এশিয়া কাপে ভাঙা হাতে ব্যাটিংয়ের গল্প জানালেন তামিম

নিউজ ডেস্ক »

সেপ্টেম্বর মাস ২০১৮, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসেছিলো এশিয়া কাপের আসর। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ- শ্রীলঙ্কা৷ সে ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সুরাঙ্গা লাকমারের শর্ট বল খেলতে গিয়ে হাতে আঘাত পান তামিম ইকবাল। তাড়াহুড়া করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তামিম এরপর হাসপাতাল থেকে ফিরেন এক হাতে প্লাস্টার বেঁধে। ততক্ষণে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তামিম এই এশিয়া কাপ আর খেলছেন না। ধারাভাষ্যকাররা টিভিতে দর্শকদের জানিয়ে দেন ‘তামিম ইজ আউট অব দ্য এশিয়া কাপ’।

সেই ম্যাচে দুইবার ব্যাটিং ধ্বসে পড়ে বাংলাদেশ। এক তামিমের ইঞ্জুরির সময় আরেকটি মিথুন আলি আর মুশফিকুর রহিমের জুটি ভেঙে যাওয়ার পর। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রাখেন তামিম ইকবাল। অন্য প্রান্তে ছিলো আসা যাওয়ার মিছিল। বাংলাদেশের নবম উইকেট পড়ে ২২৯ রানে। হাতে ছিলো আরো ১৯ বল। সবাই হয়তো ভেবেছিলো বাংলাদেশের ইনিংস এখানেই শেষ। কিন্তু না, সবাইকে অবাক করে মাঠে প্যাড,হেলমেট, ছেঁড়া গ্লাভস, আর ব্যাট নিয়ে নেমে পড়েন তামিম ইকবাল। খেলেছিলেন লাকমালের ওভারের শেষ বলটি। কোনোমতে বলটি সাহসের সাথে ঠেকিয়েছিলেন। কিন্তু কে জানতো ওই একটা বল ঠেকানো কত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো তখন। এই এক বলের পর পরের ১৬ বলে মুশফিক করেন ৩২ রান। এক পাফে দলের সংগ্রহ হয়ে যায় ২৬১ রানের। সেদিন ম্যাচটি জিতছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলো মুশফিক।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম লাইভে আসেন মুশফিক আর তামিম। লাইভের এক সময় মুশফিক তামিম থেলে জিজ্ঞস করেন ভাঙা হাতের ব্যাটিংয়ের গল্পটা বলতে। তামিম শোনালেন সেই গল্প।

তামিম বলেন, ‘আমিতো তখন হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। আমার চোখ সব সময় মোবাইলের স্ক্রিনে ছিলো। আমি স্কোর দেখছিলাম। দুয় তিনটা উইকেট খুব তাড়াতাড়ি পড়ে যায়। তোর আর মিথুন আলির জুটির পরে আমি ড্রেসিং রুমে এসে দেখি তুই ব্যাটিংয়ে। আর দলের অবস্থা খুব বেশি ভালোনা। কোনো মতে আগাচ্ছে।’

‘আমি ড্রেসিংরুমে ছিলাম। এক সময় কথার চলে মাশরাফি ভাই বলে উঠেন যা ব্যাটিং কর। শুরুতে আমি মজা হিসেবে নিয়েছিলাম। ফিজিও থীহান মাশরাফি ভাইকে বলছিলো তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? ওর হাতে প্লাস্টার ও কিভাবে ব্যাটিং করবে। এটা নিয়ে কথা বলতে বলতে একসময় দেখি তুই মারা শুরু করছিস৷ রানও বাড়ছে আমাদের। তোর প্রায় সেঞ্চুরির কাছাকাছি। তখন আমাদের মাঝে সিরিয়াসনেস চলে আসলো। আমি বলেছিলাম মুশফিক স্ট্রাইকে থাকলে আমি ব্যাটংয়ে যাবো। কারণ এটা নয়ে দৌড়ানো যাবেনা। এটা ডিসপ্লেসমেন্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ওভারের ৫ নাম্বার বলেই মুস্তাফিজ আউট হয়ে যায়। আমার একটি বল খেলতে হয়। আমার কাছে মনে হয় আমার জীবনের সেরা একটা সহজ বল করেছিল লাকমাল। ও যদি ইয়র্কার দিতো তাহলে সেটা ঠেকানো কঠিন হতো।’

‘দোস্ত আসলে আমরা মাঝে মাঝে আমাদের জীবনে ৫ সেকেন্ডে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয় যা হয়তো আমরা কখনো চিন্তাও করিনা। আমি ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে আমাদের তখনের কোচ স্টিভ রোডস আমাকে তামিয়ে বলে দিস ওয়াস নট আউর প্লেন( এটা আমাদের পরিকল্পনায় ছিলোনা)। তখন আমি বলি আই ক্যান হ্যান্ডেল ইট (আমি এটা সামলাতে পারবো)। তারপর তিনি বলেন তাহলে এটা তোমার উপর ছেড়ে দিলাম। কিছু হলে তোমার দোষ। এভাবেই আরকি মাঠে নেমে ওই একটা বল খেলা।’

ওই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা মাত্র ১২৪ রান ইনিংস গুটিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কার। আর বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে বিশাল ১৩৭ রানের ব্যাবধানে। সেইবার এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সময়ঃ ২:০৫ পিএম

নিউজক্রিকেট/আরআর

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »