বাংলাদেশ ম্যাচ সরলে কতটা ক্ষতি হতে পারে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের?

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানোর সম্ভাবনা ঘিরে ক্রিকেট প্রশাসনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতা সামনে রেখে বাংলাদেশ যদি আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানায়, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এতে আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই?

প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আলোচনাটি যতটা রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল, আর্থিক দিক থেকে বিষয়টি ততটা ভয়াবহ নাও হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের কেন্দ্রীয় সম্প্রচার আয় ও বৈশ্বিক স্পনসরশিপে বিসিসিআইয়ের সরাসরি কোনো বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে স্থানীয় আয় ও ম্যাচ–ডে রেভিনিউ নিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে।

সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই হওয়ার কথা ছিল ভারতের ভেন্যুতে। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ নির্ধারিত ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। বাকি ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, নেপালের বিপক্ষে। চার ম্যাচ মিলিয়ে সম্ভাব্য দর্শক ধারণক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার।

আইসিসির টিকিট নীতিমালা অনুযায়ী, ভারতীয় ভেন্যুতে ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে তুলনামূলক কম মূল্য থেকে। সরকারি টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ–ইতালি ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ১০০ রুপি থেকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে সর্বনিম্ন ৩০০ রুপি এবং মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে ২৫০ রুপি থেকে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। এসব টিকিটের মালিকানা আইসিসির বাণিজ্যিক শাখা আইসিসি বিজনেস করপোরেশনের (আইবিসি) হাতে। বিসিসিআই হোস্ট বোর্ড হিসেবে ম্যাচ আয়োজন–সংক্রান্ত সুবিধা, স্থানীয় স্পনসরশিপ ও কিছু ম্যাচ–ডে আয় পেলেও পুরো গেট কালেকশনের মালিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতি মূলত সীমাবদ্ধ থাকবে তিনটি খাতে—ম্যাচ–ডে উদ্বৃত্ত আয়, স্থানীয় ব্র্যান্ড অ্যাক্টিভেশন ও কর্পোরেট হসপিটালিটি টিকিট।এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট সামনে আসছে। প্রথমত, যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পুরোপুরি ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এর বদলে নতুন কোনো ম্যাচ না দেওয়া হয়, তাহলে আনুমানিক ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি পর্যন্ত স্থানীয় আয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এটি নির্ভর করবে দর্শক উপস্থিতি ও গড় টিকিট মূল্যের ওপর।

দ্বিতীয়ত, যদি ম্যাচ সরানোর পর ভারতীয় ভেন্যুতে বিকল্প ম্যাচ দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। যদিও ইংল্যান্ডের মতো আকর্ষণীয় দলের ম্যাচের জায়গায় তুলনামূলক কম জনপ্রিয় ম্যাচ এলে দর্শক আগ্রহে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপটে, আইসিসি যদি কেবল ভেন্যু বা সূচি পুনর্বিন্যাস করে, কিন্তু ভারতের মোট ম্যাচ সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখে, তাহলে বিসিসিআইয়ের আর্থিক ক্ষতি প্রায় নগণ্যই থাকবে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে লজিস্টিক ও পরিকল্পনা পুনর্গঠনের খরচে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরানো হলেও বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় বিশ্বকাপ আয়ে বড় কোনো ধাক্কার সম্ভাবনা নেই। ক্ষতি হলে সেটি হবে সীমিত আকারে এবং পুরোপুরি নির্ভর করবে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।এখন সব নজর এক জায়গায়—আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এটি বাস্তব আর্থিক ক্ষতি নাকি কেবল হিসাবের খাতায় সীমাবদ্ধ থাকা একটি আলোচনা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »