নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
বক্সিং ডে টেস্টের স্থায়ীত্ব হলো স্রেফ দুই দিন ও এক ঘণ্টা। প্রথম ইনিংনে মাত্র ২৬৭ রানের পুঁজি নিয়েও অস্ট্রেলিয়া জিতে গেল ইনিংস ও ১৪ রানে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম তিনটিই জিতে তারা নিশ্চিত করল, অ্যাশেজ থাকছে নিজেদের কাছেই।
মেলবোর্নে মঙ্গলবার ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে প্রথম পানি পানের বিরতির একটু পর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় কেবল ৬৮ রানেই।
১১৭ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন রান এটি। সবশেষ ১৯০৪ সালে মেলবোর্নেই তারা গুটিয়ে গিয়েছিল ৬১ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল নায়ক বোল্যান্ড। ৩২ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেকে তোলপাড় ফেলে দেন তিনি রেকর্ড বইয়ে। মাত্র ৪ ওভার বোলিংয়েই ৭ রান দিয়ে তার শিকার ৬ উইকেট।
অভিষেকে এত কম রান দিয়ে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি নেই ক্রিকেট ইতিহাসে আর কারও।
জয়ের পথটা আগের দিনই সুগম করে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড তৃতীয় দিন শুরু করে ৪ উইকেটে ৩১ রান নিয়ে।
দুই দলের সবাই কোভিড পরীক্ষায় উতরে তবেই মাঠে নামতে হয় তৃতীয় দিনে। আগের দিন ইংল্যান্ডের সাপোর্ট স্টাফের দুজন ও পরিবারের দুজন সদস্য কোভিড পজিটিভ হওয়ার পর পিসিআর পরীক্ষা করানো হয় অন্য সবারই। সেটির ফল স্বস্তি বয়ে আনে দুই দলেই।
তবে মাঠের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের স্বস্তি ছিল না। আগের দিন ইংলিশদের ভোগান্তির শুরু যার বোলিংয়ে, সেই মিচেল স্টার্ক নতুন দিনেও ছোবল দেন সবার আগে। দিনের পঞ্চম ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বাঁহাতি ফাস্ট বোলার ফিরিয়ে দেন বেন স্টোকসকে। ১৪৫ কিলোমিটার গতির গোলা সিমে পিচ করে ভেতরে ঢুকে ছত্রখান করে দেয় স্টাম্প।
এরপর সবকিছু যেন বোল্যান্ডময়। ঘরের ছেলের অভিষেকে দর্শকেরা গলা ফাটিয়ে উৎসাহ দিয়ে যান প্রতিটি বলে। উজ্জীবিত বোল্যান্ড প্রতিদান দেন আগুনঝরা বোলিংয়ে। জনি বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে এ দিন তার শিকার ধরার শুরু। পরে ফিরিয়ে দেন মূল বাধা জো রুটকেও।
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৮৫
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২৬৭
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ২৭.৪ ওভারে ৬৮ (আগের দিন ১২ ওভারে ৩১/৪) (রুট ২৮, স্টোকস ১১, বেয়ারস্টো ৫, বাটলার ৫*, উড ০, রবিনসন ০, অ্যান্ডারসন ২; স্টার্ক ১০-৩-২৯-৩, কামিন্স ১০-৪-১৯-০, বোল্যান্ড ৪-১-৭-৬, গ্রিন ৩.৪-০-৭-১)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ১৪ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজের তিনটি শেষে অস্ট্রেলিয়া ৩-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: স্কট বোল্যান্ড।
