নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
মাউন্ট মঙ্গানুইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিল নিউজিল্যান্ড। সারাদিন বোলিং করেও ক্যারিবীয়দের প্রাপ্তি মাত্র একটি উইকেট, আর সেটিও দিনের শেষ ভাগে। বিপরীতে, টম লেথাম ও ডেভন কনওয়ের ব্যাটে ভর করে রীতিমতো রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিল স্বাগতিকরা।
এক উইকেটে ৩৩৪ রান তুলে দিন শেষ করে নিউজিল্যান্ড। বেশিরভাগ সময়েই মনে হচ্ছিল, উইকেট না হারিয়েই দিন শেষ করবে কিউইরা। তবে শেষ বিকেলে কেমার রোচ টম লেথামের উইকেটটি তুলে নিলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
আউট হওয়ার আগে ২৪৬ বল মোকাবিলা করে ১৩৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন লেথাম। তখন স্কোরবোর্ডে নিউজিল্যান্ডের রান ৩২৩। এই জুটিই এখন নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে মিলস ডেম্পস্টারের করা ২৭৬ রানের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন লেথাম ও কনওয়ে।
ঘর ও বিদেশ মিলিয়ে টেস্টে কিউই ওপেনারদের প্রথম উইকেটে ৩০০ রানের বেশি যোগ করার ঘটনা সবশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৭২ সালে। গায়ানায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্লেন টার্নার ও টেরি জারভিস সেবার প্রথম উইকেটে ৩৮৭ রান করেছিলেন।
যেকোনো উইকেট মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে লেথাম–কনওয়ের এই জুটি অষ্টম সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ডটি এখনও ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোনস ও ক্রুর ৪৬৭ রানের। আর টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরের কাছাকাছি ইতিহাসে এই ওপেনিং পার্টনারশিপ জায়গা করে নিয়েছে ১২তম স্থানে।
এখানেই শেষ নয়। লেথাম–কনওয়ের এই ম্যারাথন জুটি আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপের রেকর্ডও গড়ে দেয়। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ভারতের রোহিত শর্মা ও মায়াঙ্ক আগরওয়ালের দখলে—২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিষাখাপাটনামে প্রথম উইকেটে ৩১৭ রান করেছিলেন তাঁরা।
দিন শেষে ডেভন কনওয়ে অপরাজিত আছেন ২৭৯ বলে ১৭৮ রানে। তাঁর সঙ্গে জ্যাকব ডাফি ১৬ বলে ৯ রান করে ক্রিজে আছেন। কনওয়ের এটি টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক, আর লেথাম পূর্ণ করেছেন নিজের ১৫তম টেস্ট সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে, ম্যাচের প্রথম দিনেই ইতিহাস গড়ে নিজেদের আধিপত্য স্পষ্ট করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
