নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
ক্রিকেট মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন হয় না বেশ কয়েক বছর ধরে। ২২ গজ ছাড়িয়ে ভক্তদের মাঝে যে উত্তাপ তৈরি হয়, সে লড়াই থেকেই বঞ্চিত হয়ে আছে দু’দেশের সমর্থকরা। একটা সময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ছিল দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক কারণে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। যার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। আইসিসি বা এসিসির কোনো টুর্নামেন্ট থাকলেই কেবল কালেভদ্রে মুখোমুখি হয় দুই দল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভক্তদের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের যে বাড়তি উত্তেজনা থাকে তা অন্য কোনো ম্যাচে দেখা যায় না।
যদিও অনেকে বলেন খেলা আর রাজনীতি আলাদা রাখতে। আসলে পাকিস্তানের সাথে সিরিজ আয়োজন সহজ ব্যাপার নয়। ভারত সরকারের সবুজ সঙ্কেত না পেলে বিসিসিআই এই ব্যাপারে এগোতে পারে না। প্রায় নয় বছর আগে ২০১২ সালের শেষ দিকে ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে সেটিই ছিল সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ।
মাঝের সময়টায় আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট কিংবা এশিয়া কাপে বহুবার মুখোমুখি হলেও, তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো সিরিজ হয়নি। দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিকট ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সম্ভাবনা দেখছে না আইসিসিও। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালার্ডাইস এক্ষেত্রে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পারস্পরিক সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গত ২৪ অক্টোবর দুবাইয়ে হওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি দর্শকসংখ্যার পাশাপাশি অনেক রেকর্ড ছুঁয়েছে। তাতে দুই দেশের ভক্তদের মনে হয়তো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আশা একটু হলেও জেগেছে। তবে আইসিসি প্রধান নির্বাহী অ্যালারডাইস বলছেন ভিন্ন কথা, ‘যেকোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দুই বোর্ড রাজি হলেই আয়োজন করা সম্ভব। যদি বিসিসিআই ও পিসিবি রাজি না হয়, তাহলে আইসিসিরও সিরিজ আয়োজনের সাধ্য নেই।’
তবে সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রামিজ রাজা জানিয়েছিলেন তিনি সৌরভ গাঙ্গুলী এবং জয় শাহের সঙ্গে সু সম্পর্ক রেখে এগোতে চান। সৌরভের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। নিকট ভবিষ্যতে ভারত-পাক সিরিজ হওয়ার আশা একেবারেই যে নেই সেটা বলা যাবে না। পট পরিবর্তন হতে বেশি সময় লাগে না।
