গোনাই না ধরা অস্ট্রেলিয়াই চ্যাম্পিয়ন

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

বিশ্বকাপের আগের পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটিতে হার। যার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার তিক্ত স্মৃতিও।

টানা এমন বিবর্ণ ফলের কারণে আসরের শুরুতে কেউই ফেভারিটদের তালিকায় রাখেননি অস্ট্রেলিয়াকে।

কিন্তু মাঠে নামলেই যে ‘ব্যাগি গ্রিন’রা অন্য দানবরূপে ধরা দেন সেটাই দেখা গেল। টুর্নামেন্ট যত এগোল, ততই যেন রূপ চেনাল অস্ট্রেলিয়া।

এবারের টুর্নামেন্টে প্রথম থেকেই উড়ছিল পাকিস্তান, তাদের মাটিতে নামিয়ে ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। আর ফাইনালে প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি কাপ নিল। ৮ উইকেটে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া। ২০১৫-র ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালেও কিউয়িদের দাঁড়াতে না দিয়ে কাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

রোববার টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ড্যারিল মিচেল শেষপর্যন্ত টিকে থেকে নিউজিল্যান্ডকে পৌঁছে দেন ফাইনালে। তবে আজ অবশ্য তিনি বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১১ রানে তাকে ফিরতে হয়। নিউজিল্যান্ডের রান তখন এক উইকেটে ২৮ রান। কেন উইলিয়ামসন ও মার্টিন গাপটিল ইনিংস গোছানোর চেষ্টা করেন। গাপটিল যে কোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বিপজ্জনক ব্যাটার।

গাপটিল শ্লথ খেললেও ইনিংসে গতি আনেন কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন। এই দুইজন তৃতীয় উইকেটে ৪৮ রান যুক্ত করেন। গাপটিল আউট হওয়ার পর উইলিয়ামসন আরও নির্দয় হন। নির্ধারিত ২০ ওভারের শেষে নিউজিল্যান্ড যে ১৭২ রান করেছে তার পুরো কৃতিত্বই কিউই অধিনায়কের। অসি বোলারদের আক্রমণ করেছেন, ইনিংসে মোমেন্টাম এনেছেন। ঠিক যখন মনে হচ্ছে সেঞ্চুরি করতে চলেছেন উইলিয়ামসন, ঠিক তখনই স্মিথের হাতে ধরা পড়েন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। যদিও ২১ রানে তার ক্যাচ ফেলেন হ্যাজলউড। জীবন ফিরে পেয়ে উইলিয়ামসন থামেন ৮৫ রানে। তিনি ও ফিলিপস ৬৮ রান যুক্ত করেন। শেষের দিকে জিমি নিশাম (১৩) ও সেইফার্ট (৮) নিউজিল্যান্ডকে পৌঁছে দেন ১৭২ রানে।

ফাইনালে ১৭২ রান তাড়া করতে নেমে অ্যারন ফিঞ্চ ৫ রান করে শুরুতেই ফিরে যান। এবারের টুর্নামেন্ট ভাল গেল না তার। শুরুতে উইকেট হারালেও অস্ট্রেলিয়াকে দমিয়ে রাখা যায়নি। ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ আক্রমণ শুরু করেন। ওয়ার্নার ও মার্শ ৯২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। যেভাবে দুই অসি ব্যাটসম্যান টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন দলকে, তাতে জয়ের গন্ধ ছড়ানো শুরু হয়েছিল। ম্যাচে ফিরতে হলে উইকেট তুলতে হতো কিউইদের। ট্রেন্ট বোল্ট তুলে নেন বিপজ্জনক ওয়ার্নারকে (৫৩)। তার পরেও অবশ্য অসিদের থামানো যায়নি। কারণ ক্রিজে তখন ছিলেন জমে যাওয়া মার্শ (৭৭*) ও ম্যাক্সওয়েল (২৮*)। তারাই বাকি কাজটা সারেন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »