নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
তাসকিন আহমেদ বাংলাদশের প্রথম বোলার হিসাবে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষ্য ছিল শক্তিশালী ভারত। গতি, নিয়ন্ত্রণ, সুইং, কাটার, বাউন্স, আগ্রাসন, সব মিলিয়ে বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভারতকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছিলেন তিনি। অভিষেক ওয়ানডের স্মরণীয় সেই পারফরম্যান্সের জন্য তারকা বণে গেলেন তাসকিন। ২০১৫ বিশ্বকাপেও দ্রুতি ছড়িয়েছিলেন তিনি। বাংলাদশ পেয়েছিল একজন পারফেক্ট ফাস্ট বোলার। যার গতিতে স্বপ্ন দেখা শুরু করে বাংলাদশ।
প্রথম তিন বা সাড়ে তিন বছর স্বপ্নের মতো কাটলো তার। তারপরই যেন ছন্দপতন এই স্পিড স্টার খ্যাত টাইগার পেসারের। একের পর এক বাধার সম্মুখীন হতে থাকেন তিনি। ২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবৈধ বোলিং অ্যাকশন এর কবলো পরেন। সেখান থেকে ফিরে আসলেও আর সরুপে ফিরতে পারেন নি তিনি। ২০১৮ সালে নিদহাস ট্রফিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলার পর দল থেকে বাদ পরেন তাসকিন। তারপর থেকে বাংলাদশের হয়ে খেলা হয়নি তার।
সবকিছু ছাপিয়ে বিপিএল এর ৬ষ্ঠ আসরে নিজেকে মেলে ধরেন তাসকিন আহমেদ। সিলেট সিক্সার্স এর হয়ে ১২ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে নিউজিল্যান্ড সফরে দলের সাথে থাকবেন তাসকিন। ঠিক সেই সময় ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট পান তিনি। স্বপ্নের জার্নিটা হলো না তার।
সেই ইনজুরি থেকে ফিরলেও ২০১৯ বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি তার। কান্নায় ভেঙে পরেন তাসকিন। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজি স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। তারপর থেকে নিজেকে ভেঙে গড়েন তাসকিন। লাস্ট ইয়ারে ঘরোয়া ক্রিকেটে সব জায়গায় অসাধারন পারফর্ম করেছেন তাসকিন আহমেদ।
জাতীয় লীগে (এনসিএল) ছিলেন দূর্দান্ত। ৪ ম্যাচে ১৭.৬৪ গড়ে ১৭ উইকেট নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তাসকিন। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ৮ ম্যাচে ২১.৮১ গড়ে পেয়েছিলেন ১১ উইকেট। বিসিএলে ২ ম্যাচে পেয়েছিলেন ১০ উইকেট। ভারতে অনুষ্ঠিত মিনি রঞ্জী তে বিসিবি একাদশের হয়ে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।
সর্বোশেষ দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও অসাধারন ছিলেন তাসকিন। দুই ম্যাচে পেয়েছিলেন ৬ উইকেট। গতকাল প্রেসিডেন্টস কাপেও বল হাতে আগুন ঝাড়িয়েছেন তিনি। ১০ ওভার বল করে ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে শান্ত একাদশের সেরা বোলার তিনি। অন্ধকারকে ঢেলে আলোর পথে আসতে পারবেন কিনা সেটা হয়তো সময় বলে দিবে। তবে এই মুহুর্তে বল হাতে তাসকিন যেভাবে ছুটছে অনবদ্য গতিতে, এতে করে জাতীয় দলের বন্ধ দরজা আবারো খুলে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার।
নিউজক্রিকেট/ রাসেল
