নিউজ ডেস্ক »
বাংলাদেশের নির্বাচক হিসেবে কম ট্রলের শিকার হতে হয় না হাবিবুল বাশার ও মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে।নির্বাচক হওয়ার পর থেকে প্রশংসার থেকে বেশি সমালোচনাই হয়ত শুনতে হয়েছে।তারা দুজন শুধু বাংলাদেশ জাতীয় ফল না একাধারে বাংলাদেশ এ দল, এইচ পি দল, বয়স ভিত্তিক দলগুলোরও নির্বাচকদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। এতো সমালোচনার মধ্যেও তারা খুঁজে পান স্বস্তির জায়গা। তাদের সেই স্বস্তির জায়গার কথাই জানিয়েছেন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের লাইভ আড্ডায়।
এই লাইভ আড্ডায় বাংলাদেশের এই দুই নির্বাচক প্রকাশ করেছেন তাদের নানান অভিজ্ঞতার কথা, জানিয়েছেন তাদের অনুভূতি। প্রকাশ করেছেন নির্বাচক হিসেবে জীবন তারা কতোটা উপভোগ করছে।নান্নু জানান, খেলোয়াড়ি জীবনের মতো নির্বাচক হিসাবেও সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে এটা তিনি স্বাভাবিকভাবেই নেন। নির্বাচক হিসাবে সৃজনশীল কাজ করে চ্যালেঞ্জ জয়টা তার কাছে সবচেয়ে বড়।
নান্নুর ভাষায়, ‘প্রতিটা ক্ষেত্রেই একটা কঠিন কাজ। অনেক চ্যালেঞ্জিং। সবচেয়ে বড় কথা হলো কিছু সৃজনশীল কাজ করতে হয় তাহলে সাফল্যটা আসে। সমালোচনা তো হবেই। খেলার সময়েও (ক্রিকেট ক্যারিয়ার) চড়াই-উৎরাই থাকে, এখানেও আছে; সবকিছু মিলিয়েই এক কাজটা। তবুও কিছু সৃজনশীল কাজ করে সাফল্য পেলে যথেষ্ট আনন্দ লাগে।’
কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশিক্ষণ থাকায় তার ও বাশারের নির্বাচক হিসাবে কাজটা বেশ সহজ হয়ে গিয়েছে বলে মনে করেন নান্নু।তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে যে আমি লেভেল-৩ কোচ, সুমনও লেভেল-২ শেষ করেছে। সেই দিক থেকে দল (এইচপি) নির্বাচন করার সময়ে আমরা কৌশলগত দিক নিয়ে অনেক আলোচনা করি। আমার মনে হয় আমরা যতটুকু কাজ করেছি ভালোমতোই করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কিছুটা হলেও আমরা ভালো কাজ করতে পেরেছি বলে মনে করি।’
হাবিবুল বাশার সুমন দীর্ঘ সময় ছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, ঐ সময়ে কাছ থেকে দেখেছেন দল নির্বাচন।ওখান থেকে শিখেছেন অনেক কিছু। তার ঐ অভিজ্ঞতা টা এখন নির্বাচক হিসেবে ভালোই কাজে দিচ্ছে।তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চ্যালেঞ্জটাকে উপভোগ করা। আমি এই চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করি। অধিনায়কের সাথে কিন্তু দল নির্বাচনের একটা সম্পর্ক থাকে কারণ এখানে অধিনায়করা সম্পৃক্ত থাকেন। তাই দল নির্বাচনের ব্যাপারটা আমার কিছুটা হলেও জানা ছিল; অভ্যস্ত ছিলাম। অধিনায়ক থাকাকালে আমিও সম্পৃক্ত ছিলাম।’
অধিনায়ক হিসেবে বাশার সফল হলেও নির্বাচক হিসেবে তার রয়েছে নানান সমালোচনা।সফলতা আসলে এসব সমালোচনা হারিয়ে যায় বলে মনে করেন তিনি ।বাশার বলেন ‘ নির্বাচক হিসাবে কাজটা ভিন্ন। আমি আগে থেকেই জানতাম, দেখে এসেছি যে নির্বাচক হিসাবে দল ভালো করলে খুব একটা প্রশংসা পাওয়া যায় না কিন্তু খারাপ করলে ঠিকই আগে নির্বাচকদেরকে খোঁজা হয়। এসব কিছু জেনেই আমি নির্বাচক কমিটিতে যোগ দিয়েছিলাম। তাই আমার কোনো অভিযোগ নেই। চ্যালেঞ্জে যখন কিছুটা হলেও জিততে পারি সেই তৃপ্তিটা বড়। ওই তৃপ্তিটা বাকি সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। কী হয়েছে, কী হচ্ছে কিংবা কী হবে এটা আর খারাপ লাগে না যখন চ্যালেঞ্জটা জিতে যাই।’
নিউজক্রিকেট/সুফিয়ান
