শুভ জন্মদিন বিস্ময়কন্যা এলিসা পেরি-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

এলিসা আলেকজান্দ্রা পেরি! অস্ট্রেলিয়ান ক্রীড়া জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। এই অস্ট্রেলিয়ান সুন্দরী পৃথিবীর একমাত্র ক্রীড়াবিদ, যিনি জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট-ফুটবল উভয় ইভেন্টে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন।

১৯৯০ সালের ৩ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের এক ক্রীড়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই বিস্ময়কন্যা। অস্ট্রেলিয়ান এই মহাতারকার আজ ৩১তম জন্মদিন।

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট-ফুটবল দুটোতেই সমান পারদর্শী ছিলেন পেরি। মা-বাবা দু’জনই ছিলেন খেলাধুলার সাথে সংযুক্ত, যার কারণে ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন। কঠোর অধ্যবসায় এবং নিজের সহজাত প্রতিভায় ক্রিকেট-ফুটবল দুটোকে সমান তালে সঙ্গী করে নিজেকে তৈরী করে, পেরি হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য।

২০০৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় এলিসা পেরির। নিজের অভিষেক ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ১৯ রান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার সাপ্তাহখানেক পরের কথা! আরো একবার দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক এলিসা পেরির! হ্যা, এবার পেরির অভিষেক হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে। হংকংয়ের বিপক্ষে অলিম্পিক গেমসের বাছাইপর্বের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে অভিষেক হয় পেরির।নিজের অভিষেক ম্যাচে, খেলা শুরুর মাত্র ২ মিনিটের মাথায় গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তাসমানিয়া সাগরপাড়ের এই বিস্ময়কন্যা।

২০১১ সালে দেশের হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপেও মাঠ মাতিয়েছেন পেরি।সেবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল পেরির অস্ট্রেলিয়া।পেরিদের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের সেই ম্যাচেও দলের একমাত্র গোলটি এসেছিল পেরির পা থেকে।

২০১৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে ইনজুরি নিয়ে খেলেও নিজের বিধ্বংসী বোলিংয়ে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুড়িয়ে দিয়ে দলকে শিরোপা জয়ের স্বাদ এনে দিয়েছিলেন পেরি।

সর্বশেষ নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপে পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এলিসা পেরি।পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাটে-বলে অপ্রতিরোধ্য থেকে দলকে একাই নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালের মঞ্চে। ভাগ্য দেবতা সহায় না হওয়ায়, দুর্ভাগ্যবশত ফাইনালের আগেই চোটের কবলে পড়ে ছিটকে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপ থেকে। সেদিন চোট নিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে পেরির মাঠ ছাড়া ও স্বপ্নভঙ্গের করুণ সেই দৃশ্য কাঁদিয়েছিল পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে। তবে পেরির বিশ্বকাপ স্বপ্নকে ভেঙ্গে যেতে দেয়নি তাঁর সতীর্থরা।সেবারের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছিল অজি মেয়েরা।

কিছুদিন আগে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫ হাজার রান এবং ৩ শত উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। ভারত নারী দলের বিপক্ষে  গোলাপি বলের টেস্টে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অজি পোস্টারগার্ল।

উল্লেখ্য, পেরি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করা পুরুষ বা মহিলাদের ভিতরে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং প্রথম অস্ট্রেলিয়ান মহিলা ক্রিকেট ও ফুটবল এসোসিয়েশন বিশ্বকাপের উভয় পর্যায়ে খেলা বিশ্বের একমাত্র  ক্রীড়াবিদ।

এলিসা পেরি তার পুরো খেলোয়াড়ী জীবন ধরে শুধু এটাই কামনা করে এসেছেন, অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট ও ফুটবল, পুরুষদের মতো সমান জনপ্রিয় হোক। তিনি সবসময় চেয়েছেন পুরুষদের ক্রিকেট-ফুটবলের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে, এবং নারী স্পোর্টসম্যানদের জন্যও সম্মানজনক একটি জায়গা তৈরী করে নিতে।ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীদের এই জগরন চেয়েছেন পেরি, যেন মাধ্যমিক স্কুলের একটা মেয়ে খেলাধুলার যেকোনো ইভেন্টকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে ভয় না পায়।

এই মুহুর্তে খেলোয়াড়ী জীবনের মধ্যগগণে দাঁড়িয়ে এলিসা পেরি।ক্রিকেট-ফুটবল উভয় ইভেন্ট থেকে অর্জন করেছেন অনেক কিছু। তবে যে কাজটি তার জীবনের সেরা কীর্তি, তা হলো একটা প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা। তাই একজন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার, একজন দুর্দান্ত ফুটবলার, একজন লেখিকার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে এলিসা পেরি একজন অনুপ্রেরণার নাম।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »