নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
ইনিংসের পঞ্চম বল, দীপক চাহারের বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন লিটন দাস। ১৪৮ রানের মাঝারি মানের পুঁজি নিয়ে হাজারতম ম্যাচ রাঙিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে স্বাগতিক ভারত। কিন্তু দেশের ক্রিকেটের এই দুঃসময়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হওয়া ম্যাচটায় স্বাগতিকদের পাত্তা না দিয়ে উল্টো উড়িয়ে দিল বাংলার টাইগাররা। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে ইতিহাস রচনার ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৭ উইকেটের।
লিটনের বিদায়ের পরে বেশ দেখেশুনে খেলতে থাকেন অভিষিক্ত নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকার। এই দুই বাঁহাতি উইকেটে সেট হয়ে গেলে চড়াও হতে শুরু করেন ভারতীয় বোলারদের উপরে। টাইগারদের চার-ছক্কায় মেতে উঠার খেলায় একটু একটু করে স্তব্ধ হতে শুরু করে দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়াম। ওয়াশিংটন সুন্দর কিংবা খালিল, কেউই আঘাত করতে ব্যর্থ বাংলার বাঘেদের। উল্টো দেশের ক্রিকেটের এই দুর্বিষহ সময়ে একটা আহত বাঘ ঠিক কতটা ভয়ংকর সেটাই প্রমাণ করলো মাহমুদউল্লাহ শিষ্যরা। যে বাংলাদেশ জিততে জিততে গিয়ে বারবার হেরেছে ভারতের কাছে এবার সাকিব-তামিম বিহীন তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে সেই অধরা জয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগের ৮ দেখায় প্রতিবারই জয় ভারতের। তবে এই ফরম্যাটের হাজারতম ম্যাচে ভারতের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ।
দলীয় ৫৪ রানে চাহালের শিকার হয়ে ফিরে যান অভিষিক্ত নাঈম। নাঈমের বিদায়ের পরে বেশ চাপে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু চাপ সামলে দেখেশুনে এগোতে থাকেন সৌম্য আর মুশফিক। বারবার ব্যর্থতার দেয়ালে চাপা পড়া সৌম্য এ ম্যাচে ছিলেন দুর্বার। পরিস্থিতি অনুযায়ী মুশফিককে সঙ্গ দিতে থাকেন তিনি। সুযোগ পেলেই চড়াও হয়েছেন বোলারদের উপরে। অন্যদিকে মি. ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর নিজের স্বভাব চরিত ব্যাটিংটাই করেছেন। দলের বিপর্যয়ে এর আগেও যেভাবে জ্বলে উঠেছিলেন আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
একটা সময় ম্যাচের সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে যায়। মুশফিক-সৌম্যরা তবে কি এবারো জিততে জিততে হেরে যাবেন এমন প্রশ্ন উঠেছিলো আবার। তবে এবার আর আগের মত হয়তো ভুল করবেন না তারা। বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সময় উপযোগী কাজই করবেন।
শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ৪৪ রান। আর তখনই নিজের বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন মি. ডিপেন্ডেবল। কিন্তু ম্যাচ যখন কঠিন থেকে কঠিনতর রূপ ধারণ করতে শুরু করে তখনই ফিরে যান সৌম্য। ৩৫ বলে ৩৯ রানের তার এই ইনিংস দলের জন্য কতটা কার্যকর এমন প্রশ্নের উত্তর তখনো জানা নেই কারো। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন যখন ১৬ বলে ৩৩ রান তখনই মুশফিকের দেওয়া সহজ এক ক্যাচ মিস করেন পান্ডিয়া,একইসাথে ৪ রানও যোগ হয় স্কোরবোর্ডে। এই ক্যাচেই যেন ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত।
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ২২! ক্রিজে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক খালিলের দুই বলে দারুণ দুই চারে তুলে নেন ফিফটি। পরের বলে আরেক চার! ম্যাচের সমীকরণ দাঁড়ায় ৭ বলে ৮ রান। স্তব্ধ দিল্লির অরুন জোটলি। ওভারের শেষ বলে ব্যাটের কানায় লেগে আবারো চার। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৪ রানের। খালিলের এক ওভারে ১৮ রান নিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন মুশফিক। ৩ বলে ২ রান নিতে না পারা মুশি-রিয়াদ এবার আর ভুল করেন নি। রিয়াদের ছক্কায় ৩ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় টাইগাররা।
এর আগে দিল্লির দূষণের ফলে ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়ে তৈরি হয়েছিলো শঙ্কা। কিন্তু নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ মাঠে গড়ালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশী কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ছেপে ধরেন শফিউল-আলআমিনরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে আক্রমণাত্মক রোহিত শর্মাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পেলেন শফিউল। শিখর আর রাহুল কিছুটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও বিপ্লবের প্রথম শিকারে পরিণত হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন রাহুল।
রাহুলের বিদায়ের পর বাংলাদেশি বোলারদের উপর ব্যাপকভাবে চড়াও হতে থাকেন শ্রেয়াস আয়ার।
ব্যাট হাতে বাউন্ডারির ফোয়ারা ছড়ানো আয়ারের লাগাম টেনে ধরেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ১ চার ও২ ছয়ের সাহায্যে ১৩ বলে ২২ রান করে নাইমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন শ্রেয়াস।
শ্রেয়ারের বিদায়ের পরে আবারো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ছেপে ধরেন আফিফ-আলআমিনরা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান। কিন্তু ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন শেষ পর্যন্ত। ৪১ বলে ৪০ রান করে রান আউটের কবলে পড়েন শিখর।
শেষ দিকে রিশভ পান্থের ২৭ ও পান্ডিয়ার ঝড়ো ১৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১৪৮ রানের মাঝারি মানের পুঁজি পায় স্বাগতিক ভারত।
স্কোরকার্ড :
ভারত : ১৪৮/৬ (ওভার ২০), শিখর ধাওয়ান ৪১, পান্থ ২৭, বিপ্লব ২/২২, শফিউল ২/৩৬,আফিফ ১/১১।
বাংলাদেশ : ১৫৪/৩ (ওভার ১৯.৩) লিটন ৭, নাঈম ২৬, সৌম্য ৩৯ , মুশফিক ৬০, মাহমুদউল্লাহ ১৫, চাহার ১/২৪, খালিল ১/৩৭।
