নিউজ ডেস্ক »
আজ থেকে ৩৪ বছর আগের কথা, পৃথিবীর বুকে তিনি এসেছিলেন কেবল বাংলার ক্রিকেটাকে রাঙিয়ে দিতে । আঁধার কাটে যেমন ঐ সূর্যের তীব্র রশ্মিতে ,তেমনি তার আলোতে বাংলার ক্রিকেট দেখেছে নতুনের পথ।
মাগুরা থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামের পথটা মসৃণ ছিলো না, তবে তার বলের ঘূর্ণি, ব্যাটের তেজ আর ক্রিকেটীয় মাস্টার মাইন্ড পরিকল্পনা তাকে তুলেছে বিশ্বের রাঘব বোয়ালদের মাথায়।
সাকিব আল হাসান, তার অনিবার্য প্রটিভাকে ভাষায় এটে তোলা অসম্ভব। একজন সাকিব আল হাসানকে নিয়ে লিখতে গেলে হারিয়ে যায় শব্দ ভান্ডার তবুও তাকে নিয়ে লেখা শেষ করা অসম্ভব। শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেট নয় বিশ্ব ক্রিকেটেও যেন এমন ক্রিকেটার আসেনি এর আগে।তিনি বাংলার সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার, বিশ্ব ক্রিকেটের বিচারে গেলেও সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন সাকিব।
সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই , তবে তিনি এমনই একজন যিনি তাকে নিয়ে উঠা সমালোচনার জবাব ব্যাটে বলে দিয়ে আপনাকে বিমোহিত করে আপনাকে বাধ্য করবে তার নাম্বার ওয়ান ভক্ত হতে ।
সাকিব আল হাসান এমন একজন যিনি এক ভুল দুবার করেন না, ক্যারিয়ারের প্রথম দিন থেকেই এর জানান দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সাকিবের। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, ” আমার জীবনের সেরা বিস্ময় টা সেদিন উপহার দিয়েছিলেন এই ছেলেটি, সেদিন প্রস্তুতি ম্যাচে কাকে দেখেছিলাম আর আজ কাকে দেখলাম, সেদিন যা যা করেছিলো তার কিছুই ও করেনি আজ, সেদিনই বুঝেছিলাম এই ছেলে একভুল দুইবার করে না।”
সাকিব বরাবরই সবার থেকে আলাদা, সাকিবকে ব্যাখ্যা করতে গেলে তুলে ধরতে হয় তার সতীর্থদের বলা ডিফারেন্ট শব্দ দিয়ে। সাকিবের উঠতি বয়সেই দেশসেরা কথা সাহিত্যিক হুমায়ন আহমেদ বুঝতে পেরেছিলেন সাকিবের মাহত্য।তার লেখা ফাউন্টেইন পেন, বইটি সাকিবকে উতসর্গ করেছিলেন। সাকিবকে নিয়ে তিনি বলেন, “ক্রিকেটে এক ওভারে ৬ টি বল করার হয়, প্রতিটি বলে তৈরি হয় নতুন একটি গল্প, সম্ভাবনার গল্প।আমার কাছে সাকিবকে এই গল্পের সংকলন মনে হয়। সাধারণ বল পয়েন্ট পেনের কালি শেষ হলে আর লেখা যায় না, কিন্তু ফাউন্টেইন পেনের কালি শেষ হলে আবার কালি ভরে লেখা যায়, সাকিব আমাদের ফাউন্টেইন পেইন,সবাই থেমে গেলেও সাকিব থেমে যায়না ছেলেটা অদম্য, অফুরন্ত।
সাকিব যে সবার থেকে আলাদা তার প্রমাণ দিয়েছেন বহুবার। ২০০৬ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দিয়ে চলেছেন তার প্রমাণ । সাকিব যে হারার নয়। ২০১২ এশিয়া কাপে ফাইনাল হারার পরে সাকিবের কান্না বলে দেয় সাকিব বাংলাদেশ, ২০১৫ সালে ওয়াহাব রিয়াজের চোখে চোখ রেখে কথা বলা, ২০১৭ নিদহাস ট্রফিতে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে মাঠ ছেড়ে সতীর্থদের উঠে যেতে বলাই প্রমাণ করে এই সাকিব হারবার নয়।
সাকিবের কীর্তিকে লিখে শেষ করার নয়, কেউ কেউ তো তাকে নাম দিয়েছেন রেকর্ড আল হাসান। বাংলার জার্সি গায়ে সাকিব দাপিয়ে বেড়ায় ক্রিকেট বিশ্ব, গড়ে একের পর এক রেকর্ড। রেকর্ড করে সাকিব নিজেকে নিয়েছেন অন্য উচ্চতায়, তার সে রেকর্ড বলে শেষ করার নয়। নিজের নাম যেমন উঠিয়েছেন ক্রিকেট কিংবদন্তিদের কাতারে , তেমনি দেশের পতাকাকে ও চিনিছেন সবার উপরে স্থান । ক্রিকেটের অনেক রেকর্ডই আছে যা এখনো ছুঁতে পারেনি সাকিব ছাড়া অন্য কেউ ।
সাকিব আমাদেরকে তার মহত্ব জানান দেন বারবার,গোটা একটা জেনারেশন তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয় বড় স্বপ্ন দেখবার।যাকে দেখে আমরা শিখেছি আমরাও জিততে পারি, আমরাও ছিনিয়ে আনতে পারি বিজয়, আমরাও হতে পারি বিশ্বসেরা। ব্যাটে আর বলে একটুও ছাড় নয়, এটুকু শিখিয়েছেন যিনি তিনি সাকিব আবার হারার নন।
ছাপোষা টিভিতে আজ সাকিবের পারফরমেন্স দেখে তেজ ফিরে পায় বাংলার সাধারণ মানুষ, ওরা ক্লান্তিহীন। ওদের অপেক্ষা সাকিব বারবার ঘুরে দাঁড়াবে, সাকিব বলবে নীল আকাশ তুমি সরে যাও আমি মাথা তুলে দারাবো, সাকিব বলবে আকাশ তুমি সরে দাঁড়াও আজ শুধু লাল সবুজ উড়বে।
উত্তেজনার দিন ফিকে হয়ে গেছে উপপাদ্যের সহজ নিয়মে , একমাত্র সাকিব ব্যতিক্রম।হাজার রাতের পর পর এখনো সাকিবের নেশায় উজ্জীবিত সারা বাংলাদেশ।
আজ থেকে ৩৪ বছর আগে এই দিনে মাগুরায় বাবা মায়ের কোল আলোকিত করে জন্ম নিয়েছেন সাকিব আল হাসান।সাথে আলোকিত করেছেন সারা বাংলাদেশকে। ৩৫ এ পা দিয়েছেন, এখনো বাংলাদেশকে তার দেওয়ার অনেক কিছু আছে।
৩৫ তম জন্মদিনে নিউজ ক্রিকেটের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। সুন্দর হোক আপনার আগামী, আরো উজ্জ্বল হোক আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিয়ে যান আরো উচ্চতায়।
