নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
করোনার এই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্রিকেট মাঠে ফিরলেও হয়নি বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর। ফ্রাঞ্চাইজি লিগ সিপিএল শেষের পর দুবাইয়ে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি টুয়েন্টি লিগ আইপিএল। বিসিবি শ্রীলঙ্কা সফর বাতিলের পর বায়োবাবল সিকিউরিটি মেনে দুইটা টেস্ট প্রস্তুতি ম্যাচ সেরে নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ জমকালো ভাবে শুরু করেছে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ। তবে বাংলাদেশের আর কোথাও অন্য কোন বিভাগীয় বা জেলা স্টেডিয়ামে হচ্ছে না কোন টুর্নামেন্ট বা লিগ। এসব বিভাগের খেলোয়াড়েরা প্রায় অবসরেই সময় কাটাচ্ছেন। তবে এদিক থেকে এগিয়ে গেছে সিলেট বিভাগ। সিলেট ক্রিকেটার এসোসিয়েশন প্রমাণ করে দেখিয়েছে ইচ্ছা থাকলেই আর নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে মাঠে ক্রিকেট ফেরানো সম্ভব। তারা তাদের সিলেটের বিভাগীয় এবং সিলেট জেলার এবং বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে গেল শুক্রবারে সিলেট এক্সপ্রেস ইউকে টি টুয়েন্টি নামে তিন দলের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল আজকে ছিল যার জমকালো ফাইনাল।
প্রথমে টস জিতে সিলেট রেঞ্জার্স অধিনায়ক অলক কাপালি এনামুল হক জুনিয়র এর দল সিলেট এক্সপ্রেসকে ব্যাটিং এর জন্য আমন্ত্রণ জানান। রেঞ্জার্স এর হয়ে ওপেন করতে আসেন রিজভী এবং সোহান। সোহান ক্রিজে এসে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। দলীয় ১৬ রানে রেঞ্জার্স এর অভিজ্ঞ স্পিনার আজাদের বলে সায়েমের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। তারপর আসেন এক্সপ্রেসের রানমেশিন তুষার। রিজভী কে নিয়ে শক্ত ঘাটি গড়ার প্রচেষ্টা শুরু করেন। এমনভাবে ব্যাটিং করা শুরু করেছিলেন মনে হচ্ছিলো ২০০ রানের টার্গেট ছুরে দিবেন। সেটা আর হলো কই। ৭৬ রানের মাথায় সাকিবের বলে সায়েমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২ বলে ৩০ রান করে ফিরেন। তুষার গালিব কে নিয়ে চাপ সামালের জন্য যখন দলীয় ১০০ রানের পথে তখনই সাকিব তুলে নিলেন তার উইকেট ৩০ বলে ৪৪ করে ফিরে যান। তখনই ক্রিজে আসেন ফাইনাল ম্যাচের জয়ের নায়ক ম্যান অফ দা ফাইনাল মেহেদী। মেহেদীকে রেখে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানের মালিক গালিব ১৬ বলে ১৫ রান করে আউট হন। তারপরেই মেহেদী শুরু করেন তার দানবীয় ব্যাটিং ২৭ বলে ৫৫ রান করেন তিনি। তারপর শুরু হয় আসা যাওয়ার খেলা। রেঞ্জার্স বোলার মেননকে দেওয়া শুরু করেন একের পর এক উইকেট। মেনন এক ওভারে হ্যাটট্রিক সহ তুলে নেন ৪ টি উইকেট।
রেঞ্জার্স এর সামনে ১৬২ রানের টার্গেট দাঁড়ায়। টস হেরে ও যে ভালো ক্রিকেট খেললে ম্যাচ জিতা যায় তা করে দেখিয়েছে এনামুল হক জুনিয়র নেতৃত্বাধীন সিলেট এক্সপ্রেস। মাঠে এক্সপ্রেস বোলারদের এতটাই দাপট ছিল যে কাপ্তান অলক কাপালি এবং তরুণ ক্রিকেটার সিয়াম ছাড়া বাকি কেউই দুই অংকের ঘর পার হতে পারেননি। তিন উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ হেরে যায় সিলেট রেঞ্জার্স। তারই সাথে জমকালো ফাইনালের স্বাদ উপভোগ করে সিলেট এক্সপ্রেস। এক্সপ্রেসদের হয়ে ইনাম ৩ টি, কাপ্তান এনামুল হক জুনিয়র ২ টি এবং তাযিম ১ টি উইকেট লাভ করেন। ১৫৮ রান করে টুর্নেমেন্টে সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত গালিব, ভালো ইকোনমির সাথে বোলিং করে ৭ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার অলক কাপালি এবং ম্যান অফ দা ফাইনাল নির্বাচিত হন মেহেদী। পুরুস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সিলেট ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন সেলিম ও অন্যান্য ক্রীড়া সংঘটক।
নিউজক্রিকেট/সাফায়েত ফুয়াদ
