও নিজের ফিটনেসের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে অনন্য এক উদাহরণ স্থাপন করলেন।
তামিমের নিয়োগ দেওয়া ট্রেনার বেন কোলম্যান তামিমের অনুশীলনের ভিডিওটি নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে আপলোড করে জানান, ‘থাইল্যান্ডে সে এক মাস কাজ করেছে তার ফিটনেসের উপর। তার কাজ দেখে আমার খুবই ভালো লেগেছে। তিনি তার ডায়েট এবং প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিয়ে এতটাই কঠোর ছিলেন যে আমি তাকে যা চাপিয়ে দিয়েছি সে তাই করেছে। সত্যিই সে কঠোর পরিশ্রম করেছে এখানে। চার সপ্তাহের কয়েকটি হাইলাইট পরীক্ষা করে দেখুন, আমার মনে হয় আপনি এটি পছন্দ করবেন আর বুঝবেন সে নিজের চেনা রূপে ফিরে আসতে কতটা পরিশ্রম করছে।’
পারিবারিক কারণে ছুটিতে থেকেও নিজের ফিটনেসের প্রতি এতোটা গুরুত্ব দেওয়াই বলে দেয় নিজেকে ফিরে পেতে তামিম কতটা মরিয়া। ভক্ত-সমর্থকদের মতো তিনিও চান ২২ গজে খুব শিগগিরই ফিরতে এবং নিজের এমন কঠোর পরিশ্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ ফল পেতে। তামিম ফিরে আসুক আগের চেয়েও আরো ভয়ঙ্কর রূপে, এমনটাই চাওয়া ভক্ত-সমর্থকদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এ ব্যাটসম্যানের জন্য শুভকামনা রইলো।
