নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বাবা মোহাম্মদ নবীর পরামর্শই যেন বদলে দিল ছেলের ভাগ্য। সুযোগের অপেক্ষায় থাকার কথা মনে গেঁথে রেখে ব্যাট হাতে বাজিমাত করলেন হাসান ইসাখিল। বিপিএলের ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আফগান তারকা অলরাউন্ডারের এই ছেলে।
দিনের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেছে ব্যাটিংয়ের দুই মহাযজ্ঞ। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকান ইসাখিল, আর একই ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে শতরান করেন তাওহিদ হৃদয়। দুই ব্যাটারের দাপটে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত রংপুরের পক্ষেই গেছে—৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় তারা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস তোলে ১৭৩ রান। দলের হয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে ৭২ বলে ১০৭ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন ইসাখিল। অধিনায়ক হায়দার আলীও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৩২ বলে করেন ৪২ রান।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রংপুরের হয়ে ওপেনিংয়ে ভালো শুরু এনে দেন ডেভিড মালান ও তাওহিদ হৃদয়। ৭৮ রানের জুটি গড়লেও মালান দ্রুত ফিরে যান। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন হৃদয়। ধৈর্য, শক্তি আর আত্মবিশ্বাসে ভর করে ৬৩ বলে ১০৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। অধিনায়ক লিটন দাসের ৩৯ রানও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত দুই বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে রংপুর।
ইসাখিলের এই সেঞ্চুরির পেছনে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তার বাবা মোহাম্মদ নবী। সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি জানান,
“বাবা আমাকে বলেছিলেন নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে। সুযোগ পেলে সেটা কাজে লাগাতে।”
সেঞ্চুরির অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইসাখিল বলেন,
“বিপিএলে পারফর্ম করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমার ইনটেন্ট সবসময় ইতিবাচক ছিল। শুরুতে উইকেট কঠিন ছিল, স্ট্রাইক রোটেট করাও সহজ ছিল না। পরে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হয়, তখন আমি বড় শট খেলতে শুরু করি।”
নবী মাঠে না থাকলেও যেন তার ছায়া ছিল ছেলের ব্যাটে। বাবার শেখানো ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসেই বিপিএলের মঞ্চে নিজের নামটা শক্ত করে লিখে দিলেন হাসান ইসাখিল।
