নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিভার স্বরুপ তুলে ধরতে পারেননি। সম্ভাবনার সঙ্গে পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন না হওয়ার আক্ষেপ থেকেই গেছে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘রান মেশিন’ হয়েই ধরা দিয়েছিলেন তুষার ইমরান। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেকে ব্যাটারদের রাজার আসনে নিয়ে গেছেন। দেশের পক্ষে লংগার ভার্সনে সবচেয়ে বেশি রান, সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক তিনি। কিন্তু ২০ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারটা শেষ হচ্ছে ‘২৮’ রানের আক্ষেপ নিয়ে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৮২ ম্যাচে ৩২ সেঞ্চুরি, ৬৩ হাফ সেঞ্চুরিতে তুষারের সংগ্রহ ১১ হাজার ৯৭২ রান। ১২ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার সুতীব্র আকাঙ্খা ছিল। কিন্তু তা পূরণ হলো না ইনজুরির কারণে। রবিবার (২১ নভেম্বর) বিকেএসপিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন তুষার। জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনা-ঢাকা বিভাগের ম্যাচের মধ্যাহ্ন ভোজের সময় লংগার ভার্সন ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার।
ইনজুরির কারণে এবার জাতীয় লিগে ৩ রাউন্ডের বেশি খেলতে পারেননি। রবিবারের ম্যাচেও ছিলেন না তিনি। বিকেএসপিতে ক্রিকেটার, কর্মকর্তারাসহ জাতীয় দলের নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক, বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম, কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও ম্যাচ রেফারি দেবব্রত পাল উপস্থিত ছিলেন। ক্রিকেটাররা হাত তুলে গার্ড অব অনার দেন তুষারকে। কোয়াবের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
বর্তমানে ধানমন্ডি ক্রিকেট একাডেমিতে কোচ হিসেবে কাজ করছেন তুষার। সুযোগ পেলে বিসিবিতেও যুক্ত হতে চান। তবে কোচিং পেশাকেই পরবর্তী পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। বিদায় বেলায় তুষার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে বিদায় বললাম। লিস্ট-এ ক্রিকেট চালিয়ে যাবো। ইচ্ছে আছে বিসিবির সঙ্গে কাজ করার। এখনো কোনো প্রস্তাব পাইনি। বিসিবি যদি মনে করে আমি যোগ্য, যেহেতু আমার লম্বা ক্রিকেট ক্যারিয়ার, আমি প্রস্তুত আছি। ইচ্ছে আছে কোচিং পেশাতেও যাওয়ার।’
২০০১ সালে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল তুষারের। ৫ টেস্টে ৮৯ রান, ৪১ ওয়ানডেতে ৫৭৪ রান করেছেন তিনি। ১৪ বছর আগে সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলেছিলেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে রান করলেও জাতীয় দলের দরজা তার জন্য আর খুলেনি।
